ফেসবুকে কালেমা পড়ে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিবাহ করলে বিবাহ হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 584
Questioner: Single Crash
Question Asked: 23 May 2026, 11:40 AM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 12:29 PM
Views: 84
Tokens: 2,549
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি ফেসবুকের মাধ্যমে একটা মেয়ে সাথে আমার সম্পর্ক হয় এবং তাকে আমি কালেমা পড়ে আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি এখন সে কি আমার জন্য হালাল হয়েছে, এটা হচ্ছে আমার প্রথম প্রশ্ন আর দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, তার সাথে আমার দাম্পত্য জীবনে অনেক ঝামেলা, অনেক কিছু সে আমার বুঝে না আমাকে বোঝার চেষ্টা করে না এবং তার ফ্যামিলিতে কেউ জানে না আমাদের এই বিয়ের ব্যাপারটা। শুধু সে আর আমি ছাড়া, অতঃপর মাঝেমধ্যে অনেক রাগ হত অনেকদিন কথা বলতাম না আবার বলতাম একপর্যায়ে অনেক কথা কাটাকাটি রাগারাগি অবস্থায় তাকে আমি তিন তালাক ঘোষণা করি সাথে এটাও বলি আল্লাহর কসম তোকে আমি ছেড়ে দিলাম তালাক তালাক তালাক এগুলো বলে তাকে তালাক দিয়ে দেই এখন কে এটা আমার জন্য তালাক হয়ে গেছে

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله

প্রথমেই প্রশ্নকর্তাকে জানিয়ে দিচ্ছি, ইসলামী শরিয়তে বিবাহ ও তালাকের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সূক্ষ্ম। আপনার প্রশ্ন দুটির উত্তর নিম্নরূপ:

প্রথম প্রশ্নের উত্তর: ফেসবুকে কালেমা পড়ে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিবাহ করা কি হালাল হয়েছে?

ইসলামী শরিয়তে বিবাহের জন্য কয়েকটি শর্ত আবশ্যক:

  1. প্রস্তাব ও কবুল (ইজাব-কবুল): পাত্রপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এবং পাত্রীপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মতি জানানো।
  2. সাক্ষী: অন্তত দুজন মুসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি। (সূরা বাকারা ২:২৮২; বুখারী, হাদীস: ৫১৩০)
  3. মহর নির্ধারণ: বিবাহের সময় মহর (যা পাত্রীকে দেওয়া হয়) নির্ধারণ করা।
  4. অভিভাবকের অনুমতি: হানাফী মতে, নারীর জন্য অভিভাবকের (বাবা, ভাই ইত্যাদি) অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা বৈধ নয়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিবাহও শুদ্ধ হয় যদি শর্তগুলো পূর্ণ হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১১)

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, শুধু ফেসবুকে কালেমা পড়ে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিবাহ করলে সাক্ষী এবং অভিভাবকের অনুমতি না থাকায় এটি শরিয়তসম্মত বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে না। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও তার অনুসারীদের মতে, বিবাহের জন্য সাক্ষী অত্যাবশ্যক। (আল-হিদায়া, ১/১৯৪; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৭১)

অতএব, আপনি যদি ফেসবুকেই বিবাহ পড়িয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে এই বিবাহ শুদ্ধ নয় এবং স্ত্রী আপনার জন্য হালাল হয়নি। যদি আপনি প্রকৃতপক্ষে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চান, তাহলে পুনরায় সাক্ষী ও অভিভাবকের উপস্থিতিতে সঠিকভাবে বিবাহ করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: তিন তালাক দেওয়া কি কার্যকর হয়েছে?

আপনার উক্ত বাক্য: "আল্লাহর কসম তোকে আমি ছেড়ে দিলাম তালাক তালাক তালাক" - এটি স্পষ্টতই তিন তালাক। হানাফী মতে, একসঙ্গে একাধিক তালাক দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয় এবং তিন তালাক হলে স্ত্রীকে তালাকে মুগাল্লাযা (অপূরণীয় তালাক) গণ্য করা হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৩)

তবে, প্রথম প্রশ্নের আলোকে, যদি বিয়েটি শরিয়তসম্মত না হয়, তাহলে তালাকও কার্যকর হবে না। কিন্তু যদি বিয়েটি পরে সাক্ষী ও অভিভাবকসহ বৈধভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে এই তালাক কার্যকর হবে এবং স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার কারণে পুনরায় বিবাহ করতে চাইলে হিল্লা (অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ ও তালাক) আবশ্যক হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

  1. গুনাহ থেকে তওবা: বিবাহ ও তালাকের বিষয়ে শরিয়তের নিয়ম না মানা গুনাহ। তাই আপনাকে উভয় বিষয়ের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
  2. পরিবারকে জানানো: যদি আপনি সত্যিই তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখতে চান, তাহলে তার পরিবারকে জানিয়ে সাক্ষী ও অভিভাবকের উপস্থিতিতে নতুন করে বিবাহ করুন।
  3. রাগ নিয়ন্ত্রণ: ভবিষ্যতে রাগের মাথায় তালাক বা কসম না দিয়ে শান্ত পরিবেশে সমস্যার সমাধান করুন।

উপসংহার: আপনার প্রথম বিবাহ শুদ্ধ নয় এবং তালাকও ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর হবে না, যতক্ষণ না বিয়েটি বৈধভাবে সম্পন্ন হয়। তবে ইসলামী শরিয়তের পূর্ণ অনুসরণ করতে হলে উভয় বিষয়েই সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.