পাত্র পক্ষ বা ঘটকের সামনে যাওয়া কি জায়েয হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
বাড়িতে আমাকে বলে আমার বড়ো আম্মু বলে যে আমি এখন যেমন ছেলে চাইছি সেইরকম ছেলে পাওয়া যাবে বা আমাকে কেউ না দেখে বিয়ে করবে না সেটা তো জানি তবে আমি শুধু পাএ পক্ষের। নন মাহরাম পুরুষদের সামনে আর ঘটকের সামনে যেতে রাজি না তো তারা আমাকে বলে যে এটা জায়েজ আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে চলো আর বলো যে তুমি তোমার মা বাবার সম্মান রক্ষার্থে যাচ্ছ কিন্তু নন মাহরাম এর সামনে যাওয়া তো জায়েজ নেই আমি এটাই জানতে চাইছি যে তারা আমাকে ছেলে ছাড়াও ছেলের বাকি পুরুষ আর ঘটকের সামনে যেতে বললে আমার কি করা উচিত বা কি বলা উচিত আর আমার যাওয়া উচিত কী না
Answer
বিয়ে সংক্রান্ত পাত্রপক্ষ বা ঘটকের সামনে যাওয়া প্রসঙ্গে
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি জানতে চেয়েছেন যে, বিয়ে উপলক্ষে পাত্রপক্ষ বা ঘটকের সামনে (নন-মাহরাম পুরুষদের) যাওয়া জায়েজ কি না এবং আপনার করণীয় কী।
শরয়ী বিধান
ইসলামী শরীয়াহ মতে, নন-মাহরাম পুরুষদের সামনে যাওয়া বা তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ নয়। এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম) কাজ। পাত্রপক্ষ বা ঘটক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, তারা যদি আপনার মাহরাম না হন, তবে তাদের সামনে যাওয়া শরীয়তসম্মত নয়।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে:
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
"আর তোমরা নিজেদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করো না।" (সূরা আন-নূর: ৩১)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যেন কোনো নারীর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ না করে যে, তার সাথে তার মাহরাম পুরুষ নেই।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) তে উল্লেখ আছে:
"নারীর জন্য অপরিচিত (নন-মাহরাম) পুরুষের সামনে যাওয়া বা তাদের সাথে কথা বলা জায়েজ নয়, যদি না কোনো বৈধ প্রয়োজনে (যেমন: কেনাবেচা, চিকিৎসা ইত্যাদি) পর্দার সাথে কথা বলা হয়।"
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) তে বলা হয়েছে:
"যুবতী নারীর জন্য পর্দা করা ফরজ এবং তাদের জন্য বাইরে বের হওয়া বা পুরুষদের সামনে যাওয়া নিষিদ্ধ, যদি না শরীয়তসম্মত কোনো প্রয়োজনে পর্দার সাথে বের হয়।"
আপনার করণীয়
১. আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক: আপনি যে নন-মাহরাম পুরুষদের সামনে যেতে রাজি নন, এটি সম্পূর্ণ সঠিক ও শরীয়তসম্মত সিদ্ধান্ত। এতে আপনার কোনো গুনাহ নেই, বরং সওয়াব হবে।
২. পরিবারকে বোঝান: আপনার পরিবারকে বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে বলুন যে, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী নন-মাহরাম পুরুষদের সামনে যাওয়া জায়েজ নয়। আপনি মা-বাবার সম্মান রক্ষা করতে চান, কিন্তু আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে নয়।
৩. বিকল্প প্রস্তাব দিন: আপনি বলতে পারেন যে, পাত্রপক্ষের সাথে দেখা করার প্রয়োজন হলে:
- আপনার মাহরাম পুরুষ (যেমন: বাবা, ভাই, চাচা) আপনার প্রতিনিধি হিসেবে যেতে পারেন
- পাত্রপক্ষের মহিলারা আপনার সাথে দেখা করতে পারেন
- পর্দার মাধ্যমে (ফোনে বা ভিডিও কলে, তবে শর্তসাপেক্ষে) কথা বলা যেতে পারে
৪. দৃঢ় থাকুন: মনে রাখবেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি সবার আগে। মা-বাবার সম্মান রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তা করা যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
-
পাত্র দেখা: ইসলামে পাত্র-পাত্রী একে অপরকে দেখার অনুমতি আছে, তবে তা পর্দার সাথে এবং বৈধ উপায়ে হতে হবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চায়, তখন সে যদি তার কিছু অংশ দেখতে পারে, তবে তা করা উচিত।" (আবু দাউদ) — তবে এটি সরাসরি দেখা নয়, বরং মাহরামের মাধ্যমে বা বৈধ উপায়ে।
-
ঘটক: ঘটকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে, তবে ঘটক যদি পুরুষ হন এবং আপনি নন-মাহরাম হন, তবে তার সামনে যাওয়া বা তার সাথে সরাসরি কথা বলা জায়েজ নয়। আপনার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষ বা মহিলা আত্মীয় ঘটকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
উপসংহার
আপনার উচিত নন-মাহরাম পুরুষ বা ঘটকের সামনে না যাওয়া। এটি সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত সিদ্ধান্ত। পরিবারকে বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে বলুন এবং বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তাব করুন। আল্লাহর বিধান মেনে চলাই সর্বোত্তম পথ।
"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তম পথ তৈরি করেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা আত-তালাক: ২-৩)
আল্লাহ তাআলা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।