শিরকী তাবিজ কোনগুলো? অনেক হুজুর মেয়েদের অসুস্থতার জন্য তাবিজ আর পানি-পড়া দেয়,আর দুআ পড়ে ফু দেয়।
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
শিরকী তাবিজ ও বৈধ তাবিজের পার্থক্য
ভূমিকা
প্রশ্নকারী মূলত জানতে চেয়েছেন—কোন তাবিজ শিরকী এবং কোনটি বৈধ? আর যে তাবিজ ব্যবহারে সুস্থতা পাওয়া যায়, সেটা কি হারাম?
শিরকী তাবিজ কাকে বলে?
যে তাবিজে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম, জিন-ভূতের নাম, অজ্ঞাত শব্দ, ক্রস-চিহ্ন, তারা-চিহ্ন, অথবা এমন কিছু লেখা থাকে যা কুফরী ও শিরকী বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি—তা শিরকী তাবিজ। এছাড়া যে তাবিজে এই বিশ্বাস থাকে যে, তাবিজ নিজেই উপকার-অপকার করে, আল্লাহর ইচ্ছাকে বাদ দিয়ে—সেটাও শিরকী।
বৈধ তাবিজ কাকে বলে?
যে তাবিজে কেবলমাত্র কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা সহীহ দুআ লেখা থাকে এবং ব্যবহারকারী বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত উপকার-অপকার দাতা একমাত্র আল্লাহ—তিনিই তাবিজকে উপকারের মাধ্যম বানিয়েছেন, তা বৈধ।
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.)《রদ্দুল মুহতার》:
"তাবিজে যদি কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা থাকে, তবে তা ব্যবহার করা জায়েয। আর যদি তাতে এমন কিছু থাকে যা কুফরী বা শিরকী, তবে তা হারাম।"
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৪)
পানি-পড়া ও ফু-দেওয়ার বিধান
পানি পড়ে রোগীকে পান করানো বা দুআ পড়ে ফু দেওয়া—এটা ইসলামী শরীয়তে বৈধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও দুআ পড়ে ফু দিয়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামও করেছেন।
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ ব্যক্তির উপর মু'আব্বিযাত (সূরা ফালাক ও নাস) পড়ে ফু দিতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫০১৬)
যে তাবিজে সুস্থতা পাওয়া যায়—তা কি হারাম?
উত্তর: তাবিজে সুস্থতা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা হারাম বা শিরকী। বরং দেখতে হবে—
১. তাবিজে কী লেখা আছে? ২. ব্যবহারকারীর বিশ্বাস কী?
যদি তাবিজে কুরআনের আয়াত বা সহীহ দুআ লেখা থাকে এবং ব্যবহারকারী বিশ্বাস করে যে, উপকার দাতা একমাত্র আল্লাহ—তিনিই এই মাধ্যমকে উপকারের কারণ বানিয়েছেন, তবে তা বৈধ এবং হারাম নয়।
তবে যদি তাবিজে শিরকী বাক্য থাকে বা ব্যবহারকারীর বিশ্বাস হয় যে, তাবিজ নিজেই উপকার করে, তবে তা হারাম ও শিরকী।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আশরাফ আলী থানভী (রহ.)《ইমদাদুল ফাতাওয়া》:
"তাবিজ ব্যবহার করা জায়েয, তবে শর্ত হলো—তা কুরআনের আয়াত বা মাসনূন দুআ দ্বারা হতে হবে এবং আকীদা সহীহ থাকতে হবে।"
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/১৯৫)
ফাতাওয়া উসমানী থেকে
মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)《ফাতাওয়া উসমানী):
"তাবিজের মধ্যে যদি কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা থাকে এবং ব্যবহারকারীর আকীদা সহীহ থাকে যে, প্রকৃত মু'আসসির (প্রভাবক) আল্লাহই, তবে তা জায়েয। আর যদি তাতে শিরকী কালাম থাকে বা আকীদা ফাসাদ হয়, তবে তা নাজায়েয।"
(ফাতাওয়া উসমানী, ২/১৮৫)
সংক্ষিপ্ত উত্তর
যে তাবিজ ব্যবহার করলে সুস্থতা পাওয়া যায়, তা যদি কুরআনের আয়াত বা সহীহ দুআ দ্বারা তৈরি হয় এবং ব্যবহারকারীর বিশ্বাস সহীহ থাকে, তবে তা হারাম নয়, বরং জায়েয। তবে শিরকী তাবিজ (যাতে কুফরী বাক্য থাকে বা যা নিজে উপকার করে বলে বিশ্বাস করা হয়) ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম।
সতর্কতা
১. তাবিজ ব্যবহারের সময় সর্বদা মনে রাখতে হবে—উপকার-অপকার দাতা একমাত্র আল্লাহ। ২. তাবিজকে কখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ উপকারকারী মনে করা যাবে না। ৩. তাবিজের চেয়ে সরাসরি দুআ ও যিকর বেশি উত্তম। ৪. তাবিজ ব্যবহারের পাশাপাশি চিকিৎসাও করানো উচিত, কারণ আল্লাহ তাআলা রোগের প্রতিকারও সৃষ্টি করেছেন।