"ইয়া হাফিজু" পড়ে নিরাপত্তা লাভের বিষয়টি কি সহিহ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
থেকে।।এটা কি সহিহ,যদি সহিহ হয় তাহলে কীভাবে আমল করতে হয়?
Answer
উত্তর:
আপনি যে আমলটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন—"ইয়া হাফিজু" (يَا حَفِيظُ) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম "আল-হাফিজ" (الْحَفِيظُ) দ্বারা আল্লাহকে ডাকা—এটি একটি জায়েয (অনুমোদিত) ও উত্তম আমল। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে: কুরআন ও সহিহ হাদিসে "ইয়া হাফিজু" পড়ার নির্দিষ্ট ফজিলত বা নির্দিষ্ট নিয়ম (যেমন, সকাল-সন্ধ্যায় ৭ বার বা ২১ বার পড়লে নিরাপদ থাকা যাবে) সম্পর্কে কোনো সহিহ বর্ণনা নেই। এটি বুযুর্গানে দ্বীনদের আমল,তাই আবশ্যকীয় বা দ্বীনের অংশ মনে করে উক্ত আমল করা যাবেনা।
আল্লাহ তাআলার নামসমূহ দ্বারা দুআ করা কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, সূরা আ'রাফ (৭:১৮০)-এ আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা তাকে সেই নামগুলোতেই ডাকো।" তাই "ইয়া হাফিজু" বলে দুআ করা জায়েয এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে হিফাজত (নিরাপত্তা) চাওয়া যেতে পারে।
তবে নিরাপত্তার জন্য কুরআন ও হাদিসে যে আমলগুলো বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ওপর আমল করাই সর্বোত্তম। যেমন:
১. সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পড়া: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পড়বে, সে জিন ও মানুষের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। (সহিহ আল-জামি', হাদিস: ৬৪৩৯; হাসান)
২. সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস (৩ কুল) পড়া: হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সন্ধ্যায় এই তিন সূরা পড়ে দুই হাতে ফুঁক দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)
৩. সকাল-সন্ধ্যায় "বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা'ই ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম" পড়া: হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দুআটি ৩ বার পড়বে, তাকে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮৮; তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৮—সহিহ)
"ইয়া হাফিজু" পড়ার নিয়ম: যেহেতু এটি একটি দুআ, তাই আপনি চাইলে সকাল-সন্ধ্যায় "ইয়া হাফিজু, ইহফাজনি" (يَا حَفِيظُ احْفَظْنِي) অর্থাৎ "হে হিফাজতকারী! আমাকে হিফাজত করুন" বলে ৩ বার বা ৭ বার পড়তে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এটি একটি সাধারণ দুআ; এর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সময় কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই এটিকে "সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত বিশেষ আমল" মনে করা যাবে না, বরং এটি একটি জায়েয দুআ হিসেবে করবেন।
মূল কথা: আপনার নিরাপত্তার জন্য কুরআন-হাদিসে বর্ণিত সহিহ আমলগুলো (আয়াতুল কুরসি, ৩ কুল, উপরে উল্লেখিত দুআ) নিয়মিত পড়ুন। পাশাপাশি "ইয়া হাফিজু" বলে দুআ করাও জায়েয, তবে এটিকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বা হাদিস-প্রমাণিত মনে করা ঠিক নয়। আল্লাহ তাআলাই সর্বোত্তম হিফাজতকারী।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।