অনিচ্ছাকৃত খারাপ ভাবনা কি জিনার গুনাহ?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 6039
Questioner: Risa
Question Asked: 27 Sep 2026, 11:46 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 03:25 AM
Views: 11
Tokens: 2,348
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অনিচ্ছাকৃত কোন কিছু নিয়ে অন্তরে ভাবনা আসলে কি জিনার গুনাহ হবে?

Answer

প্রশ্ন: অনিচ্ছাকৃত কোন কিছু নিয়ে অন্তরে ভাবনা আসলে কি জিনার গুনাহ হবে?

উত্তর:

হাদিসে জিনাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: (১) চোখের জিনা, (২) হাতের জিনা, (৩) পায়ের জিনা, (৪) কানের জিনা, (৫) মুখের জিনা — এগুলো হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জিনা। আর (৬) অন্তরের জিনা — যা হলো কামনা-বাসনা ও কল্পনা। হাদিসে এসেছে, অন্তরের কামনা-বাসনাকে আল্লাহ হয় ক্ষমা করেন, নয় শাস্তি দেন; তবে তা আমলে পরিণত হলে আলাদা বিধান।

দলিল:

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সাঃ) বলেছেন:

«كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكٌ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ»

অর্থ: "আদম সন্তানের উপর জিনার অংশ লিখে দেওয়া হয়েছে, যা সে অবশ্যই পাবে। চোখের জিনা হলো দেখা, কানের জিনা হলো শোনা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো ধরা/আঘাত করা, পায়ের জিনা হলো চলা, আর অন্তর কামনা করে ও আকাঙ্ক্ষা করে; অতঃপর লজ্জাস্থান তা সত্য করে (বাস্তবায়ন করে) অথবা মিথ্যা করে (বাস্তবায়ন করে না)।"

— সহিহ বুখারি, হাদিস ৬২৪৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৫৭

ব্যাখ্যা:

১. অনিচ্ছাকৃত ভাবনা: যদি কোনো খারাপ চিন্তা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে আসে এবং বান্দা তা অপছন্দ করে, সাথে সাথে তা দূর করার চেষ্টা করে — তবে তা জিনার গুনাহ হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে:

«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسُهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَتَكَلَّمْ»

অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না সে তা আমলে পরিণত করে বা মুখে বলে।"

— সহিহ বুখারি, হাদিস ৫২৬৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২৭

২. ইচ্ছাকৃত ভাবনা ও কল্পনা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহের চিন্তা ও কল্পনায় লিপ্ত থাকে, তাতে আনন্দ পায় এবং বারবার তা মনে আনে — তবে তা অন্তরের জিনা, যা গুনাহ। তবে তা লজ্জাস্থানের জিনার সমান নয়; বরং তা ছোট গুনাহ। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, অন্তরের কামনা-বাসনা নিজে নিজে হারাম নয়, বরং তা যখন দৃঢ় সংকল্পে পরিণত হয় তখন গুনাহ হয়।

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৫৪

৩. দৃঢ় সংকল্প (আযিমাহ): যদি কেউ দৃঢ়ভাবে সংকল্প করে যে সুযোগ পেলে সে জিনা করবে, তবে তা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি শুধু কল্পনা করে কিন্তু সংকল্প না করে, তবে তা গুনাহে লিপ্ত নয়, বরং তা দূর করা ওয়াজিব।

— ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪০৫

সারসংক্ষেপ:

  • অনিচ্ছাকৃত ভাবনা আসা → গুনাহ নেই, যদি তা দূর করা হয়।
  • ইচ্ছাকৃত কল্পনা ও কামনা → অন্তরের জিনা, গুনাহ, তবে লজ্জাস্থানের জিনার সমান নয়।
  • দৃঢ় সংকল্প → কবিরা গুনাহ।
  • বাস্তবায়ন → পূর্ণ জিনা, কঠিন শাস্তি।

পরামর্শ: এমন ভাবনা আসলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে, "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়তে হবে, দৃষ্টি সংযত করতে হবে, এবং ভালো কাজে মনোযোগ দিতে হবে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.