ইস্তেখারার পর স্বপ্নে সাদা রং দেখলে কি হয়
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি। তাকেই বিয়ে করতে চাই। কিন্তু সে আমার জন্য কল্যাণকর কি না সেটা জানার জন্য ইস্তেখারার নামাজ পড়ি। ৩-৪ দিন পর আমি স্বপ্নের মধ্যে সাদা এবং সবুজ রঙ দেখি। এই খবর স্বপ্নের মাঝেই খুশিতে দৌড়ে তাকে জানাই।
এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?
Answer
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
প্রশ্নকারী ভাই, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি ইস্তেখারার নামাজ পড়ে স্বপ্নে সাদা ও সবুজ রং দেখেছেন, যা নিয়ে আপনি জানতে চেয়েছেন। নিচে এর বিস্তারিত উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. ইস্তেখারার নামাজ ও তার গুরুত্ব
ইস্তেখারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যখন কোনো বৈধ কাজের ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন, তখন আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনার জন্য ইস্তেখারার নামাজ পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদের সব কাজে ইস্তেখারা শেখাতেন, যেমন কুরআনের সূরা শেখাতেন। (সহিহ বুখারী: ১১৬২)
২. স্বপ্নে সাদা ও সবুজ রঙ দেখার ব্যাখ্যা
ইস্তেখারার পর স্বপ্নে সাদা ও সবুজ রং দেখা সাধারণত ভালো লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে:
- সাদা রং: পবিত্রতা, শান্তি, এবং কল্যাণের প্রতীক। হাদিসে সাদা রংকে ভালোবাসার কথা এসেছে। (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৬১)
- সবুজ রং: জান্নাতের রং, যা কল্যাণ, বরকত এবং সাফল্যের প্রতীক। কুরআনে জান্নাতিদের সবুজ রেশমি পোশাক পরার কথা উল্লেখ আছে। (সূরা আল-ইনসান: ২১)
তবে, ইস্তেখারার ফলাফল শুধু স্বপ্নের উপর নির্ভরশীল নয়। ইস্তেখারার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে হিদায়াত চাওয়া। স্বপ্ন ভালো দেখলে আশা করা যায় বিষয়টি কল্যাণকর, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করাও জরুরি:
৩. ইস্তেখারার সঠিক পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম
১. ইস্তেখারার পর স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়: অনেক সময় ইস্তেখারার পর কোনো স্বপ্ন নাও দেখা যেতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে, ইস্তেখারা কবুল হয়নি। বরং আল্লাহ তাআলা অন্তরে সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতি প্রবণতা সৃষ্টি করে দেন। (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৮০) ২. সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম: ইস্তেখারার পর যে কাজের প্রতি অন্তর প্রশান্তি অনুভব করে এবং যা করা সহজ হয়, সেটিই কল্যাণকর বলে ধরে নেওয়া উচিত। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৬৭) ৩. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ইস্তেখারার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও ধার্মিক ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি পরামর্শ চায়, সে নিরাপদ থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ: ২৮০)
৪. বিবাহের ব্যাপারে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। শুধু ভালোবাসার ভিত্তিতে নয়, বরং দ্বীনদারি, চরিত্র এবং সামঞ্জস্যতা দেখে বিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মহিলাকে চারটি বিষয় দেখে বিবাহ করা হয়: সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারি। তুমি দ্বীনদারকে অগ্রাধিকার দাও, তবেই তুমি সফল হবে।" (সহিহ বুখারী: ৫০৯০)
৫. আপনার জন্য পরামর্শ
- আপনার স্বপ্নে সাদা ও সবুজ রং দেখা ভালো লক্ষণ। আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য কল্যাণের ব্যবস্থা করবেন।
- তবে, বিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মেয়েটির দ্বীনদারি, চরিত্র এবং পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
- পরিবারের বড়দের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন। ইসলামে অভিভাবকের সম্মতির অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
- আর অবৈধ প্রেম ভালবাসা থেকে দূরে থাকুন। এগুলো করলে অনেক গুনাহ হয়। কে আপনার জন্য কল্যাণকর হবেন সেটা আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। তাই জেনে আপনার জন্য কল্যাণকরণ হবেন তার জন্য দোয়া করা। নির্দিষ্ট ঐ মেয়ের জন্যই দোয়া করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ তিনি আপনার জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারেন।
- ইস্তেখারা করার পর অন্তরে যে প্রশান্তি বা প্রবণতা সৃষ্টি হয়, সেটির প্রতিও খেয়াল রাখুন।
*আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য যা কল্যাণকর তা সহজ করে দিন এবং উত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দান করুন। (আমিন)