রাগ,জাদু ও নেশা অবস্থায় তালাক দিয়েছে,এর বিধান কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4638
Questioner: Ayesha
Question Asked: 30 Aug 2026, 03:20 PM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 04:48 PM
Views: 39
Tokens: 16,664
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি কিশোরগঞ্জ থেকে লিখছি।আমার প্রায় ৪ বছরের সংসার ২ বছর বয়সী ১ টা ছেলে বাবু আছে।আমার হাসবেন্ট না জানিয়ে দ্বীতিয় বিবাহ করে ( ২য় স্ত্রীকে অবিবাহিত বলে বিয়ে করেছে)এটা নিয়ে মনোমালিন্য থেকে প্রায় ৬ মাস কথা বলে না।এক পর্যায়ে উনি আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরা নিজেরা মিলে গেলে আর কোনো সমস্যা হবে না। এই প্রস্তাবে উনি আমাকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা যেতে বলেন ৩ জন একসাথে দেখা করার জন্য। কাউকে জানাতে না করাই আমি না জানিয়ে ঢাকা যায়।আমরা হোটেলে একটা রুমে উঠি। সেখানে
উঠার পরপরই ২য় বউ মুবাইলে অন্য কোনো ছেলে কে মেসেজ দিয়েছেন এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথাকাটাকাটি থেকে অনেক মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলে ৩ দফায় এসব চলে।ঘটনার বিকেলের দিকে তারা স্থির হয়। আমার হাসবেন্ট ঘটনার গত রাতে ২য় স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে ৫/৩ ঘুমের ঔষধ খায় এবং ঘটনার দিন সকালেও ২ টা খায়।
উনার অনেক ঘুম ঘুম ভাবছিলো। কিন্তু এর মধ্যেই ছোট বউকে মারধর করে। ছোট বউ ও বলছে উনি সংসার করবেন না চলে যাবেন আত্মহত্যা করবেন এসব।তখন ( বিকেলে যখন তারা স্থির আর স্বাভাবিক)আমি কান্না করছিলাম আর বলছিলাম," হুজুর,আমাকে আপনার ছাড়তে হবে না আমি চলে যা, আমাকে নিয়েই তো আপনাদের সমস্যা আমি আমার মতো থাকি, আপনাদের মাঝখানে কোনো ঝামেলা করবো না, আপনাদের কাউকেই মরতে হবে না" বলা শেষ করতেই উনি বলে উঠলো,"তুরা যাইবিগাই ত যা,তুরা দুইটাই যাইগ্গা, দুইটারেই এখন লিখে দিতেছি,"পরে উনি মুবাইলের মেসেজে
১ তালাক
২ তালাক
৩ তাকাল
শব্দগুলো লিখে আমাকে বলল " এই যে দেখ লিখছি মেসেজ পাঠায়া দিতাছি,তুর হোয়াটসঅ্যাপে ডুকলেই তালাক কার্যকর হয়ে যাইব" ২য় বউকে বলে এই তুর ও লাগবো লিখতাম? ( বলেও পরে আর তারটা লিখেনি) যা তুরার কাউরেই লাগবো না একলা বাচুম সারাদিন মুবাইল টিপুম ঘুমামো।ঘটনার সময় আমি কিছু বুজে উঠছিলাম না আমি আমার সিমটায় ভেঙে ফেলি যেন মেসেজ না ঢুকে আমার কোনো এক্টিভ হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না বাটন ফোন ছিল।
পরে উনি রুমের বাহিরে চলে যায় এই দিন এতটুকু।২য় বউ আমাকো এটা নিয়ে পুনরায় কথা বলতে বাধা দেয় আর উনার মারধর দেখে আমিও ভয় পেয়েছিলাম কিছু আর বলিনি।
ঐ দিন ঢাকা মেডিকেলে উনার মাদরাসার আরেকজন হুজুরকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়,পরে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে,ঐখানে নাকি ঘুমের ঔষধ খাওয়ার জন্য পুলিশ কেইসও দিয়েছিলো। পরের দিন আমি চলে আসবো পরে বলছিলাম আমি একটা বাচ্চা নিয়ে একা একা যাব আমার তো সিম নাই। এটা শুনে উনি অনেক আশ্চর্য হন বলেন কেন তুমার ফোন কি হয়েছে, বললাম ভেঙে ফেলেছি পরে উনি বলে কেন ভাঙছো।অথচ সিম ভাঙার সময় উনি সিম হাত থেকে নেওয়ার জন্য অনেক জুরাজুরি করেছিল।পরে উনার ২য় বউ সব খুলে বলে।শুনে উনি বলল, উনার কিছুই মনে নায়।এরকম কিছু করেছে এর কিছুই মনে নায়।ঐ দিনের আরো ১/ ২ বিষয় উনার মনে নসয়।ঘটনার দিন আমার এক বোনের সাথে ফোনে কথা বলেছিল এটাও উনার মনে নাই।পরে উনি বলল এটা তো শরীয়ার বিষয় আমি জিজ্ঞেস করছি।পরে এক হুজুরকে বলেছি উনি বলল বানান বিষয় না তালাক তো মানুষ ঠান্ডা মাথায় দেয় না এরকমিই হয় এটা হয়ে গেছে তবে এগুলো লিখিত নিতে হয় আশে পাশের কোনো আলেমের কাছে যান।পরে উনি উনার উস্তাদ একজন মুরুব্বি বুজুর্গ আলেম বলছিলেন, উনার সাথে কথা বলান উনি শুনে বলল যেহেতু উনি নেশাগ্রস্ত ছিল আর কিছু মনে নাই,মাতাল, জ্ঞান নাই এমন ব্যাক্তির উপর কোনো হুকুম প্রযোজ্য নয়।পরে আমি কিশোরগঞ্জ চলে আসি।
এখন আমি উনার সামনে সরাসরি ছিলাম অজ্ঞান, মাতাল এরকম পর্যায়ের কিছু ছিলো না,দুপুরের খাবার খাওয়া,ফোনে চার্জে দেওয়া কল দেওয়া রিসিভ করা,২য় বউয়ের সাথে কথা কাটি মারধর সব করছিলো।সকালে উনি যখন আমাকে এয়ারপোর্টে স্টেশনে নিতে এসেছিলো তখন বলেছিলো তুমি যতটুকু ভালোবাসো এর ১০০ ভাগের ১ ভাগও না চামড়ার দেমাগ দেখি চেষ্টা করবো যদি থাকে থাকবে না থাকলে নাই।কিন্তু ২য় বউয়ে সামনে আমাকে গালিগালাজ কাছে ঘেষতেই দিতো না কথাও বলতে চাইতো না।এখন উনার দাবি উনি মারকাযুত দাওয়ায় কথা বলেছেন উনি মাতাল ছিল হুশ ছিলনা নেশাগ্রস্ত ছিল এই অবস্থায় এই তালাক হয়নি।উনি বলেছেন লিখিত এনে দেখাবেন কিন্তু দেখান নি।এটা সত্য বলেছেন কিনা সন্দেহ হয়।আর আমার কথা হচ্ছে আকল বিগ্রে গেছিলো এতো অস্বাভাবিক আমি উনাকে দেখি নি।উনি একজানের কাছে বেশ কিছুদিন পরেও বলছে কথা প্রসঙ্গে বলছে ইচ্চামতো ঐটারে মরাছি।উনি কসম করে বলছেন যে এরকম কিছু বলেছে করেছে উনার একদম কিচ্ছুই মনে নেই।এখন উনার উপর ২য় স্ত্রীর করা কালো জাদুর প্রভাব আছে উনি নিজেই বলেছেন।উনার স্বাভাবিক কিছু সময় হলেও আবার পরিবার আত্নীয় সবার খেয়াল চলে যায়।এখন এই মনে না থাকা যদি কালো জাদুর প্রভাব থেকেও হতে পারে।এখন,প্রশ্ন-- ৩ তালাকে বানান ভুল, বলেছিলেন হোয়াটসঅ্যাপ ডুকলে এই তালাক কার্যকর হবে(মেসেজটা ভুলে অন্য একজন পরিচিত সহকর্মী উস্তাদের নাম্বারে যায়,আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান নি)
বা মনে না থাকা এসব মিলিয়ে তালাক হয়ে গেছে কিনা

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়লাম। আপনার বিবরণ অনুযায়ী ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল এবং দুঃখজনক। আমি হানাফি মাযহাবের আলোকে শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।

তালাক সংক্রান্ত মূল নীতিমালা

১. তালাকের শর্তসমূহ

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ:

  • বুদ্ধি ও জ্ঞান থাকা (আকল): তালাক দানকারীকে অবশ্যই জ্ঞানবান ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। পাগল, অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত (যে পরিমাণে জ্ঞান থাকে না) ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না।
  • ইচ্ছা (ইখতিয়ার): জোরপূর্বক তালাক দিলে হানাফি মাযহাবে তা কার্যকর হয় না (যদিও অন্যান্য মাযহাবে ভিন্ন মত রয়েছে)।
  • সচেতনতা: তালাক দানকারী বুঝে-শুনে তালাক দিতে হবে।

২. নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না যদি নেশা এমন পর্যায়ের হয় যে, সে কী বলছে বা কী করছে তা সে জানে না। তবে যদি নেশা এমন পর্যায়ের না হয় যে তার জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে লোপ পেয়েছে, বরং সে কিছুটা বুঝতে পারছে, তাহলে তার তালাক কার্যকর হবে।

রদ্দুল মুহতার (শামী) গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

"مَنْ زَالَ عَقْلُهُ بِسُكْرٍ أَوْ غَيْرِهِ لَا يَقَعُ طَلَاقُهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ"

"যে ব্যক্তির জ্ঞান নেশা বা অন্য কারণে লোপ পেয়েছে, তার তালাক ইমাম আবু হানিফার মতে কার্যকর হয় না।"

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি ব্যক্তি কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, কথা বলতে পারে, চলাফেরা করতে পারে, খাওয়া-দাওয়া করতে পারে, তবে তার তালাক কার্যকর হবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয়, কারণ সে নিজ ইচ্ছায় নেশা করেছে।

৩. লিখিত তালাক

লিখিত তালাকের ক্ষেত্রে হানাফি ফিকহের নিয়ম হলো:

  • যদি লেখা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন হয় (যেমন: "তালাক" শব্দটি লেখা), তবে তা কার্যকর হবে।
  • যদি লেখা দ্ব্যর্থবোধক হয়, তবে নিয়তের উপর নির্ভর করবে।

আপনার ঘটনার বিশ্লেষণ

আপনার বিবরণ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ:

ক. স্বামীর অবস্থা

আপনি বলেছেন যে, ঘটনার সময় আপনার স্বামী:

  • ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন (৫/৩ টি)
  • অনেক ঘুম ঘুম ভাব ছিল
  • কিন্তু এর মধ্যেই তিনি কথা বলেছেন, মারধর করেছেন, মেসেজ লিখেছেন
  • দুপুরের খাবার খেয়েছেন
  • ফোনে চার্জ দেওয়া, কল দেওয়া-রিসিভ করা করেছেন
  • ২য় স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি ও মারধর করেছেন

এটি প্রমাণ করে যে, তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞান বা জ্ঞানশূন্য ছিলেন না। তিনি বুঝে-শুনে কাজ করছিলেন, কথা বলছিলেন, এমনকি তালাকের মেসেজও লিখেছিলেন এবং বলেছিলেন যে "হোয়াটসঅ্যাপে ডুকলেই তালাক কার্যকর হয়ে যাইব" — এটি তার সচেতনতার প্রমাণ।

খ. তালাকের শব্দ

আপনি বলেছেন যে, তিনি মেসেজে লিখেছিলেন:

  • ১ তালাক
  • ২ তালাক
  • ৩ তালাক

এখানে "তাকাল" (৩ নম্বরে) বানান ভুল হয়েছে — এটি "তালাক"-এরই ভুল বানান, যা স্পষ্টতই তালাকের উদ্দেশ্যেই লেখা হয়েছে। বানান ভুল থাকলেও যদি উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়, তবে তালাক কার্যকর হবে।

গ. মেসেজ না পৌঁছানো

আপনি বলেছেন যে, মেসেজটি আপনার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়নি, বরং অন্য একজনের নাম্বারে চলে গেছে।

এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে পৌঁছানো জরুরি নয়। স্বামী যদি তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করে (মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে), তবে তালাক কার্যকর হয়ে যায়, যদিও স্ত্রী তা না জানে। তবে এখানে প্রশ্ন হলো — তিনি কি আসলেই মেসেজটি পাঠিয়েছিলেন নাকি শুধু লিখেছিলেন?

আপনার বিবরণে আছে: "এই যে দেখ লিখছি মেসেজ পাঠায়া দিতাছি, তুর হোয়াটসঅ্যাপে ডুকলেই তালাক কার্যকর হয়ে যাইব" — অর্থাৎ তিনি মেসেজটি পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং লিখেছেন। যদি তিনি মেসেজটি পাঠিয়ে থাকেন (যদিও তা অন্য নাম্বারে গেছে), তবে তালাক কার্যকর হবে।

ঘ. "তুরা দুইটাই যাইগ্গা" — উভয় স্ত্রীকে তালাক

আপনি বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "তুরা যাইবিগাই ত যা, তুরা দুইটাই যাইগ্গা, দুইটারেই এখন লিখে দিতেছি" — এটি স্পষ্টতই উভয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ। এরপর তিনি মেসেজে ১, ২, ৩ তালাক লিখেছেন।

ঙ. ২য় স্ত্রীর বিষয়ে

আপনি বলেছেন যে, ২য় স্ত্রীকে বলেছিলেন "এই তুর ও লাগবো লিখতাম?" কিন্তু পরে তারটা লেখেননি। অর্থাৎ ২য় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য তিনি লিখিতভাবে কিছু করেননি। তাই ২য় স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ অটুট থাকবে।

হানাফি ফিকহের আলোকে সিদ্ধান্ত

আপনার (১ম স্ত্রী) ক্ষেত্রে:

আপনার স্বামী ঘটনার সময়:

  1. ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন — কিন্তু সম্পূর্ণ অজ্ঞান ছিলেন না
  2. তিনি কথা বলেছেন, চলাফেরা করেছেন, খেয়েছেন, মারধর করেছেন
  3. তিনি সচেতনভাবে তালাকের মেসেজ লিখেছেন
  4. তিনি বলেছেন "হোয়াটসঅ্যাপে ডুকলেই তালাক কার্যকর হয়ে যাইব" — এটি তার সচেতনতার প্রমাণ

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, কথা বলতে পারে, কাজ করতে পারে, তার তালাক কার্যকর হবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয়। এমনকি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে-ও যদি নেশা এমন পর্যায়ের না হয় যে সম্পূর্ণ জ্ঞান লোপ পেয়েছে, তবে তালাক কার্যকর হবে।

আপনার বিবরণ থেকে স্পষ্ট যে, আপনার স্বামী সম্পূর্ণ জ্ঞানশূন্য ছিলেন না। তিনি সচেতনভাবে কাজ করছিলেন। তাই আপনার উপর ৩ তালাক পতিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিসঙ্গত।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  1. বানান ভুল: "তাকাল" শব্দটি "তালাক"-এরই ভুল বানান — উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকায় তালাক কার্যকর হবে।
  2. মেসেজ অন্য নাম্বারে যাওয়া: তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে পৌঁছানো শর্ত নয়। স্বামীর তালাকের ইচ্ছা প্রকাশই যথেষ্ট।
  3. মনে না থাকা: "মনে নেই" বলা তালাক কার্যকর হওয়া থেকে বিরত রাখে না, যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি সচেতন ছিলেন।

পরামর্শ

আপনার উপর ৩ তালাক পতিত হয়েছে — এটি আমাদের বিশ্লেষণ।

এক্ষেত্রে আপনার সাথে তার বিবাহ সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। পুনরায় বিবাহ সম্ভব নয় যতক্ষণ না আপনি অন্য কাউকে বিবাহ করেন এবং সেই বিবাহে সহবাসের পর তালাক/মৃত্যুর মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটে।

তবে বিস্তারিত জানার জন্য আপনি কোনো দারুল ইফতায় যান এবং সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলুন।

২য় স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ অটুট থাকবে, কারণ তাকে তালাক দেওয়ার কোনো লিখিত প্রমাণ নেই।

কালো জাদুর প্রভাব — ইসলামে কালো জাদুর অস্তিত্ব স্বীকৃত, তবে তালাকের বিধান নির্ধারণে এটি বড় ভূমিকা রাখে না যদি ব্যক্তি সচেতন থাকে। আপনার স্বামী যদি মনে করেন তার উপর জাদু হয়েছে, তবে তিনি রুকইয়াহ (দুআ দ্বারা চিকিৎসা) করাতে পারেন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.