সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়া ব্যবসায় মুদারাবা বিনিয়োগ করা কি জায়েয?

Business and Job · Hanafi

Question No: 4651
Questioner: Asif
Question Asked: 30 Aug 2026, 10:49 PM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 11:07 PM
Views: 23
Tokens: 11,099
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একটি পোশাক ব্যবসায় (clothing business) বিনিয়োগ করতে চাই। বিনিয়োগটি মুদারাবা (Mudarabah) চুক্তির ভিত্তিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, আমি মূলধন প্রদান করব এবং ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান সেই মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবে। ব্যবসার লাভ পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে আমাদের মধ্যে বণ্টন হবে এবং ব্যবসায় প্রকৃত ক্ষতি হলে, শরিয়াহর নিয়ম অনুযায়ী মূলধনের ক্ষতি আমি বহন করব—যদি ব্যবসা পরিচালনাকারীর কোনো অবহেলা, প্রতারণা বা চুক্তিভঙ্গ না থাকে।

তবে ব্যবসাটির নিজস্ব মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রচলিত (conventional) ব্যাংক থেকে সুদভিত্তিক ঋণ (interest-bearing loan) নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যবসাটি তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এমন ঋণ গ্রহণ করবে যার ওপর সুদ পরিশোধ করতে হবে।

আমার প্রশ্ন হলো:
এমন একটি ব্যবসায় আমি মুদারাবা ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে ব্যবসার লাভের অংশ গ্রহণ করা কি শরিয়তসম্মত হবে?

আরও নির্দিষ্টভাবে, যদি—
* আমার বিনিয়োগের টাকা সম্পূর্ণ হালাল উৎস থেকে আসে;
* আমার বিনিয়োগের অর্থ শুধুমাত্র হালাল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়;
* ব্যবসার মূল কার্যক্রম (যেমন পোশাক ক্রয়-বিক্রয়) নিজেই হালাল হয়;
* কিন্তু একই ব্যবসা অতিরিক্ত অর্থের জন্য সুদভিত্তিক ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে এবং সেই ঋণের ওপর সুদ পরিশোধ করে;
তাহলে সেই ব্যবসায় মুদারাবা বিনিয়োগকারী হিসেবে বিনিয়োগ করা এবং ব্যবসা থেকে শরিয়াহসম্মতভাবে লাভের অংশ গ্রহণ করা কি বৈধ হবে?

বিশেষভাবে জানতে চাই:
* ব্যবসার মূল কার্যক্রম হালাল হলেও, ব্যবসাটি সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করলে সেখানে মুদারাবা বিনিয়োগের হুকুম কী?
* আমি যদি সুদভিত্তিক ঋণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকি এবং আমার বিনিয়োগের টাকা সুদ পরিশোধে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে কি হুকুম পরিবর্তিত হবে?
* ব্যবসার মোট মূলধনের তুলনায় সুদভিত্তিক ঋণের পরিমাণ বা ব্যবহার কতটুকু হলে শরিয়াহর দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হয়?
* মুদারাবা বিনিয়োগকারী হিসেবে আমি যদি ব্যবসার সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ না করি, তাহলে কি তা বিনিয়োগকে বৈধ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে?
* একজন মুদারাবা বিনিয়োগকারী হিসেবে এই ধরনের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার আগে কোন কোন বিষয় ও শর্ত যাচাই করা উচিত, যাতে আমার বিনিয়োগ ও অর্জিত লাভ শরিয়াহসম্মত থাকে?

Answer

সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণকারী ব্যবসায় মুদারাবা বিনিয়োগের হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনি একটি পোশাক ব্যবসায় মুদারাবা চুক্তির ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে চান। ব্যবসার মূল কার্যক্রম হালাল, আপনার বিনিয়োগের অর্থ হালাল উৎস থেকে আসছে এবং আপনার অর্থ শুধুমাত্র হালাল কাজে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু ব্যবসাটি অতিরিক্ত অর্থের জন্য প্রচলিত ব্যাংক থেকে সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এই অবস্থায় আপনার বিনিয়োগ ও লাভের অংশ গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত হবে কি না—এটি জানতে চেয়েছেন।

মূল নীতি

ইসলামী শরিয়াহতে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণরূপে হারাম। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি থাকে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৮)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ "রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদ খাওয়াকারী, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং সুদের সাক্ষী—সবাইকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন তারা সবাই সমান।" (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)

মুদারাবা বিনিয়োগের শর্তাবলী

মুদারাবা একটি বৈধ ইসলামী অংশীদারিত্ব চুক্তি যেখানে:

  • রাব্বুল মাল (বিনিয়োগকারী) মূলধন প্রদান করেন
  • মুদারিব (ব্যবসা পরিচালক) শ্রম ও দক্ষতা প্রদান করেন
  • লাভ পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হয়
  • ক্ষতি হলে তা বিনিয়োগকারী বহন করেন (মুদারিবের অবহেলা ছাড়া)

সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণকারী ব্যবসায় মুদারাবা বিনিয়োগের হুকুম

১. মূল নীতি: হারাম কাজে সহযোগিতা নিষিদ্ধ

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরের সহযোগিতা করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

২. সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণকারী ব্যবসায় বিনিয়োগের বিধান

যদি একটি ব্যবসা সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করে, তবে সেই ব্যবসায় মুদারাবা বিনিয়োগ করা মাকরূহ তাহরীমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) হবে। কারণ:

প্রথমত: বিনিয়োগকারী পরোক্ষভাবে এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছেন যা সুদভিত্তিক লেনদেনে জড়িত। যদিও বিনিয়োগকারী নিজে সরাসরি সুদ লেনদেনে অংশগ্রহণ করছেন না, তবে তার বিনিয়োগ ব্যবসাটিকে শক্তিশালী করছে যা সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করছে।

দ্বিতীয়ত: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এমন ব্যবসায় অংশগ্রহণ করা যেখানে হারাম লেনদেন হয়, তা বৈধ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৫ম খণ্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা)

তৃতীয়ত: ফাতাওয়া উসমানিতে উল্লেখ আছে যে, যে ব্যবসা সুদভিত্তিক লেনদেন করে, সেখানে বিনিয়োগ করা এবং লাভ গ্রহণ করা জায়েয নয়। (ফাতাওয়া উসমানি, ২য় খণ্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)

৩. ইমদাদুল ফাতাওয়ার নির্দেশনা

হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ইমদাদুল ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন:

"যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক লেনদেন করে, সেখানে মুদারাবা বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা এবং লাভ গ্রহণ করা জায়েয নয়। কারণ এতে হারাম লেনদেনে সহযোগিতা করা হয়।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪র্থ খণ্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)

৪. মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.)-এর মত

মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) তাঁর ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন:

"যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করে, সেখানে মুদারাবা বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। যদিও বিনিয়োগকারীর অর্থ সরাসরি সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত না হয়, তবুও বিনিয়োগকারী এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছেন যা সুদভিত্তিক লেনদেনে জড়িত।" (জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২য় খণ্ড, ৪৫৬ পৃষ্ঠা)

প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তরসমূহ

১. ব্যবসার মূল কার্যক্রম হালাল হলেও, ব্যবসাটি সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করলে সেখানে মুদারাবা বিনিয়োগের হুকুম কী?

উত্তর: ব্যবসার মূল কার্যক্রম হালাল হলেও, ব্যবসাটি যদি সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করে, তবে সেখানে মুদারাবা বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। কারণ:

  • সুদ একটি গুরুতর গুনাহ এবং ইসলামী শরিয়াহতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
  • বিনিয়োগকারী পরোক্ষভাবে সুদভিত্তিক লেনদেনকে সমর্থন করছেন
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদ লেনদেনের সাথে জড়িত সকলকে অভিশাপ দিয়েছেন

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেছেন:

"যে ব্যক্তি এমন ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে যেখানে সুদভিত্তিক লেনদেন হয়, সে গুনাহের অংশীদার হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ৫ম খণ্ড, ২৬৮ পৃষ্ঠা)

২. আমি যদি সুদভিত্তিক ঋণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকি এবং আমার বিনিয়োগের টাকা সুদ পরিশোধে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে কি হুকুম পরিবর্তিত হবে?

উত্তর: না, হুকুম পরিবর্তিত হবে না। যদিও আপনি সরাসরি সুদ লেনদেনে জড়িত নন এবং আপনার অর্থ সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত হচ্ছে না, তবুও আপনার বিনিয়োগ এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছে যা সুদভিত্তিক লেনদেন করছে। ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী, এমন কাজে সহযোগিতা করা যা গুনাহের কাজকে সমর্থন করে, তাও গুনাহ।

মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) উল্লেখ করেছেন:

"যে কোম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক লেনদেন করে, সেখানে বিনিয়োগ করা জায়েয নয়, যদিও বিনিয়োগকারীর অর্থ সরাসরি সুদ লেনদেনে ব্যবহৃত না হয়। কারণ বিনিয়োগকারী এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করছেন যার কার্যক্রম শরিয়াহ পরিপন্থী।" (ফিকহুল বুয়ূ', ২য় খণ্ড, ৪৫৬ পৃষ্ঠা)

৩. ব্যবসার মোট মূলধনের তুলনায় সুদভিত্তিক ঋণের পরিমাণ বা ব্যবহার কতটুকু হলে শরিয়াহর দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হয়?

উত্তর: ইসলামী শরিয়াহতে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ বা শতাংশ নির্ধারিত নেই। এমনকি অল্প পরিমাণ সুদভিত্তিক ঋণ হলেও তা সমস্যা তৈরি করে। কারণ:

  • সুদ সম্পূর্ণরূপে হারাম, তা অল্প হোক বা বেশি
  • ব্যবসায় সুদভিত্তিক লেনদেন থাকলেই তা হারাম লেনদেনের সাথে জড়িত

তবে কিছু ফিকহী নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যবসার আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ হারাম উৎস থেকে আসে এবং তা এতই নগণ্য যে সাধারণত তা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে কিছু আলেম সতর্কতার সাথে সেটি সহনীয় মনে করেছেন। কিন্তু সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করা কোনো অবস্থাতেই সহনীয় নয়।

মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) উল্লেখ করেছেন:

"ব্যবসায় সুদভিত্তিক লেনদেন থাকলে তা সম্পূর্ণ হারাম। এর পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।" (জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২য় খণ্ড, ৪৫৮ পৃষ্ঠা)

৪. মুদারাবা বিনিয়োগকারী হিসেবে আমি যদি ব্যবসার সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ না করি, তাহলে কি তা বিনিয়োগকে বৈধ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে?

উত্তর: না, বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ না থাকলেও বিনিয়োগ বৈধ হবে না। কারণ:

  • বিনিয়োগকারী জানেন যে ব্যবসাটি সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করছে
  • তিনি সচেতনভাবে এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন
  • তার বিনিয়োগ ব্যবসাটিকে শক্তিশালী করছে

তবে যদি বিনিয়োগকারী চুক্তিতে শর্ত করে দেন যে ব্যবসা সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করবে না, এবং ব্যবসা পরিচালক সেই শর্ত ভঙ্গ করে সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে বিনিয়োগকারীর জন্য লাভ গ্রহণ করা জায়েয হবে। কারণ তিনি চুক্তিভঙ্গের জন্য দায়ী নন।

৫. একজন মুদারাবা বিনিয়োগকারী হিসেবে এই ধরনের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার আগে কোন কোন বিষয় ও শর্ত যাচাই করা উচিত?

বিনিয়োগের আগে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত:

ক. ব্যবসার কার্যক্রম:

  • ব্যবসার মূল কার্যক্রম হালাল কি না
  • ব্যবসায় কোনো হারাম পণ্য বা সেবা আছে কি না
  • ব্যবসায় সুদভিত্তিক লেনদেন আছে কি না

খ. চুক্তির শর্তাবলী:

  • মুদারাবা চুক্তি সঠিকভাবে সম্পাদিত হচ্ছে কি না
  • লাভের অনুপাত পূর্বনির্ধারিত আছে কি না
  • ক্ষতির নিয়ম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না

গ. ব্যবসা পরিচালকের বিশ্বস্ততা:

  • ব্যবসা পরিচালক ধার্মিক ও বিশ্বস্ত কি না
  • ব্যবসা পরিচালকের পূর্ববর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে জানা

ঘ. চুক্তিতে স্পষ্ট শর্ত:

  • চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যে ব্যবসা সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করবে না
  • ব্যবসা পরিচালককে শর্ত দেওয়া যে তিনি শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করবেন

সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণকারী ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা

১. তওবার প্রয়োজনীয়তা

যদি কোনো ব্যক্তি পূর্বে এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে তার উচিত:

  • তওবা করা
  • হারাম লেনদেন থেকে বেরিয়ে আসা
  • ভবিষ্যতে এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ না করা

২. লাভের বিধান

যদি কেউ পূর্বে এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে লাভ পেয়ে থাকেন, তাহলে:

  • পূর্বের লাভ থেকে সুদভিত্তিক ঋণের অনুপাত হিসাব করে সেই পরিমাণ দান করে দেওয়া
  • ভবিষ্যতে এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ না করা

৩. বিকল্প ব্যবস্থা

সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামী অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। যেমন:

  • মুরাবাহা
  • ইজারাহ
  • মুদারাবা
  • মুশারাকা

ফাতাওয়া ও আলেমদের মতামত

ফাতাওয়া উসমানি

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) ফাতাওয়া উসমানিতে উল্লেখ করেছেন:

"যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করে, সেখানে মুদারাবা বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। কারণ এতে হারাম লেনদেনে সহযোগিতা করা হয়। বিনিয়োগকারী যদিও সরাসরি সুদ লেনদেনে জড়িত নন, কিন্তু তার বিনিয়োগ এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছে যা সুদভিত্তিক লেনদেন করছে।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২য় খণ্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)

ইমদাদুল ফাতাওয়া

হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ইমদাদুল ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন:

"যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক লেনদেন করে, সেখানে মুদারাবা বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। যদিও বিনিয়োগকারীর অর্থ সরাসরি সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত না হয়, তবুও বিনিয়োগকারী এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছেন যা সুদভিত্তিক লেনদেনে জড়িত।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪র্থ খণ্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)

রদ্দুল মুহতার

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেছেন:

"যে ব্যক্তি এমন ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে যেখানে সুদভিত্তিক লেনদেন হয়, সে গুনাহের অংশীদার হবে। কারণ সে এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছে যা হারাম লেনদেনে জড়িত।" (রদ্দুল মুহতার, ৫ম খণ্ড, ২৬৮ পৃষ্ঠা)

উপসংহার ও সুপারিশ

মূল সিদ্ধান্ত

যে ব্যবসা সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করে, সেখানে মুদারাবা বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। যদিও:

  • ব্যবসার মূল কার্যক্রম হালাল হয়
  • বিনিয়োগকারীর অর্থ হালাল উৎস থেকে আসে
  • বিনিয়োগকারীর অর্থ সরাসরি সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত না হয়
  • বিনিয়োগকারী সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ না করে

তবুও বিনিয়োগকারী এমন একটি ব্যবসাকে সমর্থন করছেন যা সুদভিত্তিক লেনদেনে জড়িত, যা ইসলামী শরিয়াহতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ব্যবহারিক সুপারিশ

১. চুক্তিতে স্পষ্ট শর্ত: মুদারাবা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন যে ব্যবসা কোনো সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করবে না।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.