আমার স্ত্রীকে রাগের সময় আমি বলেছি—তুমি যদি এমনই থাকো, বৈশাখী তাহলে আমি আর ত
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার স্ত্রীকে রাগের সময় আমি বলেছি—তুমি যদি এমনই থাকো, বৈশাখী তাহলে আমি আর তোমার সাথে সংসার করতে পারব না।’ আমি তালাকের শব্দ বলিনি এবং তালাক দেওয়ার নিয়তও ছিল না। এই কথায় শরিয়ত অনুযায়ী তালাক হয়েছে কি না, জানতে চাই।এবং সে কিছু দিন পর পর ঝগরার মাঝে তালাক চায় কিন্ত কালকে আমি ওরে উওর দিছি দিয়া দিবো
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যা বলেছেন, তা নিয়ে শরিয়তের বিধান জানানো হলো।
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনি রাগের সময় আপনার স্ত্রীকে বলেছেন, "তুমি যদি এমনই থাকো, বৈশাখী, তাহলে আমি আর তোমার সাথে সংসার করতে পারব না।" আপনি স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ বলেননি এবং তালাক দেওয়ার নিয়তও করেননি। এখন জানতে চান, এতে তালাক হয়েছে কি না?
উত্তর:
আপনার বক্তব্যে তালাক হয়নি। আপনার উক্তিটি তালাকের শব্দ নয়, বরং এটি একটি সাধারণ হুমকি বা ক্ষোভ প্রকাশ। যেহেতু আপনি তালাকের শব্দ (যেমন: "তালাক", "আমি তোমাকে তালাক দিলাম") বলেননি এবং তালাক দেওয়ার নিয়তও করেননি, তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল থাকবে।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি: হানাফি মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী, তালাকের শব্দ স্পষ্ট হতে হবে অথবা নিয়ত থাকতে হবে। যদি কেউ এমন কথা বলে যা তালাকের শব্দ নয়, কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে। কিন্তু এখানে আপনার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল না, তাই তালাক পতিত হয়নি।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে: আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তালাক দুইবার। তারপর হয় ভালোভাবে রাখা অথবা সৌজন্যের সাথে বিদায় দেওয়া।" (সূরা আল-বাকারা: ২২৯)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তিনটি বিষয় গুরুতর (আসল) হোক বা ঠাট্টা-তামাশা হোক, তা কার্যকর হয়ে যায়: তালাক, বিবাহ এবং রজয়ত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া)।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৯৪, সুনানে তিরমিজি: ১১৮৪)
তবে এই হাদিসটি তখন প্রযোজ্য যখন তালাকের শব্দ ব্যবহার করা হয়। আপনি তালাকের শব্দ ব্যবহার করেননি, তাই এটি প্রযোজ্য নয়।
রাগের অবস্থায় তালাক: রাগের অবস্থায় তালাক দিলে তা কার্যকর হয়, তবে শর্ত হলো তালাকের শব্দ বলতে হবে। আপনি তালাকের শব্দ বলেননি, তাই তালাক হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ রাগের মাথায় বলা কথায় অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়।
আপনার স্ত্রীর তালাক চাওয়া প্রসঙ্গে:
আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার স্ত্রী কিছু দিন পর পর ঝগড়ার সময় তালাক চায় এবং আপনি কালকে বলেছেন, "দিয়া দিবো" (দিয়ে দেব)।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আপনি যদি বলেন, "তোমাকে তালাক দিয়ে দেব" — এটি একটি ভবিষ্যৎমূলক প্রতিশ্রুতি বা হুমকি, যা তালাক নয়। তবে যদি আপনি বলেন, "তোমাকে তালাক দিলাম" বা "তালাক" — তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে। আপনি "দিয়া দিবো" বলেছেন, যা ভবিষ্যতের কথা, তাই এটি তালাক নয়।
তবে সতর্কতা: আপনি যদি বলেন, "তোমাকে তালাক দিলাম" বা "তালাক দিলাম" — তাহলে সাথে সাথে একটি তালাক পতিত হবে। তাই এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
পরামর্শ:
১. আপনার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া এড়িয়ে চলুন এবং ধৈর্য ধরুন। ২. স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া বা তালাকের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। ৩. দাম্পত্য কলহ নিরসনে পরিবারের বড়দের বা বিজ্ঞ আলেমের সাহায্য নিন। ৪. রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং রাগের সময় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
উপসংহার: আপনার উক্তিতে তালাক হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ আছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন এবং স্ত্রীর সাথে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। আমিন।