আসরের পর ও মাগরিবের আগের সময় পড়াশোনা করা যাবে কি?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
এটা কি ঠিক?
Answer
প্রশ্নটি হলো: "অনেকেই বলেন আসরের পর আর মাগরিবের আগের সময় নাকি পড়াশোনা করতে হয় না। এটা কি ঠিক?"
উত্তর:
না, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। ইসলামে আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়ে পড়াশোনা (দুনিয়াবি বা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন) করা নিষিদ্ধ বা অনুচিত হওয়ার কোনো বিধান নেই। বরং ইসলাম জ্ঞান অর্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং প্রতিটি মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জনকে ফরজ ঘোষণা করেছে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
১. জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?" (সূরা আয-যুমার: ৯)। আরও বলেন, "আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন যারা তোমাদের মধ্যে ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে।" (সূরা আল-মুজাদালা: ১১)।
২. হাদিসে জ্ঞানের ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।" (ইবনে মাজাহ: ২২৪)।
৩. সময়ের গুরুত্ব: ইসলামে প্রতিটি সময়ই ইবাদত ও জ্ঞানার্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আসরের পরের সময়টি বিশেষভাবে দোয়া কবুলের সময় হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের পরের সময়কে ফজিলতপূর্ণ বলেছেন এবং এই সময়ে যিকর ও দোয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। (সহিহ বুখারি: ৬৩৩)
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি:
হানাফি মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবসমূহে (যেমন: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগীরি, আল-হিদায়া) আসরের পর মাগরিবের আগে পড়াশোনা করা নিষিদ্ধ বা মাকরুহ হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। বরং এই সময়ে ইলম অর্জন করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকর করা এবং দুনিয়াবি জ্ঞানচর্চা করা সম্পূর্ণ জায়েয।
ভুল ধারণার উৎস:
এই ভুল ধারণাটি সম্ভবত কিছু মানুষের ভুল ব্যাখ্যা থেকে ছড়িয়েছে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, আসরের পর নফল নামাজ পড়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়) — এই বিধানটিকে তারা ভুলভাবে পড়াশোনার সাথেও যুক্ত করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আসরের পর নফল নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) — এটি শুধুমাত্র নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পড়াশোনা বা অন্যান্য জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নয়।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ও মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম)-এর মত:
আমাদের প্রিয় মুফতিয়ানে কেরামগণ (যেমন: মুফতি মুহাম্মদ শফি সাহেব ও মুফতি তাকি উসমানি সাহেব) তাদের ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আসরের পর মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়ে পড়াশোনা করা, লেখাপড়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকর করা — সবই জায়েয এবং এর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং এই সময়টি ইবাদত ও জ্ঞানচর্চার জন্য উত্তম।
সারকথা:
আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়ে পড়াশোনা করা সম্পূর্ণ জায়েয, বরং উত্তম। এই সময়ে পড়াশোনা না করার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। সুতরাং প্রশ্নকারী ভগ্নী, আপনি নিশ্চিন্তে এই সময়ে পড়াশোনা করতে পারেন এবং যারা এই ভুল ধারণা প্রচার করেন তাদেরকে সঠিক কথা বোঝাতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।