নিফাসের পর রক্ত চলতে থাকলে করণীয় কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question
নিফাসের সর্বোচ্চ ৪০ দিন। এরপর ব্লাড থাকলেও সালাত আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে ব্লাড যদি চলমান থাকে তাহলে কি ১৫ দিন সালাত আদায় করে এরপর হায়েয ধরবো?
আর যদি তখন হায়িয ধরা হয় তাহলে এক্ষেত্রে কতদিন হায়িয ধরতে হবে ৭ দিন না ১০ দিন?
( এর আগে হায়িয সব সময় ৭ দিন ছিলো)
আজকে নিফাসের পর ১৮ তম দিন
১৫ দিনের পর থেকেই মনে হচ্ছে ক্লিয়ার হয়ে যাবে কখনো সাদা আবার কখনো বাদামি / লালচে দেখছি এজন্য সালাত বাদ ও দিতে পারছি না।
আমি যে নামজ পড়ছি আমার কি গুনাহ হবে?
এরকম হলে করনীয় কি?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। নিম্নে হানাফি মাযহাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:
১. নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নিফাসের (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন। এর বেশি রক্ত চলতে থাকলেও তা নিফাস হিসেবে গণ্য হবে না। ৪০ দিন পূর্ণ হলে স্ত্রী পবিত্র হয়ে যাবে এবং তার জন্য সালাত, রোজা ইত্যাদি আদায় করা ফরজ হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)
২. ৪০ দিনের পর রক্ত চলতে থাকলে করণীয়
৪০ দিনের পর যদি রক্ত চলতে থাকে, তবে তা ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে।
৪০ দিনের পর যদি রক্ত চলতেই থাকে,১৫ দিন অতিক্রম করে,সেক্ষেত্রে নিফাস পরবর্তী ১৫ তম দিন হতে তা ৩ দিন ৩ রাত অতিক্রম করলে নিফাস পরবর্তী ১৫ তম দিন হতে নিফাস হিসেবে গণ্য হবে এবং সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এক্ষেত্রে যে কদিন ব্লিডিং চলবে সব কয়টি দিন হায়েজ ধরতে হবে।
যদি হায়েজ ১০ দিন অতিক্রম করে, সেক্ষেত্রে আপনার পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে এই মাসেও হায়েজ ধরতে হবে।
★উপসংহার আপনার বর্তমান অবস্থায় (নিফাসের পর ১৮তম দিন) রক্ত চলতে থাকলে নিফাস পরবর্তী ১৫ তম দিন হতে তা ৩ দিন ৩ রাত অতিক্রম করলে নিফাস পরবর্তী ১৫ তম দিন হতে নিফাস হিসেবে গণ্য হবে এবং সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এক্ষেত্রে যে কদিন ব্লিডিং চলবে সব কয়টি দিন হায়েজ ধরতে হবে।
যদি হায়েজ ১০ দিন অতিক্রম করে, সেক্ষেত্রে আপনার পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে এই মাসেও হায়েজ ধরতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও সহনশীলতা দান করুন।