তালাকে তাফবিজের মাধ্যমে তালাক গ্রহণের পর পুনর্বিবাহ নিয়ে প্রশ্ন।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5129
Questioner: Khondoker Afrin
Question Asked: 08 Sep 2026, 07:33 AM
Reviewed & Published: 08 Sep 2026, 08:50 AM
Views: 66
Tokens: 8,040
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন নারী দীর্ঘ ৭ বছর পুর্বে আমার প্রথম স্বামীর সাথে আমার তালাক হয়। তার ১বছর পর তিনি অন্যত্র বিয়ে করেন এবং আরও ১ বছর পর আমার নতুন বিয়ে হয়। বর্তমান সংসারে আমি আলহামদুলিল্লাহ সুখীও আছি। তৎকালীন আমার তালাকটি তালাকে তাহবিজ এর মাধ্যমে হয়েছিল কেননা আমার প্রাক্তন স্বামী কাবিনের টাকা পরিশোধ করতে রাজি ছিলেন না এবং তাই নিজে তালাক দিয়ে চায়নি বরং আমাকে বলেছিল চাইলে আমি যেন তালাকের কাগজ পাঠাই। আমার পরিবার তখন উকিলের মাধ্যমে তালাকের কাজগ পাঠায় এবং আমি মৌখিক ভাবেও তার থেকে তালাক গ্রহন করি। উল্লেখ আমার কাবিননামায় কিছু শর্তসাপেক্ষে আমাকে তালাকের অধিকার দেওয়া ছিল। আর যেহেতু তিনি দিতে রাজি ছিলেন না তাই আমাদের এই পদ্ধতিতেই তালাক গ্রহন করতে হয় তিনি পরে আর কাবিনের টাকাও পরিশোধ করেননি এবং আমারাও এটা নিয়ে আদায় করতে চাইনি। আর তখন ২ পরিবারে বিরোধ এত বেশি ছিল যে খোলা তালাকের পরিস্থিতি ছিলনা এবং শরীয়তের এত নিয়ম সম্পর্কে অবগতও ছিলাম না। তবে পরবর্তীতে আমি ২ জন মুফতির কাছে আমার তালাকের সকল বর্ননা উপস্থাপন করি এবং ২ জনই বলেছেন শরীয়া মতে আমার তালাক ছহীহ হয়েছে। এখন বর্তমানে আমি বিবাহিত এবং এত বছর আমি চিন্তা মুক্ত ছিলাম কিছু দিন আগে এক হুজুরের ভিডিও দেখে শুনলাম কাবিননামার যে অধিকার তা ইজহাব কবুলের পর সই করলে কার্যকর হয় যদি কাজী আগেই সই নেয় ও পরে ইজহাব কবুল করান তাহলে এই অধিকার কার্যকর হয়না। এখন সেই থেকে আমার মনে ওসওয়াসা আসছে কারন ১০ বছর আগের ঘটনা আমার কাজী কোন কাজটা আগে করছেন তা আমার মনে নেই। তবে বিয়েটা ২ পরিবারের সবার সামনে সকল তথ্য ও সম্মতিতে হয়েছিল। তবে এসব সুক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে আমার আগে জানা ছিলনা, থাকলে তালাকের সময় আরও যাচাই করবার চেষ্টা করতাম। বর্তমানে তিনিও বিবাহিত আর আমিও এবং আামদের কোন যোগাযোগ ও নেই। হঠাৎ আমার মনের এই ওসওয়াসা আমাকে তীব্র মানুষিক যন্ত্রণা দিচ্ছে আমাকে এই অবস্থায় শরীয়া কী রায় দেয় তা জানান। আমি আমার বর্তমান স্বামীর সাথে সুখে সংসার করতে চাই আবার আল্লাহর কাছেও সহীহ থাকতে চাই। হুজুর আমাকে ভালো কোন পরামর্শ দিন যাতে এই ধরনের ওসওয়াসা দুর করতে পারি।

Answer

তালাক নিয়ে ওসওয়াসা

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যে আপনার স্বামী থেকে মৌখিকভাবে তালাক নিয়েছিলেন, এর দ্বারাই তালাক পতিত হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আর উক্ত বিষয় নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ থাকবে।

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার দীর্ঘ বর্ণনা থেকে বুঝতে পারছি যে, আপনি ৭ বছর আগে তালাকে তাফবিজের মাধ্যমে তালাক গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে পুনরায় বিবাহিত হয়ে সুখী সংসার করছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখে আপনার মনে ওসওয়াসা (সন্দেহ) সৃষ্টি হয়েছে যে, আপনার তালাকটি সঠিকভাবে হয়েছিল কিনা।

মূল বিষয়সমূহ:

১. তালাকে তাফবিজ (تفویض) কী?

তালাকে তাফবিজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা। কাবিননামায় শর্তসাপেক্ষে এই অধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তবে তা কার্যকর হয়।

২. তালাকের বৈধতা:

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, পরবর্তীতে ২ জন মুফতি আপনার তালাকের বিবরণ শুনে বলেছেন যে, শরীয়া মতে আপনার তালাক সহীহ হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে, আপনার তালাকটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

৩. ওসওয়াসা (সন্দেহ) সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ" "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে যে খেয়াল আসে তা ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা কথা বলে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)

ফতোয়া:

আপনার তালাক সহীহ হয়েছে এবং আপনার বর্তমান বিবাহ বৈধ।

কারণসমূহ:

  1. আপনার তালাকটি তালাকে তাফবিজের মাধ্যমে হয়েছিল, যা কাবিননামায় শর্তসাপেক্ষে দেওয়া ছিল।
  2. আপনি মৌখিকভাবে তালাক গ্রহণ করেছিলেন এবং উকিলের মাধ্যমে তালাকের কাগজ পাঠানো হয়েছিল।
  3. ২ জন মুফতি আপনার তালাক সহীহ বলেছেন।
  4. তালাকের পর আপনি ইদ্দত পালন করেছেন (১ বছর পর নতুন বিবাহ হয়েছে, যা ইদ্দতের চেয়ে অনেক বেশি সময়)।
  5. বর্তমানে আপনার এবং আপনার প্রাক্তন স্বামীর মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি পুনরায় বিবাহ করেছেন।

ওসওয়াসা দূর করার পরামর্শ:

  1. শয়তানের ওসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন - প্রতিদিন "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন।

  2. ইতিবাচক চিন্তা করুন - আপনার তালাক বৈধ হয়েছে এবং আপনি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পুনরায় বিবাহ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

  3. অতীতের চিন্তা পরিত্যাগ করুন - যা হয়ে গেছে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বর্তমান সংসারে মনোযোগ দিন।

  4. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন - আল্লাহ তায়ালা বলেন: "وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ" "যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা আত-তালাক: ৩)

  5. নিয়মিত নামাজ ও জিকির করুন - এতে অন্তরের প্রশান্তি লাভ হবে।

  6. ওসওয়াসা এলে "আমন্তু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি" পড়ুন - অর্থাৎ "আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছি।"

উপসংহার:

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যে আপনার স্বামী থেকে মৌখিকভাবে তালাক নিয়েছিলেন, এর দ্বারাই তালাক পতিত হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আর উক্ত বিষয় নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ থাকবে।

আপনার ২য় বিবাহ বর্তমান বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ। আপনার মনে কোনো প্রকার ওসওয়াসা বা সন্দেহ পোষণ করার প্রয়োজন নেই। শয়তান মানুষকে অতীতের ঘটনা নিয়ে চিন্তিত করে অন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। আপনি আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং আপনার বর্তমান সংসারে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করুন।

আল্লাহ তায়ালা আপনার অন্তর থেকে এই ওসওয়াসা দূর করে দিন এবং আপনার সংসারে বরকত দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.