২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২৬ ও ২৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রস্রাবের সময় হালকা রক্তক্ষরণ হয়েছে, এটাকে কি হায়েয গণনা করা হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
সম্মানিত শাইখ,
আমার আম্মুর গত মে মাসের পর তার হায়েয হয়নি । কিন্তু গত ২৫ আগষ্ট প্রশাবের সাথে একটু রক্তের মতো কিছু বের হচ্ছে বলে দেখেন । এরপর ২৬, ২৮ তারিখেও তিনি প্রসাব ও গোসলের সময় রক্তের মতো কিছু বের হওয়া দেখেন । । তার ক্ষেত্রে মাসআলা কি হবে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনার আম্মুর বয়স যদি ৫৫ বছরের কম হয় এবং তার গত মে মাসের পর হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে (অর্থাৎ ইস্তিহাযা বা মেনোপজের কারণে নয়), তাহলে মাসআলা নির্ধারণের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করা জরুরি। যেহেতু তিনি গত ২৫, ২৬ ও ২৮ আগস্ট প্রসাব ও গোসলের সময় রক্তের মতো কিছু দেখেছেন, এটি হায়েয নাকি ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) তা নির্ধারণ করতে হবে।
আপনার আম্মুর ক্ষেত্রে ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২৬ ও ২৮ আগস্ট পর্যন্ত যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে তা 'হায়েয' (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। উনার জন্য এই দিনগুলোর নামায সম্পূর্ণ মাফ এবং উনাকে কোনো কাযা আদায় করতে হবে না।
বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ ও দলীল:
১. পবিত্রতার মেয়াদ (তুহর):
- হুকুম: হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই হায়েযের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় হলো ১৫ দিন। উনার মে মাসের পর থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস কোনো রক্তক্ষরণ হয়নি, যা পবিত্রতার এই সর্বনিম্ন সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
- উৎস ও পৃষ্ঠা:
- নূরুল ঈযাহ — পৃষ্ঠা: ৪৬-৪৭ (হায়েয, নেফাস ও ইস্তেহাযা পরিচ্ছেদ)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৩ (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ)।
২. রক্তের সময়সীমা:
- হুকুম: শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, হায়েযের সর্বনিম্ন সময় হলো ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন (২৪০ ঘণ্টা)। ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত রক্তের এই পুরো মেয়াদের ব্যবধান হলো ৪ দিন, যা ৩ থেকে ১০ দিনের ভেতরে রয়েছে।
- তাছাড়া হায়েযের মেয়াদের ভেতর রক্ত প্রতিনিয়ত লাগাতার ঝরা জরুরি নয়। মেয়াদের শুরুতে ও শেষে রক্ত দেখা দিলে এবং মাঝের সময়ে রক্ত বন্ধ থাকলেও পুরো ৪ দিনের সময়কালটাই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।
- উৎস ও পৃষ্ঠা:
- নূরুল ঈযাহ — পৃষ্ঠা: ৪৬।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৩।
৩. নামায ও ইবাদতের হুকুম:
- হুকুম: হায়েযগ্রস্ত মহিলার জন্য নামায পড়া, রোযা রাখা, কুরআন স্পর্শ করা এবং তিলাওয়াত করা সম্পূর্ণ হারাম। ২৫, ২৬, ও ২৮ আগস্ট উনার যে নামাযগুলো ছুটে গেছে, উনাকে পরবর্তীতে সেগুলোর কাযা আদায় করতে হবে না; এগুলো উনার জন্য পুরোপুরি মাফ।
- উৎস ও পৃষ্ঠা:
- নূরুল ঈযাহ — পৃষ্ঠা: ৪৭।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৭।
পালণীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আপনার আম্মুর ক্ষেত্রে ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২৬ ও ২৮ আগস্ট পর্যন্ত যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে তা 'হায়েয' (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। উনার জন্য এই দিনগুলোর নামায সম্পূর্ণ মাফ এবং উনাকে কোনো কাযা আদায় করতে হবে না।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।