ইদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মসজিদে চাল কালেকশন করলে শুধুমাত্র খাওয়ার উদ্দেশ্যে চাল দেওয়া যাবে কি,অথ
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনি ইদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) কে বিদ‘আত মনে করেন, এটি আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাস। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে—যদি ইদে মিলাদুন্নবীর দিনে না হয়ে পরবর্তী যেকোনো দিন শুধুমাত্র খাওয়ার উদ্দেশ্যে (যেমন: খিচুড়ি বিতরণ) চাল সংগ্রহ ও আয়োজন করা হয়, এবং এর সাথে কোনো শরীয়ত-বিরোধী কাজ (যেমন: গান-বাজনা, নাচ, মিলাদ পড়ার নামে কুরআন-হাদিস বিকৃত করা, ইত্যাদি) জড়িত না থাকে, তাহলে তা জায়েজ হবে।
কারণ, খাওয়া-দাওয়া বা খাবার বিতরণ নিজে কোনো বিদ‘আত নয়; বরং এটি একটি সাধারণ মানবিক কাজ। বিদ‘আত তখনই হয় যখন নির্দিষ্ট দিন, মাস বা উপলক্ষ্যকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বানিয়ে সেটিকে সাওয়াবের কাজ মনে করা হয়। কিন্তু এখানে যেহেতু নির্দিষ্ট দিন (১২ই রবিউল আউয়াল) পালন করা হচ্ছে না, বরং সাধারণভাবে খাওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে, তাই এটি বিদ‘আতের আওতায় পড়বে না।
তবে সতর্কতা:
১. মসজিদে খাওয়ার আয়োজন করা মাকরূহ (তাহরীমী) হতে পারে, যদি মসজিদ নাপাক হয় বা সেখানে খাওয়ার কারণে মসজিদের সম্মান হানি হয়। তবে প্রয়োজনে মসজিদের বাইরে বা নির্ধারিত স্থানে করা উত্তম।
২. চাল সংগ্রহ যদি জোরপূর্বক বা লজ্জা দিয়ে আদায় করা হয়, তবে তা জায়েজ নয়। বরং স্বেচ্ছায় দান হিসেবে নেওয়া যাবে।
৩. উদ্দেশ্য যদি শুধু খাওয়া হয়, তবে তা নিছক বৈষয়িক কাজ; এতে সাওয়াবের নিয়ত না করলেই চলবে।
দলিল:
- কুরআনে আল্লাহ বলেন: "এবং তারা খাদ্য দান করে, খাদ্যের প্রতি ভালোবাসা সত্ত্বেও, মিসকীন, এতিম ও বন্দীকে।" (সূরা আদ-দাহর: ৮)
- হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে খাওয়ায়, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৫১)
- ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "খাওয়া-দাওয়া বা দান-সদকা কোনো নির্দিষ্ট দিনের সাথে সম্পর্কিত না হলে তা জায়েজ; বরং বিদ‘আত তখনই হয় যখন নির্দিষ্ট দিনকে ধর্মীয় উৎসব বানিয়ে সাওয়াবের কাজ মনে করা হয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৬:৪০৩)
সারকথা:
আপনি যদি শুধু খাওয়ার উদ্দেশ্যে (যেমন: খিচুড়ি বিতরণ) চাল সংগ্রহ করেন এবং ইদে মিলাদুন্নবীর দিনকে বিশেষ মর্যাদা না দিয়ে সাধারণভাবে আয়োজন করেন, তাহলে তা জায়েজ। তবে মসজিদে আয়োজন না করে বাইরে করা উত্তম, এবং বিদ‘আতের নিয়ত না রাখলেই চলবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।