কেনায়া বাক্যে তালাকের নিয়ত করলে কয়টি তালাক পতিত হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4600
Questioner: Ibrahim
Question Asked: 29 Aug 2026, 09:40 AM
Reviewed & Published: 29 Aug 2026, 09:58 AM
Views: 47
Tokens: 3,768
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম হুজুর,

নির্দিষ্ট সংখ্যা ছাড়া শুধু বিচ্ছেদের নিয়ত বার বার হতে থাকলে(যেমন:বিচ্ছেদ হবে,এমন নিয়ত),এর পর কেনায়া বাক্য(অন্য কোন ছেলে দেখো) একবার স্ত্রীকে বলা হলে,

১.কত সংখ্যক আর কি রকম বিচ্ছেদ কার্যকর হবে?

২.বারবার একই নিয়ত(সংখ্যা ছাড়া শুধু বিচ্ছেদ এর নিয়ত) করার পর অথবা বারবার একই নিয়ত করার সময় একবার কেনায়া বাক্য বলা হলে,বার বার নিয়ত করার কারণে কি অই একবার বলা বাক্যে বিচ্ছেদ সংখ্যা বেড়ে যাবার কোন সম্ভাবনা আছে?

ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক এই সমস্যার সঠিক সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।ভয়ানক পেরেশানীতে আছি হুজুর।

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আপনি যে পরিস্থিতিতে আছেন, তা নিঃসন্দেহে মানসিক অশান্তির কারণ। আমরা ইসলামী শরিয়তের আলোকে এবং হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের ভিত্তিতে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি।

প্রশ্ন ১: কত সংখ্যক এবং কি রকম বিচ্ছেদ কার্যকর হবে?

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি নির্দিষ্ট সংখ্যা ছাড়া শুধু "বিচ্ছেদ হবে" এই নিয়ত করেছেন এবং তারপর স্ত্রীকে কেনায়া বাক্য (অন্য কোনো ছেলে দেখো) বলেছেন।

  • কেনায়া বাক্যের সংজ্ঞা: যে সকল শব্দ দ্বারা তালাক বোঝানো হয়, কিন্তু সেগুলোতে তালাকের স্পষ্ট শব্দ (যেমন: তালাক, ত্যাগ) থাকে না, সেগুলোকে কেনায়া শব্দ বলে। যেমন: "তুমি আমার জন্য হারাম", "তুমি অন্য কোথাও চলে যাও", "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম" ইত্যাদি।
  • হানাফি ফিকহের নিয়ম: কেনায়া শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য। নিয়ত ছাড়া কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৯)
  • আপনার ক্ষেত্রে: যেহেতু আপনি কেনায়া বাক্য বলার সময় বিচ্ছেদের নিয়ত করেছিলেন, তাই আপনার স্ত্রীর উপর একটি তালাকে বায়েন (তালাকে বায়েন) পতিত হয়েছে। তালাকে বায়েন হলে স্ত্রী সাথে সাথে হারাম হয়ে যায় এবং ইদ্দত (তিন মাসিক বা তিন পবিত্রতা) পালন করা আবশ্যক। ইদ্দতের মধ্যে পুনরায় নতুন নিকাহ করলে আবার সংসার করা যাবে। তবে, এই তালাকটি রাজ'আত (ফিরে আসার) যোগ্য নয়, অর্থাৎ ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই; নতুন করে বিয়ে করতেই হবে।

প্রশ্ন ২: বারবার নিয়ত করার কারণে কি তালাকের সংখ্যা বাড়বে?

  • মূল নীতি: তালাকের সংখ্যা নির্ভর করে কতবার তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে তার উপর, নিয়তের পুনরাবৃত্তির উপর নয়।
  • আপনার ক্ষেত্রে: আপনি যতবারই মনে মনে বিচ্ছেদের নিয়ত করুন না কেন, যতক্ষণ না আপনি সেই নিয়তকে কেনায়া বা স্পষ্ট শব্দের সাথে যুক্ত করে উচ্চারণ করছেন, ততক্ষণ তা গণনায় ধরা হবে না। আপনি যখন একবারই কেনায়া বাক্যটি বলেছেন, তখন আপনার সেই একটি উচ্চারণের কারণে শুধুমাত্র একটি তালাক পতিত হয়েছে। বারবার নিয়ত করার কারণে তালাকের সংখ্যা কখনো বাড়বে না। (ফতোয়ায়ে শামী, ৩/২৮৯; ফতোয়ায়ে উসমানী, ২/৪৩৫)

সারসংক্ষেপ ও সমাধান:

১. আপনার স্ত্রীর উপর একটি তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে। ২. এই তালাকের কারণে আপনার স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছেন। তবে, তিনি ইদ্দত পালন করছেন। ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে বা পরে, আপনি যদি অনুতপ্ত হন এবং পুনরায় সংসার করতে চান, তাহলে নতুন মোহর ধার্য করে এবং দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন নিকাহ করতে হবে। এরপর তারা আপনার জন্য হালাল হবেন। ৩. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই তালাকটি যদি তৃতীয়বার হয় (অর্থাৎ এর আগে আরও দুইটি তালাক পতিত হয়ে থাকে), তাহলে এটি তালাকে মুগাল্লাযা হবে এবং স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবেন। তবে আপনার প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে এটি প্রথম তালাক, তাই উপরোক্ত সমাধান প্রযোজ্য।

আপনার করণীয়:

  • আপনি এই ঘটনাকে হালকাভাবে নেবেন না। তালাক একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
  • আপনি যদি সত্যিই অনুতপ্ত হন এবং স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান, তাহলে নতুন নিকাহের ব্যবস্থা করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীন বুঝার এবং মেনে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.