কাযা রোজার নিয়ত প্রসঙ্গে।
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
আমি কাযা রোজা রাখার নিয়ত করেছিলাম, কিন্তু তা হয়তো বা ঘুমের ঘোরে, সজাগ যখন ছিলাম, তখন ঠিকঠাকভাবে নিয়ত করি নাই, শুধু এই নিয়ত করেছিলাম যে আগামীকাল আমি কাযা রোজা রাখছি, কত নম্বর কাযা রোজা তা মনে মনে বলি নাই।
আমার মোট ৬০ টা কাযা রোজা একটানা রাখতে হবে রমজানের ফরজ রোজা কাযা হওয়ার কারণে। যখন ভোরবেলায় পানি পান করি, তখন মনে হয় ৪.১০ বাজে, আজান দেয় ৪.৩৫ এর আশেপাশে।
কিন্তু একটি ইসলামিক অ্যাপ এ দেখলাম যে আমাদের জেলায় ৪.২০ এ সেহরি, ৪.২১ এ ফজর এর আজান।
আমি পরে এতসব সন্দেহের কারণে মনে মনে ঠিক করি যে আজকের কাযা রোজা আমি রাখবো না। এতে কি কোনো গুনাহ্ হবে বা কাযা রোজার জন্য আলাদাভাবে কাযা রোজা বা কাফফারা দিতে হবে? আমি এখনো রোজা ভাঙ্গি নাই। আজকের প্রথম রোজা ছিল, সন্দেহ নিয়ে কি রোজা রাখবো?
পরেরবার আজান এর কতক্ষণ আগে সেহরি শেষ করবো?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
রমজানের কাজা রোজা, সাধারণ মানত, কাফফারা ও যিহারের কাফফারা রোজার নিয়ত রাতে না করলে রোজা বিশুদ্ধ হবে না।
হাদীস শরীফে এসেছে। উম্মুল মুমিনীন হাফসা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له.
যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোযা রাখার নিয়ত করবে না তার রোযা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।
(সুনানে আবু দাউদ ১/৩৩৩)
★কাজা ও কাফফারার রোযার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগেই করতে হয়,প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি সুবহে সাদিকের আগে চুড়ান্ত ভাবে রোযার নিয়ত করেননি,বরং মনে মনে ঠিক করেন যে আজকের কাযা রোজা আপনি রাখবেন না।
সুতরাং আজকে আপনার কাজা/কাফফারার রোযা আদায় হবেনা।
আজকে আপনি রোযা রাখলে তাহা নফল রোযা বলে গন্য হবে। কাজা বা কাফফারার রোযা হিসেবে গন্য হবেনা।
কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না রাতের কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা (ভোরের আলো) স্পষ্ট হয়ে যায়।" (সূরা বাকারা: ১৮৭)
রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থ) এ উল্লেখ আছে:
"নিয়ত হলো অন্তরের সংকল্প। নির্দিষ্ট রোজা (যেমন: রমজান বা কাযা) চিহ্নিত করা শর্ত, তবে সংখ্যা নির্ধারণ করা শর্ত নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৩৮০)