বাচ্চাদের চোখ মুখওয়ালা খেলনা দেওয়া জায়েজ কিনা?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 5066
Questioner: Israt jahan Rimi
Question Asked: 06 Sep 2026, 07:36 PM
Reviewed & Published: 06 Sep 2026, 07:47 PM
Views: 10
Tokens: 2,619
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ছোট বাচ্চাদের কি একটু চোখ মুখ ওয়ালা খেলনা যেগুলোর কোনো আকৃতি নেই ঐ গুলো দিয়ে খেলা করতে দেওয়া যাবে।।আর মাছ এর খেলনা ঐ গুলো দিয়ে কি খেলতে দেওয়া যাবে।।আর ঐ খেলনা ঘরে রাখলে কি সমস্যা হবে।।কোনো খেলনাই মানুষ আকৃতির নয় আর হিংস্র পশুর নয় ।।

Answer

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার যে, ইসলামী শরীয়তে মূর্তি বা প্রতিমা তৈরী করা এবং ঘরে রাখা সম্পূর্ণ হারাম ও কবীরা গুনাহ।

প্রশ্নে উল্লেখিত খেলনা গুলি বাচ্চাদের দেয়া কিছু ইসলামী স্কলারদের মতে নাজায়েজ, আর কিছু ইসলামী স্কলারদের মতে শিশু বাচ্চাদের জন্য জায়েজ। , হাদীস শরীফে এসেছেঃ
আবু হুরায়রা রা. বলেন-

استأذن جبريل عليه السلام على النبي صلى الله عليه وسلم فقال : كيف أدخل وفي بيتك ستر فيه تصاوير، فإما أن تقطع رؤوسها أو تجعل بساطا يوطأ، فإنا معشر الملائكة لا تدخل بيتا في تصاوير.

একদিন জিব্রীল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ভিতরে আসুন। জিব্রীল আ. বললেন, কীভাবে আসব, আপনার গৃহে ছবিযুক্ত পর্দা রয়েছে। আপনি হয়তো এই ছবিগুলোর মাথা কেটে ফেলুন কিংবা তা বিছানায় ব্যবহার করুন, যা পদদলিত হবে। কেননা,আমরা ফেরেশতারা ওই গৃহে প্রবেশ করি না যাতে ছবি থাকে।’ (সুনানে নাসায়ী হা. ৫৩৬৫; সহীহ ইবনে হিববান ৫৮৫৩)

হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে,তিনি বলেন,

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ أَوْ خَيْبَرَ وَفِي سَهْوَتِهَا سِتْرٌ فَهَبَّتْ رِيحٌ فَكَشَفَتْ نَاحِيَةَ السِّتْرِ عَنْ بَنَاتٍ لِعَائِشَةَ لُعَبٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟ قَالَتْ: بَنَاتِي، وَرَأَى بَيْنَهُنَّ فَرَسًا لَهُ جَنَاحَانِ مِنْ رِقَاعٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا الَّذِي أَرَى وَسْطَهُنَّ قَالَتْ: فَرَسٌ قَالَ وَمَا هَذَا الَّذِي عَلَيْهِ؟ قَالَتْ: قُلْتُ: جَنَاحَانِ، قَالَ فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ، قَالَتْ أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلًا لَهَا أَجْنِحَةٌ؟ قَالَتْ: فَضَحِكَ حَتَّى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.

রাসূলুল্লাহ সাঃ তাবুক বা খায়বার এর যুদ্ধ থেকে ফিরে ঘরে আসছেন।আয়েশা রাযি এর রুমের সামনে পর্দা টানানো থাকতো।বাতাশ পর্দার একটি অংশকে সরিয়ে ফেললে আয়েশা রাযি এর খেলার সাথী কিছু বালিকাকে রাসূলুল্লাহ সাঃ দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন,হে আয়েশা এরা কারা? তখন আয়েশা রাযি জবাবে বললেন,এরা আমার খেলার সাথী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃ ঐ সমস্ত বালিকাদের মধ্যখানে দুই পাখা বিশিষ্ট কাপরের একটি গোড়া দেখতে পেলেন।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,এটা কী জিনিষ যা আমি তাদের মধ্যখানে দেখলাম।আয়েশা রাযি জবাবে বললেন, এটা (একটা খেলনার)গোড়া। তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ আবার জিজ্ঞেস করলেন,ঐটা কোন জিনিষ?যা এই গোড়ার সাথে লাগানো দেখলাম। আয়েশা রাযি জবাবে বললেন,এটা তার ডানা।রাসূলুল্লাহ সাঃ আবার জিজ্ঞেস করলেন,গোড়ার কি পাখা থাকে?আয়েশা রাযি প্রতিউত্তরে বললেন, আপনি কি শুনেননি যে, হযরত সুলাইমান আঃ এর একটি দুই ডানা বিশিষ্ট গোড়া ছিলো? আয়েশা রাযি বলেন,তৎক্ষণাৎ রাসূলুল্লাহ সাঃ এমনকরে হাসলেন যে,উনার সামনের সাড়ির দাতগুলো দেখা গেলো। সুনানে আবু-দাউদ;৪৯৩২মিরকাত-৩২৬৫

চার মাযহাব সম্ভলিত সর্ববৃহৎ ফেকহী গ্রন্থ আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহতুল কোয়েতিয়্যাহ নামক কিতাবে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।নিম্নে আলোচনার সেই চুম্বকাংশকে তুলে ধরছি-

سَابِعًا: صِنَاعَةُ لُعَبِ الْبَنَاتِ: اسْتَثْنَى أَكْثَرُ الْعُلَمَاءِ مِنْ تَحْرِيمِ التَّصْوِيرِ وَصِنَاعَةِ التَّمَاثِيل صِنَاعَةَ لُعَبِ الْبَنَاتِ. وَهُوَ مَذْهَبُ الْمَالِكِيَّةِ وَالشَّافِعِيَّةِ وَالْحَنَابِلَةِ. وَقَدْ نَقَل الْقَاضِي عِيَاضٌ جَوَازَهُ عَنْ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ، وَتَابَعَهُ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ، فَقَال: يُسْتَثْنَى مِنْ مَنْعِ تَصْوِيرِ مَا لَهُ ظِلٌّ، وَمِنِ اتِّخَاذِهِ لُعَبَ الْبَنَاتِ، لِمَا وَرَدَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ শিশুদের খেলনার পুতুলের বিধান। অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরাম ফটো-ভাস্কর্যের হারাম বিধানের মধ্যে শিশুদের খেলনা পুতুল কে শামিল করেন না।এটা মালিকী, শা'ফেয়ী এবং হাম্ববলী মাযহাবের সিদ্ধান্ত। কাযী ইয়ায রাহ. অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম থেকে এর বৈধতা উদ্ধৃতি দিয়েছেন।এবং ইমাম নববী রাহ.ও উনার অনুসরণ করে বৈধ বলেছেন। তিনি 'আল-মিনহাজ' নামক কিতাবে উল্লেখ করেন, ছায়াযুক্ত ফটো-ভাস্ককর্য উক্ত হারামের আওতাধীন হবে না,কেননা নাবালিকাদের খেলনার পুতুলে রুখসত(শীতিলতা) রয়েছে।

★প্রশ্নে উল্লেখিত খেলনাগুলি যদিও আপনার বাচ্চাদের দেয়া জায়েজ,তবে উলামায়ে কেরামদের মত বিরোধ থাকায় এধরণের খেলনা দেয়া থেকে বিরত থাকাই সতর্কতা।

এ ধরনের খেলনা গুলি ঘরে রাখলে চোখ মুখ ঢেকে রাখবেন বা কোন ব্যাগ বা অন্য কিছুর মধ্যে রেখে দিবেন। যাতে বাহির হতে দেখা যায়না।

কারণ ঘরে মূর্তি বা প্রাণীর ছবি রাখা ফেরেশতাদের আগমন বাধাগ্রস্ত করে।

হাদীসে এসেছে:

"যে ঘরে কুকুর বা মূর্তি থাকে, সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।" (বুখারী ও মুসলিম)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.