স্বামী যদি পাঁচ বছর ধরে কোন খোঁজ খবর না নেয়, দূরে থাকে, সেক্ষেত্রে কি অন্যত্রে বিবাহ বসা যাবে?
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
আমার জন্ম খুবই সাধারণ একটা গ্রামে, আমার বাবার জন্মগতভাবে কিডনির সমস্যা আছে তাই ভারী কাজ করতে পারতেন না। আমার বাবা মা খুবই সহজ সরল আর বোকা প্রকৃতির। ছোটবেলা থেকে আমার ফুপুর পরিবারের সাথে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো,আব্বু তাদের অনেক হেল্প করেছেন,আমাদের বাড়িতে তারা দীর্ঘদিন ছিলেন যেহেতু তার ছেলে আমাদের এলাকার মাদ্রাসায় পড়তো, ফুপু বারবার তার ছেলের সাথে আমার বিয়ের কথা বলতো আমার মা বাবা কে, ছোট থেকে শুনতে শুনতে আমার মনেও এটা গেঁথে গিয়েছিলো যে বড় হয়ে হয়তো ওর সাথে আমার বিয়ে হবে। কিন্তু অ্যাডমিশনে ভালো জায়গায় চান্স পাওয়ার পর তারা ইগনোর করতে থাকে,আমার আব্বু অশিক্ষিত, মুর্খ মানুষ আবার আমার শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হয়, এই অসুস্থতা নিয়েও তারা খোঁটা দিতে থাকে আর বলে যে এরকম জায়গায় বিয়ে দিয়ে তারা তাদের ছেলের জীবন নষ্ট হতে দিবেনা। এই ঘটনা আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলে,তখন আমি ক্লাস এইটে পড়তাম।
এরপর একদিন আমার চাচাতো বোন আমাদের বাটন ফোন থেকে মজার ছলে আমাদের নাম্বারের লাস্ট দুইটা ডিজিট চেন্জ করে মিসড কল পাঠায় একটা নাম্বারে। ওই নাম্বার থেকে বারবার কল আসতো, আমি রং নাম্বার বলে কেটে দিতাম,কিন্তু বারবার ফোন আসতো, একটা সময় আমাদের কথা হতে থাকে, ওই লোকের বাড়ি খুলনা বিভাগে আর আমাদের রাজশাহী।উনি এখানে এন্ট্রি নেয় এই বলে যে তিনি আমার পরিবারের দায়িত্ব নিবেন, তাদের দেখভাল করবেন যেহেতু আমার কোন ভাই নাই। ফুপুদের থেকে ওই অবহেলা আর খোঁটা পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছিলো ইনি আমার পরিবারের বিষয়ে কতো সম্মান করে কথা বলে!!এই কয়েক মাস কথা হওয়াতে আমার মনে হতো যে এটা তো গুনাহ হচ্ছে, তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই আমরা, আমার আম্মু কিছুটা আগে থেকে জানতেন এ বিষয়ে। তখন আমার বয়স ১৪ বছর, আমি কিছুই ভাবিনি যে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া দরকার,আমি যা শুনেছি বিশ্বাস করেছি। এদিকে আমার বাবা মা খুবই বোকা প্রকৃতির মানুষ, তারাও বিশ্বাস করেছেন, শুনতে অবাস্তব মনে হলেও তাদের সাথে চললেই কেউ বুঝতে পারবে যে তারা কত সহজ সরল। আমার বাবা অন্য বিভাগ শুনে একটু রাগ করতেন কিন্তু তিনি আমাকে নিষেধ করেননি। এরপর ২০০৯ সালের প্রথম দিকে আমি আমার নিজের মামার সাথে নাটোর যাই, ওই ছেলেও আসে,আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু ছেলে তার বয়স বিষয়ে যা বলেছিলো তা মিথ্যা ছিলো, সে বলেছিলো সে ভার্সিটিতে পড়ে কিন্তু সে আমার বাবার বয়সের কাছাকাছি, আমি যেহেতু খুব বিশ্বাস করতাম তাকে তাই এটা আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি, এদিকে আমার মামা এটা বুঝতে পারলেও আমাকে নিষেধ করেননি বা আমার বাবা মাকেও জানাননি,পরে বাড়িতে গিয়ে তাদের এ বিষয়ে বলেন।
বিয়ের পর তার পরিবারের কারও সাথে আমাকে কখনো কথা বলায়নি, সবসময় এড়িয়ে যাইতো,আর আমার কোন খরচও দেয়নি, উল্টো পরবর্তীতে আমি আমার মায়ের সাথে শহরে গিয়ে বাসা ভাড়া নিলে কলেজে পড়ার জন্য সে সেখানে এসে আমাদের সাথে মাঝে মাঝে থাকতো, উল্লেখ্য যে আমাদের এলাকার কেউ এ বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানতো না। তার এরকম দায়িত্বহীন আচরণের জন্য আমরা তার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করতাম না,বরং আমার আব্বা আম্মা তাকে একটা ব্যবসা করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে একটা গতি তো করতে হবে। এরপর সে ই একটা দোকানঘর ভাড়া নেয় আমার আব্বার টাকা দিয়ে,তারপর আব্বা তাকে এক লাখ টাকা দেয় দোকানের মাল কিনতে, এরপর সে টাকা নিয়ে গিয়ে ফোন অফ করে দেয়,কোন যোগাযোগ করতে পারিনি,অনেক রাতে ফোন আসে একটা অজানা নাম্বার থেকে যে তার থেকে সব টাকা নাকি নিয়ে গেছে, আমরাও এটা বিশ্বাস করি আর তাকে আশ্বস্ত করি যে সমস্যা নেই, তুমি আসো, তোমার তো আর কোন ক্ষতি হয়নি। এরপর সে আসে, কিন্তু তার কথার মধ্যে অনেক অসংগতি দেখা যায় এবং আশ্চর্যজনক ভাবে সে এবার টাকা খরচ করতে থাকে, তার কাছে দশ হাজার টাকা ছিলো অথচ তার নিজের কোন টাকা ছিলো না তখন, এদিকে আমার আব্বা তার দেওয়া একটা টাকায় একটা চিহ্ন খুঁজে পায় যেটা তাকে যে ব্যবসা করতে টাকা দিছিলো ওই টাকায় ছিলো, এটা সাধারণ কোন দাগ ছিলোনা যেটা সব টাকাতেই থাকে,যেহেতু দাগটা ইউনিক ছিলো তাই আব্বা সিউর ছিলো যে এটা ওই টাকা । একদিন সে বিড়বিড় করে বলতে থাকে আমার ব্যাপারে যে "একবার যদি এখান থেকে নিয়ে যাইতে পারি আর এ মুখ হতে পারবে না" এরকম একটা কথা। এর কিছুদিন পর সে চলে যায়। এরপর হঠাৎ করে আমার শুরু থেকে সব মনে হওয়া শুরু হয়,কিভাবে সে দিনের পর দিন প্রতারণা করেছে আমাদের সাথে, তার কোন সঠিক ঠিকানা আমাদের দেয়নি,কারও সাথে কোন কথা বলায়নি,তার বয়স ছিলো ৪৫ এর কাছাকাছি অথচ সে বলেছিলো ২৫ এর কাছাকাছি, কোন খরচ দেয়নি, আর সর্বশেষ আমার বাবার কষ্টের টাকা নিয়ে এভাবে নাটক সাজানো,আমি আমার পুরো পরিবার বিধ্বস্ত হয়ে যাই এ ঘটনায়,আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই, আর আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে যায়। এরপর সে বারবার ফোন দিতে থাকে আমি আর ধরতাম না কষ্টে , সে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে,আমার আম্মা বলে যে সে টাকা চুরি করেছে এটা আমরা সবাই জেনে গেছি,আমরা ব্যবস্থা নিবো,এরপর সে আর কোন যোগাযোগ করেনি আমাদের সাথে , আমরাও কোন যোগাযোগ করিনি এই ভয়ে যে সে যদি কোন ক্ষতি করে ফেলে আমাদের কারণ আমার কোন ভাই নাই, সাহায্য করার কেউ নাই। এরপর অনেকদিন ট্রমার মধ্যে ছিলাম।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর আমার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় অন্য জায়গায়। বিয়ের এক বছর পর আমরা স্বামী স্ত্রী আল্লাহর পথে ফিরে আসি করোনার মধ্যে। আমরা দুইজন সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাঁর আদেশ নিষেধ মেনে চলার। আমি কোন জব করিনি,আমার স্বামী অনেক কম টাকা বেতনের চাকরি করেন কিন্তু অনেক ভালো অফার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন হারাম নিয়ে সংশয় থাকার জন্য,আমি অনেক ভালো জায়গা থেকে চাকরির অফার পেয়েছি কিন্তু করিনি পর্দার জন্য,কষ্ট করে চলাকেই পছন্দ করেছি। আমার একটা সন্তান আছে, সুরা রহমানের প্রথম অনেক গুলো আয়াত মুখস্ত, সুরা বাকারাহ'র আয়াত মুখস্ত আছে,সে আমার সাথে সলাত পড়ে, এখনই পর্দা করে চলে,তার বয়স সাড়ে তিন। আমরা বাবা মা এরকম পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করি।।
কিন্তু হঠাৎ এ বিষয় টা নিয়ে কিছুদিন আগে আমি জানতে পারি তখন থেকে আমি পাগলপ্রায়। আমি সবসময় কান্না করি। আমার এ সম্পর্ক হালাল তো???
করোনার আগে ইসলাম সম্পর্কে কোন জ্ঞান ই ছিলো না। সলাত,সিয়াম এসব বেসিক ছাড়া তেমন কিছুই জানতাম না। বিয়ে,তালাক নিয়ে কোন জ্ঞান ছিলো না,আবার আমার বাবাও সেরকম ছিলেন না যে এ বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতেন,আর ওই লোক আর কখনো যোগাযোগ করেনি আর আমরাও তার প্রতারণার জন্য যোগাযোগ করিনি, আমরা অনেক ভয় পেয়েছিলাম, আবার তার সঠিক ঠিকানা,পরিবারের তথ্য কিছুই জানতাম না। একেকবার একেকটা ঠিকানা বলতো।
এখন আমার করণীয় কী?? আমার ফুটফুটে সন্তান আছে,সে হাফিজা হতে চায়,শায়েখের মা হতে চায়,এগুলো শুনে আমার বুক ফেটে আসে। আর আমি কি আমার স্বামীকে বলবো এ বিষয়ে? সংসারে একবার বিশ্বাস চলে গেলে আর কি ফিরানো সম্ভব? এদিকে আমার মা,বাবার বয়স হয়েছে,অসুস্থ, অর্থনৈতিক ভাবে ক্যাপাবল না,আমার সংসার ভেঙ্গে গেলে তারা আমাকে সাপোর্ট করতে পারবে না,তাদেরই আমাদের সাপোর্ট দরকার অর্থনৈতিক ভাবে। আবার এসব বিষয়ে আমাকে সাহায্য করার মতোও কেউ নেই।
এসব ভাবনার চেয়েও পরকাল নিয়ে আমি বেশি চিন্তিত, আল্লাহ্ জাহিলিয়্যাত থেকে একবার উদ্ধার করেছেন কিন্তু মৃত্যু কখন আসে জানি না, এ বিষয় থেকে এখনই উদ্ধার পাওয়া জরুরি।।।
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ
প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন
আপনার প্রশ্নের মূল বিষয় হলো: আপনার প্রথম বিবাহ কি বৈধ ছিল? আপনি কি এখন দ্বিতীয় স্বামীর সাথে হালাল সম্পর্কে আছেন? নাকি আপনি এখনো প্রথম স্বামীর স্ত্রী হিসেবে আছেন?
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে কয়েকটি মূল বিষয়ের উপর। আসুন ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করি।
১. আপনার প্রথম বিবাহের বৈধতা
ক. বয়সের বিষয়
আপনি লিখেছেন যে বিবাহের সময় আপনার বয়স ছিল ১৪ বছর। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, বালেগা (প্রাপ্তবয়স্কা) মেয়ের বিবাহ বৈধ, তবে অভিভাবকের অনুমতি শর্ত। আপনার মা-বাবা জানতেন এবং সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং বয়সের দিক থেকে বিবাহটি মূলত বৈধ ছিল।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — প্রতারক ব্যক্তি আপনার বয়স সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি, বরং সে নিজের বয়স সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল (২৫ বলেছিল, প্রকৃতপক্ষে ৪৫ ছিল)। এটি প্রতারণা (গিশ) ছিল, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" — (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১)
কিন্তু প্রতারণা কি বিবাহ বাতিল করে? — না, ফকীহগণের সর্বসম্মত মত হলো, প্রতারণামূলক তথ্য (যেমন বয়স, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান) গোপন করা বিবাহকে বাতিল করে না, যদি না তা এমন কোনো শর্ত হয় যা বিবাহের মূল ভিত্তিকে প্রভাবিত করে। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"নিকাহর শর্তাবলীতে প্রতারণা নিকাহকে বাতিল করে না, বরং প্রতারকের জন্য গুনাহ এবং ক্ষতিপূরণের দায় তৈরি করে।" — (মাজমু'উল ফাতাওয়া, ৩২/১৬৪)
গ. প্রথম স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার বিষয়
আপনি লিখেছেন যে প্রায় পাঁচ বছর তার সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না, সে কোনো খরচ দেয়নি, কোনো দায়িত্ব পালন করেনি, এবং সে আপনার বাবার কষ্টের টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে।
*তালাক কি হয়েছে? প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার ১ম স্বামী কি আপনাকে তালাক দিয়েছিলো? অথবা আপনাদের কি আদালতের মাধ্যমে খোলা তালাক হয়েছিলো?
যদি তালাক না হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে আপনি এখনো আপনার প্রথম স্বামীর স্ত্রী হিসেবে রয়েছেন।
আপনার দ্বিতীয় বিবাহ বৈধ হয়নি।
আপনি যদি দ্বিতীয় স্বামীর সাথে ঘর সংসার করতে চান, সেক্ষেত্রে প্রথম স্বামী হতে তালাক নিতে হবে অথবা আদালতের মাধ্যমে খোলা তালাক নিতে হবে।
এরপর ইদ্দত কাল অতিবাহিত হওয়ার পর আপনি দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বিবাহ বসতে পারবেন। এর আগে নয়।
দীর্ঘ অনুপস্থিতি কি বিবাহ বাতিল করে? না, শুধু দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা যোগাযোগহীনতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহ বাতিল করে না। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"স্বামীর অনুপস্থিতি বা যোগাযোগহীনতা নিকাহ বাতিল করে না, বরং স্ত্রী বিচারকের কাছে গিয়ে ফাসখের আবেদন করতে পারে।" — (আল-মুগনী, ৭/১৪২)
আপনার দ্বিতীয় স্বামীকে জানানো প্রসঙ্গে
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন: "আমি কি আমার স্বামীকে বলবো এ বিষয়ে?"
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই বলবেন
পরকালের চিন্তা ও তাওবা
আপনি লিখেছেন: "আল্লাহ্ জাহিলিয়্যাত থেকে একবার উদ্ধার করেছেন কিন্তু মৃত্যু কখন আসে জানি না, এ বিষয় থেকে এখনই উদ্ধার পাওয়া জরুরি।"
আলহামদুলিল্লাহ, আপনার এই চিন্তা ঈমানের লক্ষণ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর কাছে তাওবা করো — খাঁটি তাওবা।" — (সূরা আত-তাহরীম: ৮)
তাওবার শর্ত:
- অজ্ঞতা ও ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া — আপনি জাহিল ছিলেন, জানতেন না।
- ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় সংকল্প — এখন আপনি জানেন, তাই সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- যদি কারো হক নষ্ট হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়া — প্রথম স্বামীর টাকা যদি সে নিয়ে থাকে, তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন (যদি সম্ভব হয়)।
- হালাল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা — যদি প্রথম বিবাহ বৈধ হয়, তাহলে ফাসখ বা তালাক নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহকে বৈধ করা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"বলো, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" — (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
আপনার মা-বাবার বিষয়ে
আপনি লিখেছেন: "আমার মা, বাবার বয়স হয়েছে, অসুস্থ, অর্থনৈতিক ভাবে ক্যাপাবল না, আমার সংসার ভেঙ্গে গেলে তারা আমাকে সাপোর্ট করতে পারবে না।"
ইসলামী দৃষ্টিকোণ:
- সন্তানের দায়িত্ব — আপনি আপনার মা-বাবার সেবা করবেন, এটি আপনার দ্বীনি দায়িত্ব।
- কিন্তু হালাল-হারামের বিষয়ে আপোষ করা যাবে না — আল্লাহর হুকুম সবার উপরে।
- আল্লাহ তা'আলা বলেন: "আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে আবেদন করো, এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকো।" — (সূরা আন-নিসা: ১)
আল্লাহ তা'আলা রিযিকের ব্যবস্থা করবেন — আপনি যদি আল্লাহর হুকুম পালন করেন, তিনি আপনার ও আপনার পরিবারের রিযিকের দায়িত্ব নেবেন। আল্লাহ বলেন:
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেবেন। এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।" — (সূরা আত-তালাক: ২-৩)