তালাকের নিয়ত না থাকলে ঝগড়ার সময় বলা "তুমি মুক্ত", "তোমার প্রয়োজন নেই" ইত্যাদি কথায় তালাক পতিত হয় কি না?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4627
Questioner: Lucky Akter
Question Asked: 30 Aug 2026, 10:27 AM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 11:07 AM
Views: 52
Tokens: 18,493
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
৩ বছর আগের কথা।কয়েকজন হুজুর থেকে মাসালা নিয়েছি।। ১-৩ নং ইমদাদুল হুজুর থেকেও ফতোয়া নিয়েছি বাট লিখাগুলো যখন পাঠিয়েছি ওনি মৌখিক ফতোয়া দিয়েছিল লিখিত দেয় নি।।বলেছিল তালাক হয় নি।।

আমরা স্বামী স্ত্রী আলাদা জায়গায় থাকি।।

উনাকে আসতে বলেছিলাম কিন্তু উনি আসে নি।। তাই অভিমানে কথা বলিনি।।কিন্তু সে আমাকে মেসেজ দিচ্ছে কথা বলার জন্য।।কিন্তু আমি তাকে বলি তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই। আমি শুধু অবিমান করে বলেছিলাম।।তালাকের কোন চিন্তাই ছিলো না।।কিন্তু সে এই মেসেজ দেখে আমাকে বলে এমন কথাও শুনতে হলো আগে কেন বলোনি,,তোমার কাছে খেলা ছিল মাত্র এই সম্পর্ক টা।।আমিও রাগে বলেছি হুম খেলা ছিল।তারপর সে আরো অণেক কথা বলেছে যেমন- এই কথা শুনার আগে মরে গেলাম না কেন,,আল্লাহ কেন সাজা দিলো,,,,,এই মুখ আমাকে আর দেখাবে,, আমি বলেছি কই যাবা,,সে বলে আত্নাহত্যা করবে,,তখন আমি বলছি আত্মহত্যা মহাপাপ,, এগুলো আমার মনের কথা না।। আমি তাকে কল দিচ্ছি সে কল ধরে না,,বলে তার কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই।।। আরো অনেক কথা হয়।।তারপর বলে জীবন একটা সম্পর্ক ও একটা,,যেহেতু সম্পর্কটাই নেই সেহেতু বেঁচে থেকে কি লাভ ।।।আমিও তাকে বার বার বলতেছিলাম এগুলো মনের কথা না,,আমি তোমাকে ভালোবাসি,,, সে আরো অনেক কথা বলেছে যে এতোটা ব্যক্তিত্বহীন হয়ে গেছি যে কেউ আমাকে বলবে দরকার নেই।।তাও আমি বলেছি তোমাকে ছাড়া আনি থাকতে পারবো না।। কিন্তু কষ্টের অনেক কথা বলেছে।।
তারপর বলেছে আমাকে কারো দরকার নেই এমন কেউ আমার সাথে থাকার দরকার নেই।।আমি তোমাকে মুক্তি দিলাম,,তুমি স্বাধীন, you are freedom
এরপর আমি বলেছি আমাকেও তুমি খুঁজে পাবে না।।তখন আমার স্বামী বলে আগেতো আমাকে খুজো,, বেঁচে থাকলে না হয় তোমাকে খুঁজবো

এসব কথায় যে তালাক হয় আমরা কেউ জানতাম ই না।।আমার স্বামী ও জানতো না এই কথায় যে তালাক হয়।।অনেকদিন পর জানার পর তাকে বললে সে বলে এই কথায় তালাক হবে কে।।আমি বললাম নিয়ত থাকলে হয়।।সে বলে চমার তালাকের কোন নিয়ত ছিল না


২.।।।আরেক দিন আমি আমার স্বামীকে আসতে বলছিলাম কিন্তু সে আসেনি তাই আমার অনেক রাগ হয়েছিল কেন আসেনি সেজন্য অনেক ঝগড়া হয়েছে,তখন আমার স্বামী বলে তোমার মতো মেয়েকে কেন যে বিয়ে দিল,,তারপর আমি বললাম তোমার মতো ছেলেকে বিয়ে করে আমার আফসোস করতে হচ্ছে,, তখন আমার স্বামী বলে আফসোস করতে কে বলেছে ভালো দেখে চলে যাও,,,তারপর বলছে এতো তর্ক স্বামী সাথে করলে জাহান্নামী,,,আমি বলেছি যারা মেয়েদের সাথে রংঢং করে কথা বলে তারাও জাহান্নামী,,পাতানো বোন থেকে শুরু করে কোন কিছু বাদ দেন নি,,,তখন আমার স্বামী বলে তুমি সীমা লঙ্ঘন করিও না,,,পরের অধ্যায় টা কিন্তু ভয়াবহ হবে,(((সে যখন """পরের অধ্যায় টা ভয়াবহ হবে""""" এ কথাটা বলেছে তখন আমার মনের মধ্যে ভয় হয়েছে যে সে কি তালাক এর কথা বলবে নাকি,, ভাবছি বললে বলুক,,, কিন্তু আমি তালাক চায় নি ))))তখন আমি বলেছি তার জন্য প্রস্তুত আছি,,,আমার স্বামী বলে জানি আমি,,পরে আমি বললাম লাইফে যে সুখ নেই বুঝে গেছি,,,তখন আমার স্বামী বলে তুমি এগুলো বলে বলে চলে যেতে চাও যাও, তুমি মুক্ত।।।।।আমি সাথে সাথেই জিঙ্গেস করেছি তুমি কি তালাক দিলে নাকি তখন সে আমার সাথে আর কোন কথাই বলে নি মোবাইল অফ করে দিয়েছে।।সকালে যখন কথা হয়েছে তখন বললাম তুমি তালাকের নিয়তে বলেছো।। তখন আমার স্বামী বলে আমি কখনোই তোমাকে তালাাকের নিয়তে বলি নি।।।তুমি ঝগড়া করছিলে তাই থামানোর জন্য বলেছি,, কারন তুমি মুক্ত বললে ভয় পাও আমি এটা বললে তুমি ঝগড়া থামিয়ে দিবে তাই বলেছি।।।।আমার কোন তালাকের উদ্দেশ্য ছিল না আর নিয়ত ও ছিল না,,,।আর আমার স্বামী বলে এসব শব্দে নাকি তাালক হয় না।।

৩।।।।।।আরেকদি আমরা শুয়ে কথা বলতেছি কোন ঝগরা হয় নি।। তখন সম্ভবত অন্য মেয়ে নিয়ে কথা হচ্ছিল তাই আমি অভিমান করে বলেছি আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও।।ওই সময় আমার স্বামী আমার মাথার কাছে হাত দিয়ে রাখছিল তখন ওনি আমার মাথার পিছন থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলে ওকে দিলাম/ নাকি ছেড়ে দিলাম বললো সেটা মনে নেই।।আমি বললাম তালাক দিয়েছ নাকি,,,তখন আমার স্বামী বলে তালাক দিব কেন তুমি বলেছে ছেড়ে দিতে তাই আমার হাত সরিয়ে নিলাম।।। তখন আমি বলছি তুমি তালাকের জন্যই বলছো,, কিন্তু আমার স্বামী আবার আমার মাথার কাছে হাতটা রেখে সরিয়ে নিয়ে দেখায় আর বলে আমি হাতটা ছেড়ে দিয়েছি তাই বলছি ওকে দিলাম।।তরপর বললো আমি ধরে রাখাতে তুমি অস্বস্তি ফিল করতেছ তাই হাত সরিয়ে নিলাম ।।।।সে বলে তালাকের নিয়ত এ বলে নি।। ।

সে বলে তার হাত ছেড়ে দিছে।।।কিন্তু সে আমায় ধরে রাখে নি জাস্ট মাথার পিছন দিয়ে হাত রেখে মনে হয় আমার মাথায় ধরে রাখছিল কিংবা তার হাতটা আমার মাথার সাথে লেগে ছিল হয়তো।। কিন্তু এটা সত্যি সে আমি ছেড়ে দাও বলাতে সে তার হাতটা পেছন থেকে সরাতে নিয়ে বলছে ওকে দিলাম/নাকি ছেড়ে দিলাম বললো মনে নেই।।তবে এই ২ টার যেকোন ১ টা বলছে।।তার নাকি তালাক উদ্দেশ্য ছিল না।। ৩ বছর আগের কথা,,তাকে জিজ্ঞেস করলে বলে মনে নেই।।আমার যতটুকু মনে হয়েছে বলেছি।।



হুজুর আমার স্বামী যদি বুঝতে পেরেও স্বীকার না করে।।।কিংবা বুঝতে পেরেও আমার থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে যে বললো ওকে দিলাম এটাতে কি সমস্যা হবে।।।

এতো পরিমান স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছি।।উপরের সবগুলো বিষয় সে শুধু বলে তার তালাকের নিয়তে বলে নি।।মুক্তি দিলাম কথাগুলো নাকি সে আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে যে আমার কোন ব্যপারে কিছু বলবে না,,আমি যেভাবে খুশি চলতে পারবো এগুলো।।
কিন্তু তার কথাগুলো আমি এই স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারি না।।আমার মনে হয় তালাকের জন্য বলছে।।।কিন্তু সে কিছুতেই স্বীকার করে না।।

সে বলে আমার যদি তোমাকে তালাক দেওয়ার হতো তাহলে আমি সরাসরি তালাক শব্দটা বলেই তালাক দিতাম।।।এতো ঘুরিয়ে পেচিয়েে বলতাম না।।।আর যতই ঝগরা হোক তার কাছে তালাক চাইলে সে বলে তোমার ইচ্ছে হলে তুমি দাও আমি দিবোনা।।।।
আমি কিচুতেই স্বামীর সাথে স্বাভাবিক ভাবে সংসার করতে পারছি না।।।আমার মনের মধ্যে অশান্তি কাজ করে।।

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। আপনি তিনটি ভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। আমি প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে ফতোয়া দিচ্ছি। যেহেতু আপনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী, তাই হানাফি ফিকহের আলোকে উত্তর দেওয়া হলো।

ঘটনা ১ ও ২ এর বিশ্লেষণ:

আপনি এবং আপনার স্বামী ঝগড়ার সময় যে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, যেমন: "তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই", "তুমি মুক্ত", "you are freedom", "আমি তোমাকে মুক্তি দিলাম", "চলে যাও", "তুমি স্বাধীন" ইত্যাদি।

হানাফি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ (صريح) ব্যবহার করতে হয়। যেমন: "তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্ত", "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম" (ইয়াস) ইত্যাদি। কিন্তু কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দ যেমন: "তুমি মুক্ত", "তোমার প্রয়োজন নেই", "তুমি স্বাধীন", "চলে যাও" ইত্যাদি দ্বারা তালাক শুধুমাত্র তখনই পতিত হয়, যখন স্বামীর নিয়ত (ইচ্ছা) তালাকের হয়

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার স্বামী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তার কোনো তালাকের নিয়ত ছিল না। তিনি বলেছেন, "ঝগড়া থামানোর জন্য" বা "আপনাকে শান্ত করার জন্য" তিনি এসব কথা বলেছেন। যেহেতু তিনি তালাকের নিয়ত অস্বীকার করছেন এবং আপনি নিজেও বলেছেন যে তালাকের কোনো চিন্তা ছিল না, তাই এই কথাগুলোর মাধ্যমে তালাক পতিত হয়নি। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৩; ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)

ঘটনা ৩ এর বিশ্লেষণ:

এই ঘটনায় আপনার স্বামী তার হাত সরিয়ে নিয়ে বলেছিলেন "ওকে দিলাম" বা "ছেড়ে দিলাম"। এটি একটি অস্পষ্ট (কিনায়া) শব্দ। এই শব্দের মাধ্যমে তালাক পতিত হওয়ার জন্যও স্বামীর নিয়ত জরুরি। আপনার স্বামী বলেছেন যে তার তালাকের নিয়ত ছিল না, বরং তিনি শুধু হাত সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। যেহেতু তিনি নিয়ত অস্বীকার করছেন এবং আপনি নিজেও নিশ্চিত নন যে তার নিয়ত কী ছিল, তাই এই ঘটনাতেও তালাক পতিত হয়নি। (ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩; রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৮)

সারকথা:

আপনার বর্ণিত তিনটি ঘটনার কোনোটিতেই তালাক পতিত হয়নি। কারণ, তালাকের স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা হয়নি এবং স্বামীর তালাকের নিয়তও ছিল না। আপনার স্বামী নিজেও বলেছেন যে তার তালাকের নিয়ত ছিল না। তাই আপনাদের বিবাহ এখনও বহাল আছে। আপনারা এখনও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিবাহিত।

আপনার জন্য পরামর্শ:

আপনি লিখেছেন যে আপনার মনে অশান্তি কাজ করছে এবং স্বাভাবিকভাবে সংসার করতে পারছেন না। এটি একটি মানসিক সমস্যা। এই অশান্তি দূর করার জন্য আপনাকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:

১. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন: মনে রাখবেন, আল্লাহ তায়ালা সবকিছু জানেন। তিনি চাইলে আপনার সম্পর্ক ঠিক করে দেবেন। তাই বেশি বেশি দোয়া করুন এবং ধৈর্য ধরুন।

২. স্বামীর সাথে কথা বলুন: আপনার স্বামীকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন যে, তালাকের মতো গুরুতর বিষয়ে রাগের মাথায় কথা বলা উচিত নয়। ভবিষ্যতে যেন এমন শব্দ ব্যবহার না করেন। একসাথে বসে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন।

৩. মধ্যস্থতা করুন: যদি নিজেরা সমাধান করতে না পারেন, তাহলে দুই পরিবারের বড়রা বা কোনো বিজ্ঞ আলেমের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করুন। তারা আপনাদের সমস্যা বুঝে সমাধান দিতে পারবেন।

৪. সৎ জীবনযাপন করুন: নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি আমলগুলো নিয়মিত করুন। এতে আপনার মন শান্তি পাবে এবং আল্লাহর সাহায্যও পাবেন।

মনে রাখবেন: তালাক একটি গুরুতর বিষয়। রাগের মাথায় বা অভিমান করে তালাকের কথা বলা উচিত নয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার স্বামীও যদি এই ধরনের কথা বলেন, তাহলে তাকে বুঝিয়ে বলুন।

আল্লাহ তায়ালা আপনাদের সম্পর্ক ভালো করুন এবং আপনাদের মাঝে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.