আমার জমিতে ভাই-ভাবির লাগানো সবজি অনুমতি ছাড়া নেওয়া কি হালাল?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6804
Questioner: Sanjida Sakia
Question Asked: 12 Oct 2026, 07:10 PM
Reviewed & Published: 12 Oct 2026, 07:23 PM
Views: 40
Tokens: 3,289
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার ভাইভাবি আমার সম্পত্তি ভোগ করছে। আমাদের তিন ভাইবোনের জমিতে আমার ভাইভাবি চাষ করে, বিভিন্ন সবজি গাছ লাগায়। আমি ওখান থেকে মাঝেমধ্যে তাদেরকে না জানিয়ে সবজি নিয়ে আসলে সেটা কি আমার জন্য হালাল হবে?

Answer

জমিজমা সংক্রান্ত: অনুমতি ছাড়া সবজি নেওয়ার বিধান

উত্তর (সংক্ষেপে): না, ভাই-ভাবিকে না জানিয়ে তাদের লাগানো সবজি নিয়ে আসা আপনার জন্য হালাল হবে না। এটি খেয়ানত ও গাসব (অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ গ্রহণ) হিসেবে গণ্য হবে। হ্যাঁ, যদি জমির মালিকানা ও ফসলের মালিকানা নিয়ে শরীয়তসম্মতভাবে আপনার নির্দিষ্ট অংশ প্রমাণিত হয়, তবে সেই অংশ নেওয়া জায়েয হবে — তবে উত্তম পন্থা হলো আগে জানিয়ে নেওয়া।


বিস্তারিত আলোচনা

১. মূল নীতি: অন্যের সম্পদ অনুমতি ছাড়া নেওয়া হারাম

আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।" (সূরা নিসা: ২৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ

"কোনো মুসলিমের সম্পদ তার অন্তরের সন্তুষ্টি ছাড়া কারও জন্য হালাল নয়।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২০৬৯৫; দারাকুতনী)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন, অন্যের মালিকানাধীন বস্তু বিনা অনুমতিতে গ্রহণ করা গাসবের অন্তর্ভুক্ত, যা কখনো হালাল হয় না। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ৬১)

২. আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:

(ক) জমির মালিকানা: আপনি বলেছেন "আমাদের তিন ভাইবোনের জমি"। যদি জমিটি যৌথ মালিকানায় থাকে এবং শরীয়তসম্মতভাবে বণ্টন না হয়ে থাকে, তবে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। কিন্তু—

(খ) ফসল/সবজির মালিকানা: সবজি ভাই-ভাবি নিজের পরিশ্রম, বীজ, পানি ও পরিচর্যায় উৎপাদন করেছেন। ফিকহের নিয়ম হলো—যে পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করে, ফসলের মালিকানা তারই হয়, যদি না জমির মালিকের সাথে আগে থেকে নির্দিষ্ট চুক্তি (যেমন মুজারাআ বা বর্গা) থাকে।

ইমাম সারাখসি (রহ.) "আল-মাবসূত" গ্রন্থে মুজারাআ অধ্যায়ে উল্লেখ করেন, জমির মালিক ও চাষির মধ্যে ফসল বণ্টনের অনুপাত আগে নির্ধারিত থাকতে হবে; নাহলে ফসল চাষিরই থাকে। (আল-মাবসূত, খণ্ড ২৩, পৃ. ৩৪)

সুতরাং, যদি আপনার সাথে ভাই-ভাবির কোনো পূর্বচুক্তি না থাকে, তবে সেই সবজির মালিকানা তাদেরই। আপনি না জানিয়ে নিলে তা সরাসরি গাসব।

৩. "আমার সম্পত্তি ভোগ করছে" — এই অভিযোগের শরীয়তসম্মত সমাধান

যদি সত্যিই আপনার অংশের জমি তারা অবৈধভাবে ভোগ করে, তবে:

  • আপনি শরীয়তসম্মতভাবে ভাড়া (উজরত) বা ফসলের অংশ দাবি করতে পারেন।
  • কিন্তু নিজে থেকে না জানিয়ে সবজি নিয়ে আসা বৈধ প্রতিবিধান নয়; এটি নিজেই অন্যায়।
  • রাসূল ﷺ বলেন: أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ — "যে তোমাকে আমানত রেখেছে তার আমানত আদায় করো, আর যে তোমার সাথে খিয়ানত করেছে তুমি তার সাথে খিয়ানত করো না।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৩৫; তিরমিজি, হাদিস: ১২৬৪)

অর্থাৎ, তারা অন্যায় করলেও আপনি পাল্টা অন্যায় করতে পারবেন না।

৪. করণীয়

  1. তওবা করুন — যা নিয়েছেন, তা ফেরত দিন বা মূল্য পরিশোধ করুন বা ক্ষমা চেয়ে হালাল করিয়ে নিন।
  2. স্পষ্টভাবে কথা বলুন — জমির হিস্যা, ভাড়া বা ফসলের অংশ নিয়ে লিখিত/সাক্ষীসহ সমঝোতা করুন।
  3. শরীয়তসম্মত চুক্তি করুন — মুজারাআ (ফসলের নির্দিষ্ট অনুপাতে বণ্টন) বা ইজারা (নির্দিষ্ট ভাড়া)।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.