স্বামীর "সংসার করবোনা", "৩ মাস পর final হবে" ইত্যাদি কিনায়া শব্দে তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় কি না?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4450
Questioner: Sagorika Tasnim
Question Asked: 25 Aug 2026, 11:49 AM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 11:55 AM
Views: 31
Tokens: 2,730
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামীর সাথে আমার ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছিলো এবং এক পর্যায়ে বলেন যে তোর সাথে সংসার করবোনা কথা বন্ধ রাখ ৩ মাস পর final হবে ending হবে তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত ছাড়া বলেছেন তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার স্বামী যে কথাগুলি বলেছেন—"তোদের সাথে সংসার করবোনা", "কথা বন্ধ রাখ", "৩ মাস পর final হবে", "ending হবে"—তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত ছাড়া বলেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, এতে কি তালাক পতিত হয়েছে?

ফিকহী নীতি

তালাক দুই প্রকার:

  1. সরীহ (স্পষ্ট) তালাক: যে শব্দগুলোতে তালাক ছাড়া অন্য কোনো অর্থ বোঝানো সম্ভব নয়, যেমন—"আমি তোমাকে তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্ত" ইত্যাদি। এসব শব্দে নিয়ত নির্বিশেষে তালাক পতিত হয়।
  2. কিনায়া (অস্পষ্ট/ইঙ্গিতমূলক) তালাক: যে শব্দগুলোতে তালাক এবং অন্য অর্থ উভয়ই সম্ভব, যেমন—"তুমি আমার থেকে মুক্ত", "তোমার পথ তোমার", "আমার সাথে তোমার সম্পর্ক নেই" ইত্যাদি। এসব শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত শর্ত।

আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান

আপনার স্বামী যে বাক্যগুলি ব্যবহার করেছেন—"সংসার করবোনা", "কথা বন্ধ রাখ", "৩ মাস পর final হবে", "ending হবে"—এগুলো কিনায়া (ইঙ্গিতমূলক) শব্দ। কারণ:

  • "সংসার করবোনা" বলতে রাগের মাথায় সাময়িক বিচ্ছেদ বা সম্পর্ক ঠান্ডা করার অর্থও হতে পারে
  • "৩ মাস পর final হবে" বলতে সম্পর্কের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ হতে পারে, যা তালাকও হতে পারে আবার না-ও হতে পারে
  • "ending হবে" বলতে সম্পর্কের সমাপ্তি বোঝানো হয়েছে, তবে এটিও অস্পষ্ট

যেহেতু তিনি তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত ছাড়া এসব কথা বলেছেন, তাই তালাক পতিত হয়নি

দলিল ও উলামাদের মতামত

ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার শর্ত হলো নিয়ত। যদি নিয়ত না থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।" (আল-মুগনী, ৭/৩০৬)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত বা এমন পরিস্থিতি প্রয়োজন যা থেকে তালাকের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ৩৩/৯০)

শায়খ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে, 'তুমি আমার জন্য হারাম' বা 'আমি তোমার সাথে থাকবো না'—তাহলে কি তালাক পতিত হবে?" উত্তরে তিনি বলেন: "যদি সে তালাকের নিয়ত করে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে। আর যদি তালাকের নিয়ত না করে, তাহলে তালাক পতিত হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায, ২২/১৩৫)

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য দুটি শর্ত: (১) তালাকের নিয়ত, অথবা (২) এমন পরিস্থিতি যা থেকে তালাকের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৮৫)

গুরুত্বপূর্ণ নোট

১. যেহেতু আপনার স্বামী তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত করেননি, তাই এই কথাগুলো দ্বারা তালাক পতিত হয়নি। ২. তবে "৩ মাস পর final হবে" বলার মাধ্যমে তিনি হয়তো ইল্লাহ (শপথ) বা তালাকের হুমকি দিয়েছেন। যদি তিনি ৩ মাসের মধ্যে তালাক না দেন, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তিনি বলেন যে "৩ মাস পর তালাক দেবো", তাহলে সেটি ভবিষ্যতের তালাকের ওয়াদা হিসেবে গণ্য হবে, যা পূর্ণ হলে তালাক পতিত হবে। ৩. আপনার স্বামীর উচিত রাগের সময় তালাকের কথা না বলা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "তালাক হলো বৈধ জিনিসগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত।" (আবু দাউদ, হাদীস নং ২১৭৮; ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২০১৮—আলবানী সহীহ বলেছেন)

উপসংহার

আপনার স্বামী যে কথাগুলি বলেছেন তা কিনায়া (ইঙ্গিতমূলক) এবং তিনি তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত করেননি, তাই তালাক পতিত হয়নি। আপনারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিবাহিত রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে পরিবারের প্রবীণদের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.