ইদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মসজিদে চাল কালেকশন করার হুকুম

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 5107
Questioner: Evana Elius
Question Asked: 07 Sep 2026, 07:35 PM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 08:32 PM
Views: 52
Tokens: 3,139
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মসজিদে চাল কালেকশন করলে শুধুমাত্র খাওয়ার উদ্দেশ্যে চাল দেওয়া যাবে কি,অথবা সে খিচুড়ি খাওয়া যাবে কি?আমি ইদে মিলাদুন্নবি বিদআত মানি

Answer

ইদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মসজিদে চাল কালেকশনখিচুড়ি খাওয়ার বিধান

প্রশ্নের উত্তর

আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, তা দুটি অংশে বিভক্ত:

১. ইদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মসজিদে চাল কালেকশন করা ও তাতে চাল দেওয়া যাবে কি? ২. সেই চালের খিচুড়ি খাওয়া যাবে কি?

মূলনীতি

প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—ইদে মিলাদুন্নবী উদযাপন সম্পর্কে হানাফি ফিকহের অবস্থান। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন নতুন ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রবর্তন করা বিদ'আত। তবে বিদ'আত দুই প্রকার:

১. বিদ'আতে সাইয়্যিআ (গর্হিত বিদ'আত) - যা শরীয়তের কোনো মূলনীতির পরিপন্থী ২. বিদ'আতে হাসানা (উত্তম বিদ'আত) - যা শরীয়তের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়

অধিকাংশ হানাফি ফকীহগণ (বিশেষত দেওবন্দি মাশায়েখ) ইদে মিলাদুন্নবীকে বিদ'আত মনে করেন।

চাল কালেকশন ও খাওয়ার বিধান

প্রশ্নের মূল উত্তর:

আপনি যদি ইদে মিলাদুন্নবীকে বিদ'আত মনে করেন, তাহলে:

১. চাল কালেকশনে অংশ নেওয়া: আপনি যদি মনে করেন এটি বিদ'আতী কাজ, তাহলে সরাসরি এই আয়োজনে চাল দেওয়া বা অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা বিদ'আতী কাজে সহযোগিতা করা জায়েয নয়।

২. *খিচুড়ি খাওয়া: যদি খিচুড়ি খাওয়াকে ইবাদত বা সওয়াবের কাজ মনে করে খাওয়া হয় (যেমন: মিলাদুন্নবীর বরকত হিসেবে), তাহলে তা বিদ'আতী বিশ্বাসে অংশগ্রহণ হবে এবং তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

"যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" (সহিহ বুখারি: ২৬৯৭; সহিহ মুসলিম: ১৭১৮)

হানাফি ফিকহের আলোকে

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) তে উল্লেখ আছে:

"বিদ'আতের কাজে সহযোগিতা করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা অনুচিত।"

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) এ উল্লেখ আছে:

"বিদ'আতী কাজে অংশগ্রহণ করা এবং তাতে সাহায্য করা জায়েয নয়।"

ফাতাওয়া উসমানি তে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) উল্লেখ করেছেন:

"যদি কোনো অনুষ্ঠানকে দ্বীনি ইবাদত মনে করে উদযাপন করা হয় এবং তা শরীয়ত সম্মত পদ্ধতিতে প্রমাণিত না হয়, তাহলে তাতে অংশগ্রহণ করা এবং সহযোগিতা করা জায়েয নয়। তবে যদি কেউ খাবার গ্রহণ করে এবং তা বিদ'আতী বিশ্বাস পোষণ না করে, তাহলে খাবারটি নিজে হারাম নয়, কিন্তু বিদ'আতী কাজকে উৎসাহিত করার আশঙ্কা থাকলে তা পরিহার করাই উত্তম।"

ব্যবহারিক সমাধান

১. চাল কালেকশনে অংশ না নেওয়াই উত্তম — কারণ এটি বিদ'আতী আয়োজনে সহযোগিতা করার শামিল।

২. খিচুড়ি খাওয়ার ক্ষেত্রে:

  • উত্তম হলো, বিদ'আতী আয়োজনের খাবার পরিহার করা, যাতে বিদ'আতের প্রচার না হয়।
  • যদি খাবারটি বিদ'আতী উদ্দেশ্যে বিতরণ করা হয় এবং তাতে অংশগ্রহণ করলে বিদ'আতের সমর্থন হয়, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

  • চাল কালেকশনে অংশ নেওয়া: আপনি যেহেতু ইদে মিলাদুন্নবীকে বিদ'আত মনে করেন, তাই এই আয়োজনে চাল দেওয়া বা কালেকশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • খিচুড়ি খাওয়া: বিদ'আতী আয়োজনকে উৎসাহিত না করার জন্য তা পরিহার করাই উত্তম।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.