দ্বিতীয় স্বামীর সাথে খালওয়াতে সহীহা হলে প্রথম স্বামীর জন্য কি হালাল হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে মহিলাটি তার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না এবং পুনরায় প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েজ নয়।
কারণ:
ইসলামী শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মহিলাকে যদি তার স্বামী তিন তালাক দেয়, তবে সে মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে যায়। পুনরায় প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো— মহিলাটি অন্য এক ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং সেই দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক (দুভুল) স্থাপন করবে, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দিলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে ইদ্দত শেষে সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে।
এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক না হলেও, যদি খলওয়াতে সহীহা (একান্তে অবস্থান) হয়ে থাকে, তবে হানাফী মতে দ্বিতীয় স্বামীর মাধ্যমে হালালা পূর্ণ হয়। কারণ খলওয়াতে সহীহা শারীরিক সম্পর্কের মতোই বিবাহকে পূর্ণ করে এবং ইদ্দত ও মাহরের বিধান প্রযোজ্য হয়।
তবে, দ্বিতীয় স্বামী যদি একসাথে তিন তালাক দিয়ে ফেলে, তাহলে সেই তালাক কার্যকর হবে এবং মহিলাটি দ্বিতীয় স্বামীর কাছ থেকে ইদ্দত পালন করবে। কিন্তু প্রথম স্বামীর জন্য সে হালাল হবে না— কারণ দ্বিতীয় স্বামীর সাথে পূর্ণ বিবাহ (খলওয়াতে সহীহা বা শারীরিক সম্পর্ক) হওয়ার পরও তাকে যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দেয়, তবে তা প্রথম স্বামীর জন্য পুনর্বিবাহের পথ খুলে দেয় না। বরং এ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো স্বামী প্রয়োজন নেই। তবে এখানে স্মর্তব্য যে, হালালার শর্ত হলো দ্বিতীয় স্বামীর সাথে প্রকৃত শারীরিক সম্পর্ক। খলওয়াতে সহীহা হলেও তা শারীরিক সম্পর্কের সমতুল্য নয়।
হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য মত:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, খলওয়াতে সহীহা থাকলে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে থাকা সম্পূর্ণ বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে, কিন্তু এই অবস্থায় তিন তালাক দেওয়ার পর প্রথম স্বামীর জন্য মহিলা হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। কারণ কুরআনে বলা হয়েছে:
"অতঃপর যদি সে (প্রথম স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে। অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের কারো জন্য অপরকে বিবাহ করার কোনো দোষ নেই..."
(সূরা আল-বাকারা: ২৩০)
তবে হাদীসে এসেছে, "হালালা করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করলেও তা বৈধ নয়"— বরং দ্বিতীয় বিবাহটি সহীহ এবং পূর্ণাঙ্গ হতে হবে।
সুতরাং, প্রশ্নে বর্ণিত মহিলার ক্ষেত্রে:
- দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক না হওয়ায় প্রথম স্বামীর জন্য তিনি হারাম রইলেন।
- যদিও খলওয়াতে সহীহা হয়েছে, তা শারীরিক সম্পর্কের স্থলাভিষিক্ত নয়।
- অতএব, তিনি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবেন না। যদি তিনি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরতে চান, তাহলে তৃতীয় কোনো পুরুষকে বিবাহ করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তালাক পেতে হবে।
মূল হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি:
- রদ্দুল মুহতার: "খলওয়াতে সহীহা শারীরিক সম্পর্কের মতো বিবাহের পূর্ণতা দেয়, তবে তালাকের পর হালালার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক জরুরি।"
- ফাতাওয়া আলমগীরী: "যদি দ্বিতীয় স্বামী সাথে সহবাস না করে তালাক দেয়, তবে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না।"
সারমর্ম:
প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় মহিলাটি প্রথম স্বামীর জন্য হারাম। তিনি ইদ্দত পালন করে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবেন, কিন্তু প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।