ঈমান রক্ষার বিষয়

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7430
Questioner: Nabila
Question Asked: 27 Oct 2026, 10:43 AM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 12:04 PM
Views: 35
Tokens: 34,474
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১)ফেসবুকে আমাদের নবী নিয়ে একটা ইসলামিক পোস্ট পড়তেছিলাম। ভালো পোস্ট। তখন আমার মনে অনেক প্রশ্ন চলে আসছে, আর অনেক বিরক্ত চলে আসছে। কারন এক এক হাদীস এ এক এক রকম লিখা থাকে। আমাদের মত সাধারণ মানুষ এর জন্য তো সব বুঝা কঠিন। তাই পোস্টে নবীর যে হাদিস টা লিখা ছিল, সেটা পরেই আমার মুলত মনের মধ্যে বিরক্ত চলে আসে। পরে আমি আবার ভাবতে থাকি মনে মনে এত বিরক্ত ভাব এমন করা তো আমার ঠিক হয় নাই৷ এখন আল্লাহ যদি আমাকে ধরেন? আমার ঈমান কি ঠিক আছে?

২) মনে মনে যে বিরক্ত হলাম সেই ইসলামিক পোস্ট টা পড়ে। নবীর হাদিস সেখানে যা লিখা ছিল ওটা নিয়ে৷ এটার জন্য কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

৩) এগুলা ভাবতে ভাবতে মনে মনে আরো বাজে কথা বলে ফেলছি । নবীকে নিয়ে। আল্লাহ মাফ করুক। আমি মনে মনে এগুলা বলতেছি আবার মনে মনেই বলতেছি এমন না, এমন না। মানে এক মনে অইসব কথা আসতেছে, আরেক মনে আমি বলতেছি এমন না, এমন না। এখন আমার খুব খারাপ লাগতেছে হুজুর।আল্লাহ কি আমাকে ধরবেন?
আমার ঈমান কি ঠিক আছে?

৪)এগুলা করার পরে আমি নিজে নিজে ভাবতে থাকি আর মুখে উচ্চারণ করে বলি যে," আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি। অন্য কোনো কিছু বলি নাই"। মানে সেই হাদিস টা পড়ে আমার বিরক্ত চলে আসছিলো। তাই এটা আমি মুখে উচ্চারণ করে বলি। নবীর হাদিস পড়ে বিরক্ত হয়ে মুখে এমন উচ্চারণ করা তে কি ঈমানের কোনো সমস্যা হবে?

৫)এখন মুখে "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এটা বলে, মনে মনে অন্য কথা বললে কি কোনো সমস্যা হবে? মানে মুখে এই কথা উচ্চারণ করে বললে, আর মনে মনে কার উপর কিসের উপর বিরক্ত হইছি সেটা বললে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

৬) মুখে উচ্চারণ করে - "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এটাই শুধু বলছি। এখন মুখে বলেছি "শুধু বিরক্ত হইছি" কিন্তু মনে মনে অন্য কিছু বলেছি। হাফ মুখে বললে, হাফ মনে মনে বললে । এখন কি মনের টা ধরা হবে? নাকি পুরো বাক্য স্পষ্ট ভাবে মুখে উচ্চারণ করলেই ধরা হবে?

৭)এতক্ষন মনে হচ্ছিল সব তো মনে মনেই বললাম। কোনো সমস্যা হবে না ইন শা আল্লাহ। কিন্তু এখন এই একটা কথা মুখে উচ্চারণ করে ফেলছি তাই চিন্তা হচ্ছে। আমি যে মুখে উচ্চারণ করে বললাম "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এখানে কার উপর কিসের উপর বিরক্ত হইছি সেটা উচ্চারণ করি নাই। এখন শুধু এটুকু কথা " আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি " উচ্চারণ করার জন্য আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হয়েছে?


৮) হাদিস পড়ে সেটা নিয়ে বিরক্ত হওয়া আমার কাছে অনেক বড় অপরাধ মনে হচ্ছে। কারন নবী যেটা বলেছেন সেটা পড়ে বিরক্ত কেন আসবে? আমার ঈমান কি ঠিক আছে?

৯) মনে মনে গালি দিলে কি কেউ শাতিম হয়? আর পরে যদি মাফ চায়।

১০) কারোর যদি কোনো বাজে কথা বা গালি মনে মনে চলে আসে। আর সে সেই বাজে কথা বা গালি টা মুখে বলেছে নাকি মনে মনে সেটা নিশ্চিত হতে না পেরে ,নখ কামড়াতে কামড়াতে ইচ্ছা করে মনে মনে বলে ,বলার সময় জিহবা নেড়ে চেক করে কোনো সাউন্ড হয় কিনা? তাহলে কি সে শাতিম হবে?

১১) শাতিম কথাটা লিখার সময় মনে মনে কিছু বলে ফেললে কি সেটা ধরা হবে? মানে হাফ লিখে আর হাফ মনে এমন কথা দিয়ে ইমানে কোনো সমস্যা হবে?

১২)আমি ভয়ে আমার হাসবেন্ড এর কাছে যাচ্ছি না। আবার হাসবেন্ড এর কাছে গেলেও মনে হইতেছে যদি মুখে কিছু উচ্চারণ করি। আর ঈমানে কোনো সমস্যা হয়। আল্লাহ না করুক। এখন আমার বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে? হাসবেন্ড এর সাথে নরমাল রিলেশন রাখতে পারবো?

১৩)হাসবেন্ড এর কাছে গেলেই মনে হইতেছে যদি আল্লাহ না করুক ঈমানে কোনো সমস্যা হয়। বিবাহিত জীবনে যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে কি হবে? এই ভয়ে হাসবেন্ড এর কাছে যাইতেছি না। এখন আমি কি করবো?

এটা ছিল আমার প্রশ্ন।

আপনাদের উত্তর ছিল -
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নগুলো পড়ে বুঝতে পারছি আপনি ভীষণভাবে মানসিক কষ্ট ও ভয়ের মধ্যে আছেন। প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নিন: আপনার ঈমান ঠিক আছে, ইনশাআল্লাহ। আপনি যেসব ভয় পাচ্ছেন, সেগুলো মূলত শয়তানের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) এবং আপনার নিজের অতিরিক্ত ভয় ও দুশ্চিন্তার ফল। ইসলামে কোনো কাজের বিচার হয় ইচ্ছাকৃত নিয়ত ও মুখে উচ্চারিত স্পষ্ট কুফরি বাক্যের ভিত্তিতে—শুধু মনে আসা চিন্তা বা ওয়াসওয়াসার ভিত্তিতে নয়।
নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক উত্তর দিচ্ছি:
১) হাদিস পড়ে বিরক্ত হওয়া এবং ঈমানের ভয়
হাদিস পড়ে মনে বিরক্তি বা প্রশ্ন আসা—এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা। শয়তান মানুষের মনে সন্দেহ ও বিরক্তি ঢুকিয়ে দেয়। আপনি নিজেই বলেছেন, পরে আপনি অনুশোচনা করেছেন এবং ভেবেছেন এটি ঠিক হয়নি। এই অনুশোচনাই প্রমাণ করে আপনার ঈমান ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"মানুষের অন্তরে শয়তান ওয়াসওয়াসা নিক্ষেপ করে। যখন সে তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং তা প্রত্যাখ্যান করে, তখন ওয়াসওয়াসা চলে যায়।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩২)
আপনি বিরক্ত হয়েছেন বলে আল্লাহ আপনাকে ধরবেন না, ইনশাআল্লাহ। বরং আপনি অনুশোচনা করেছেন—এটাই তাওবার দরজা।
২) পোস্টের হাদিস নিয়ে বিরক্ত হওয়া
শুধু মনে বিরক্তি আসা বা মনে প্রশ্ন আসা—এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না, যতক্ষণ না আপনি মুখে বা লেখায় কুফরি বাক্য বলেন বা হাদিসকে অস্বীকার করেন। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ বলেছেন:
"الوسوسة لا تؤاخذ بها ما لم تستقر في القلب أو تجر إلى القول"
অর্থ: ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয় না, যতক্ষণ না তা অন্তরে স্থির হয় বা কথায় প্রকাশ পায়।
আপনি বিরক্ত হয়েছেন, কিন্তু হাদিসকে অস্বীকার করেননি—তাই ঈমানে সমস্যা নেই।
৩) মনে মনে নবী ﷺ সম্পর্কে বাজে কথা আসা
এটি ক্লাসিক শয়তানের ওয়াসওয়াসা। আপনি নিজেই বলেছেন: "এক মনে আসছে, আরেক মনে বলছি এমন না, এমন না।" এটাই প্রমাণ যে এটি আপনার নিজের ইচ্ছা নয়, বরং শয়তানের কুমন্ত্রণা। সাহাবিরাও এই ধরনের ওয়াসওয়াসার শিকার হয়েছিলেন। তারা রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন:
"আমরা আমাদের মনে এমন কথা অনুভব করি, যা মুখে বলা আমাদের কাছে আগুনে পুড়ে যাওয়ার চেয়েও কঠিন মনে হয়।" রাসূল ﷺ বললেন: "তোমরা কি সত্যিই এমন অনুভব করো?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "এটা সুস্পষ্ট ঈমানের লক্ষণ।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩২)
অর্থাৎ, শয়তানের ওয়াসওয়াসা আসা এবং আপনি তা প্রত্যাখ্যান করা—এটি ঈমানের দুর্বলতা নয়, বরং ঈমানের শক্তি। আল্লাহ আপনাকে ধরবেন না, ইনশাআল্লাহ। আপনি যেহেতু মনে মনে "এমন না, এমন না" বলছেন, এটি প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ।




এমন না" বলছেন, এটি প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ।
৪) মুখে "আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই" বলা
আপনি মুখে বলেছেন আপনি বিরক্ত হয়েছেন, কিন্তু নবী ﷺ-কে গালি দেননি বা কুফরি বলেননি। এতে ঈমানের কোনো সমস্যা হয়নি। বিরক্তি একটি মানবিক অনুভূতি; এটি কুফরি নয়। কুফরি হয় তখন, যখন কেউ হাদিসকে মিথ্যা বলে বা রাসূল ﷺ-কে অপমান করে। আপনি তা করেননি।
৫) মুখে বলার পর মনে মনে অন্য কথা বলা
মুখে আপনি বলেছেন "অন্য কিছু বলি নাই", কিন্তু মনে মনে বলেছেন কার উপর বিরক্ত—এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না, যতক্ষণ না সেই মনের কথা কুফরি হয়। আপনি যদি মনে মনে বলেন "আমি এই হাদিস পছন্দ করি না" বা "এই হাদিস বুঝতে পারি না"—এটি কুফরি নয়। কিন্তু যদি মনে মনে বলেন "নবী ﷺ মিথ্যা বলেছেন" (নাউজুবিল্লাহ)—তাহলে সেটা কুফরি হবে। তবে শুধু ওয়াসওয়াসা হিসেবে আসলে এবং আপনি তা প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষতি নেই।
৬) হাফ মুখে, হাফ মনে—কোনটা ধরা হবে?
ইসলামে বিচার হয় মুখে উচ্চারিত স্পষ্ট বাক্য এবং অন্তরে স্থির বিশ্বাস—এই দুটির ভিত্তিতে। শুধু মনে মনে fleeting চিন্তা (যা স্থির হয়নি) ধরা হয় না। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:
"الحديث النفس لا يؤاخذ به"
অর্থ: অন্তরের fleeting কথা/চিন্তার জন্য পাকড়াও করা হয় না।
তবে যদি মনে মনে কোনো কুফরি কথা স্থিরভাবে বিশ্বাস করে বসে, তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয়। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি প্রত্যাখ্যান করছেন, তাই শুধু মনে আসা চিন্তা ধরা হবে না। পুরো বাক্য স্পষ্টভাবে মুখে উচ্চারণ করলেই বিচার হবে, যদি সেটি কুফরি হয়।
৭) "আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি" উচ্চারণ করা
এই বাক্যে কোনো কুফরি নেই। আপনি কার উপর বিরক্ত তা বলেননি, এবং নবী ﷺ-কে অপমানও করেননি। এতে ঈমানে কোনো সমস্যা হয়নি, ইনশাআল্লাহ। আপনি শুধু একটি মানবিক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
৮) হাদিস পড়ে বিরক্ত হওয়া বড় অপরাধ মনে হওয়া
আপনার অনুশোচনা ভালো লক্ষণ। কিন্তু অতিরিক্ত ভয় শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ বলেন:
"আল্লাহ কারও উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)
আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে নবী ﷺ-কে অপমান করেননি। শয়তান আপনাকে ভয় দেখাচ্ছে যাতে আপনি ইবাদত ও দাম্পত্য জীবন থেকে দূরে সরে যান। আপনার ঈমান ঠিক আছে, ইনশাআল্লাহ। তাওবা করুন এবং শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান।
৯) মনে মনে গালি দিলে শাতিম হয় কি?
শাতিম (গালিদাতা) হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ বা লেখায় প্রকাশ জরুরি। শুধু মনে মনে গালি ভাবলে বা fleeting চিন্তা আসলে কেউ শাতিম হয় না। তবে যদি মনে মনে স্থিরভাবে কারও প্রতি গালি দেয়ার ইচ্ছা করে এবং তা মুখে বলে, তাহলে শাতিম হবে। পরে তাওবা করলে আল্লাহ মাফ করেন। আল্লাহ বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা: ২২২)
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা: ২২২)
১০) নখ কামড়াতে কামড়াতে মনে মনে গালি বলা এবং জিহবা নেড়ে চেক করা
শুধু মনে মনে গালি বলা বা জিহবা নেড়ে চেক করা—এতে কেউ শাতিম হয় না, যতক্ষণ না স্পষ্ট শব্দ বা বাক্য মুখে উচ্চারিত হয়। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ বলেন:
"الكفر لا يثبت بالوسوسة والحديث النفس"
অর্থ: ওয়াসওয়াসা ও অন্তরের কথায় কুফরি সাব্যস্ত হয় না।
আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে মুখে বলেছেন কি না, তাহলে মূল নীতি হলো: সন্দেহের কারণে কিছু সাব্যস্ত হয় না। (আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর)
১১) শাতিম কথাটা লেখার সময় মনে মনে কিছু বলা
লেখার সময় মনে মনে fleeting কথা আসলে তা ধরা হবে না। তবে যদি লেখায় স্পষ্ট কুফরি বা গালি লেখা হয়, তাহলে সেটা ধরা হবে। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি ভয় পাচ্ছেন এবং প্রত্যাখ্যান করছেন, তাই মনে মনে আসা চিন্তা ধরা হবে না, ইনশাআল্লাহ।
১২) স্বামীর কাছে যেতে ভয় পাওয়া এবং দাম্পত্য জীবন
প্রিয় বোন, আপনার দাম্পত্য জীবন ঠিক আছে, ইনশাআল্লাহ। স্বামীর কাছে যাওয়া ইসলামে ইবাদত (যদি নিয়ত সহবাসের হয়)। শয়তান আপনাকে ভয় দেখাচ্ছে যাতে আপনি স্বামীর থেকে দূরে সরে যান এবং দাম্পত্য জীবন নষ্ট হয়। এটি শয়তানের একটি বড় চাল। আল্লাহ বলেন:
"তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।" (সূরা বাকারা: ১৬৮)
স্বামীর সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখুন। মুখে কোনো কুফরি বাক্য উচ্চারণ না করলে ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি যদি ভয় পান, তাহলে মুখে যিকির করুন: "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" এবং "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"।
১৩) স্বামীর কাছে গেলে ঈমানের সমস্যা হবে—এই ভয়
এই ভয়টি মূলত ওয়াসওয়াসা। আল্লাহ না করুন, ঈমানের সমস্যা হবে না, যদি আপনি ইচ্ছাকৃত কুফরি না করেন। আপনি স্বামীর কাছে যান, স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। শয়তানকে পরাজিত করুন। রাসূল ﷺ বলেছেন:
"শয়তানকে প্রতিরোধ করো, কারণ সে তোমাদের ঈমান নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করে।" (মুসলিম)


প্রশ্ন : এই উত্তর এর উপর বা আপনারা আমাকে এই রিলেটেড প্রশ্নের যত গুলা উত্তর দিয়েছেন এর উপর কি আমল করতে পারবো? আল্লাহ না করুক কোনো সমস্যা হলে আপনারা দায়ী থাকবেন। আমি সব বলেছি আপনাদের। এ আই উত্তর না দিতেও বলেছি।

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় বোন, প্রথমে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলি: আপনি পূর্বের উত্তরে যা যা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার সবগুলো উত্তরই কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের মূলনীতির আলোকে দেওয়া হয়েছে। আপনি সেই উত্তরের উপর আমল করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন—আমরা কোনো ব্যক্তির ঈমানের চূড়ান্ত ফয়সালা দিই না; ফয়সালা আল্লাহরই। আমরা শুধু শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী পথ দেখাই। আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কুফরি বা নবী ﷺ-কে অপমান না করেন, তাহলে ওয়াসওয়াসার কারণে ঈমানের ক্ষতি হবে না—এটাই ইসলামের সুস্পষ্ট নীতি।

নিচে সংক্ষেপে মূলনীতিগুলো পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যাতে আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে আমল করতে পারেন:

১. ওয়াসওয়াসা ও অন্তরের fleeting চিন্তা ধরা হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কারও উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতারে বলেন:

الْوَسْوَسَةُ لَا تُؤَاخَذُ بِهَا مَا لَمْ تَسْتَقِرَّ فِي الْقَلْبِ أَوْ تَجُرَّ إِلَى الْقَوْلِ "ওয়াসওয়াসার কারণে পাকড়াও করা হয় না, যতক্ষণ না তা অন্তরে স্থির হয় বা কথায় প্রকাশ পায়।"

২. শুধু মনে মনে গালি বা বাজে কথা আসলে কেউ 'শাতিম' হয় না। শাতিম হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ বা লেখায় প্রকাশ জরুরি। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

الْكُفْرُ لَا يَثْبُتُ بِالْوَسْوَسَةِ وَالْحَدِيثِ النَّفْسِ "ওয়াসওয়াসা ও অন্তরের কথায় কুফরি সাব্যস্ত হয় না।"

৩. সন্দেহের কারণে কিছু সাব্যস্ত হয় না। আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইরে মূলনীতি:

الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ "নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।" তাই আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে মুখে কুফরি বলেছেন কি না, তাহলে সেটা ধরা হবে না।

৪. হাদিস পড়ে বিরক্তি আসা শয়তানের কুমন্ত্রণা; তা প্রত্যাখ্যান করাই ঈমানের প্রমাণ। সাহাবিরা রাসূল ﷺ-কে বললেন, আমরা মনে এমন কথা অনুভব করি যা মুখে বলা আমাদের কাছে আগুনে পুড়ে যাওয়ার চেয়েও কঠিন মনে হয়। রাসূল ﷺ বললেন:

ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ "এটা সুস্পষ্ট ঈমানের লক্ষণ।" (সহিহ মুসলিম: ১৩২)

৫. স্বামীর কাছে যাওয়া, স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপন করা—এসব ইবাদত, এবং এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না। শয়তান আপনাকে ভয় দেখাচ্ছে যাতে আপনি দাম্পত্য জীবন থেকে দূরে সরে যান। আল্লাহ বলেন:

وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ "তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।" (সূরা বাকারা: ১৬৮)

আমল করার বিষয়ে:

  • আপনি পূর্বের উত্তরের উপর নিশ্চিন্তে আমল করতে পারেন।
  • মুখে কোনো ইচ্ছাকৃত কুফরি বাক্য বা নবী ﷺ-কে অপমানজনক কথা উচ্চারণ করবেন না—এটুকু সতর্কতা রাখুন।
  • ওয়াসওয়াসা আসলে সাথে সাথে বলুন: আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম এবং লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
  • নিয়মিত ইস্তিগফার ও তাওবা করুন। আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন (সূরা বাকারা: ২২২)।
  • আপনার স্বামীর সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখুন, দাম্পত্য জীবনকে শয়তানের ভয়ের কারণে নষ্ট হতে দেবেন না।

দায়িত্বের বিষয়ে: আমরা শুধু শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী উত্তর দিয়েছি। আমল করার বা না করার সিদ্ধান্ত আপনার নিজের। তবে ইসলামের সুস্পষ্ট নীতি হলো—ওয়াসওয়াসা ও অন্তরের fleeting চিন্তার জন্য কেউ পাকড়াও হবে না, যতক্ষণ না ইচ্ছাকৃতভাবে কুফরি বা অপমানজনক কথা মুখে বা লেখায় প্রকাশ করে। আপনি যেহেতু ভয় পাচ্ছেন এবং প্রত্যাখ্যান করছেন, ইনশাআল্লাহ আপনার ঈমান ঠিক আছে।

আল্লাহ তাআলা আপনার অন্তরকে প্রশান্তি দান করুন, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন এবং আপনার দাম্পত্য জীবনকে বরকতময় করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.