হায়েয অবস্থায় আযানের উত্তর দেওয়া যাবে কী

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 4644
Questioner: Afia Jannat
Question Asked: 30 Aug 2026, 05:39 PM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 07:07 PM
Views: 44
Tokens: 1,570
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েয অবস্থায় আযানের উত্তর দেওয়া যাবে কী

Answer

হায়েয অবস্থায় আযানের উত্তর দেওয়া যাবে কী?

উত্তর: হ্যাঁ, হায়েয (মাসিক) অবস্থায় নারীর জন্য আযানের উত্তর দেওয়া জায়েয আছে। এটি কোনো সমস্যার বিষয় নয়। আযানের উত্তর দেওয়া একটি যিকর বা দো‘আ, যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সুনামের সাথে করা উচিত। হায়েয অবস্থায় যিকর, দো‘আ, তাসবীহ ইত্যাদি করা জায়েয আছে। তবে কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ, কিন্তু আযানের উত্তর দেওয়া যিকরের অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি করা যাবে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. হায়েয অবস্থায় যিকরের বৈধতা: হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীগণ হায়েয অবস্থায় যিকর ও দো‘আ করতেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে আয়েশা (রা.) বলেন, "আমি হায়েয অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাথা ধুয়ে দিতাম এবং তিনি আমার কোলে ভর দিয়ে ই‘তিকাফ করতেন।" (সহীহ বুখারী: ২৯৬, সহীহ মুসলিম: ২৯৭)

২. আযানের উত্তর দেওয়া যিকর: আযানের উত্তর দেওয়া একটি যিকর। হায়েয অবস্থায় যিকর করা জায়েয আছে। তাই আযানের উত্তর দেওয়াও জায়েয।

৩. ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)-এর বক্তব্য: রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, হায়েয অবস্থায় যিকর, দো‘আ, তাসবীহ, দরূদ ইত্যাদি পাঠ করা জায়েয। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩)

৪. ফাতাওয়া হিন্দিয়া: এতে উল্লেখ আছে, হায়েয অবস্থায় যিকর করা এবং দো‘আ করা জায়েয। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)

৫. মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.)-এর বক্তব্য: তিনি বলেন, হায়েয অবস্থায় যিকর, দো‘আ, দরূদ পাঠ করা জায়েয। তবে কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ। (মা‘আরিফুল কুরআন)

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • হায়েয অবস্থায় আযানের উত্তর দেওয়া যাবে, তবে কুরআনের আয়াত সম্বলিত অংশ (যেমন: "হাইয়া আলাস সালাহ", "হাইয়া আলাল ফালাহ") বলার সময় নিয়ত করতে হবে যে, এটি যিকর হিসেবে বলছি, তিলাওয়াত হিসেবে নয়।
  • আযানের উত্তর দেওয়ার সময় "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলার সময়ও যিকরের নিয়ত করতে হবে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

হায়েয অবস্থায় আযানের উত্তর দেওয়া জায়েয এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। এটি যিকরের অন্তর্ভুক্ত, যা হায়েয অবস্থায় করা বৈধ।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.