Halal haram

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 6092
Questioner: Risa
Question Asked: 28 Sep 2026, 08:29 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 08:56 PM
Views: 16
Tokens: 2,365
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো জন্মদিনে উইশ করা যাবে কি না?

Answer

কারো জন্মদিনে উইশ করা যাবে কি না?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

প্রচলিত অর্থে জন্মদিন উদযাপন করা বা জন্মদিনের শুভেচ্ছা (Happy Birthday) জানানো ইসলামে জায়েজ নয়। কারণ এটি বিজাতীয় (অমুসলিম) সংস্কৃতির অনুকরণ এবং এতে বিদআত ও তাদের সাথে সাদৃশ্যের বিষয় রয়েছে। তবে যদি কেউ শুধু নিজের সন্তান বা আত্মীয়ের বয়স বাড়ার জন্য সাধারণভাবে দোয়া করে — যেমন "আল্লাহ আপনার عمر জীবনে বরকত দান করুন" — এ ধরনের দোয়ামূলক কথা বলা জায়েজ, তবে তা জন্মদিনের অনুষ্ঠান বা কেক-কাটার সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া শর্তে।


বিস্তারিত আলোচনা

১. জন্মদিন উদযাপনের মূল উৎস

জন্মদিন উদযাপন (Birthday Celebration) মূলত রোমান ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে আগত একটি প্রথা। প্রাচীন রোমে ও পরবর্তীতে ইউরোপে জন্মদিন পালনের রীতি চালু হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামে এই প্রথার কোনো ভিত্তি নেই — না কুরআনে, না হাদিসে, না সাহাবায়ে কেরামের যুগে।

২. হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।" — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১; মুসনাদে আহমাদ)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

"তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী উম্মতদের রীতি-নীতি এক বিঘত এক বিঘত, এক হাত এক হাত অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে, তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।" — (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৫৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৯)

৩. ফুকাহায়ে কেরামের অভিমত

ইমাম ইবনে আবিদিন শামি (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, অমুসলিমদের উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা বা তাদের অনুকরণ করা নাজায়েজ। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৭৫৪)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "ইমদাদুল ফাতাওয়া"য় বলেন — বিজাতীয় উৎসব উদযাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ; এতে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সাদৃশ্য প্রকাশ পায়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৬০)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফাতাওয়া উসমানি"তে স্পষ্ট করেছেন — জন্মদিন উদযাপন করা, কেক কাটা, মোমবাতি নেভানো ইত্যাদি সবই বিদআত ও অমুসলিমদের অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত। (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৪০-৩৪২)

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) "বেহেশতী জেওর"-এ লিখেছেন — অমুসলিমদের উৎসব-অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো বা অংশ নেওয়া কুফরির দিকে নিয়ে যেতে পারে। (বেহেশতী জেওর, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৭৫)

৪. "উইশ করা" — এর বিভিন্ন স্তর

| অবস্থা | হুকুম | |--------|-------| | জন্মদিনের অনুষ্ঠান করা, কেক কাটা, মোমবাতি নেভানো | হারাম/বিদআত | | "Happy Birthday" বলে শুভেচ্ছা জানানো | নাজায়েজ (বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ) | | শুধু "আল্লাহ আপনার عمر জীবনে বরকত দান করুন" বলা (উৎসব ছাড়া) | জায়েজ | | জন্মদিন উপলক্ষে দাওয়াত দেওয়া বা উপহার বিনিময় | নাজায়েজ |

৫. দলিলসহ সিদ্ধান্ত

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন:

"আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করে, তার থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না।" — (সূরা আলে ইমরান: ৮৫)

"তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিয়েছি।" — (সূরা মায়িদা: ৩)

যেহেতু ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, সেহেতু বিজাতীয় কোনো প্রথা দ্বীনের মধ্যে সংযোজন করার সুযোগ নেই।


উপসংহার

প্রচলিত জন্মদিন উদযাপন ও "Happy Birthday" বলে শুভেচ্ছা জানানো ইসলামে জায়েজ নয়। এটি বিদআত এবং অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত — নিজের সন্তান বা আত্মীয়ের জন্য নিয়মিত দোয়া করা, সদকা করা, এবং ইসলামসম্মত পন্থায় তার মঙ্গল কামনা করা। তবে জন্মদিনের অনুষ্ঠান, কেক, মোমবাতি, গিফট বিনিময় ইত্যাদি পরিহার করা অপরিহার্য।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.