প্রচন্ড রাগের মাথায় মেসেজ তিন তালাক লিখে দিলে কি তালাক পতিত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4436
Questioner: Sadiapriya28
Question Asked: 25 Aug 2026, 01:00 AM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 01:08 AM
Views: 8
Tokens: 2,627
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amar husband khub raag e chilo Karon ami na bole babar Bari eshechilam uni unmade hoye giyechilo 4 din khay nai tkn raag e prochondo raag e message e 1 talak 2 talak 3 talak lekhe kintu ektu porei bhul shikar kore jkn matha thanda hoy ar bole unar kono niyot chilo uni onek raag e chilo tai boleche Allahr kosom diyeo bolte parbe ei khetre fatwa ki

Answer

ফতোয়া: রাগের মাথায় মেসেজে তালাক দেওয়ার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আলেমা সাহেবা, আমার স্বামী খুব রাগান্বিত অবস্থায় ছিলেন। কারণ আমি না বলে বাবার বাড়ি চলে এসেছিলাম। তিনি এতটাই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন যে ৪ দিন খাননি। তখন প্রচণ্ড রাগের মধ্যে মেসেজে "১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক" লিখেছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ভুল বুঝতে পেরে মন ঠান্ডা হলে বলেন, তার কোনো নিয়্যত (ইচ্ছা) ছিল না। তিনি শুধু খুব রাগের মধ্যে ছিলেন। এই অবস্থায় ফতোয়া কী?


ফতোয়া (সিদ্ধান্ত)

উত্তর: আপনার বিবরণ অনুযায়ী, আপনার স্বামী প্রচণ্ড রাগের অবস্থায় মেসেজের মাধ্যমে তিনটি তালাক লিখেছেন। ইসলামি ফিকহের আলোকে এই বিষয়ে বিস্তারিত নিম্নরূপ:

১. লিখিত তালাকের বিধান

লিখিতভাবে তালাক দেওয়া বৈধ। যদি কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে তালাক দেয় এবং তার নিয়্যত তালাক দেওয়ার থাকে, তবে তালাক পতিত হবে। কিন্তু লিখিত তালাকের ক্ষেত্রে নিয়্যতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

২. রাগের অবস্থায় তালাক

রাগের অবস্থায় তালাক দেওয়া সম্পর্কে ইসলামি আইন:

  • সাধারণ রাগ: যে রাগে মানুষ তার কথা ও কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে এবং কী বলছে তা জানে, এমন রাগের অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হবে।
  • চরম রাগ (যা জ্ঞান হারানোর পর্যায়ে): যদি রাগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে ব্যক্তি নিজের কথা ও কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে যায়, সে কী বলছে বা করছে তা বুঝতে পারে না, তবে সেই অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হবে না।

৩. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান

আপনার বিবরণ অনুযায়ী:

  • আপনার স্বামী ৪ দিন খাননি
  • তিনি প্রচণ্ড রাগান্বিত ছিলেন
  • তিনি "উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন" (আপনার ভাষায়)
  • পরে তিনি বলেন তার কোনো নিয়্যত ছিল না

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: রাগের তীব্রতা কতটুকু ছিল—সেটি নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাগ এমন পর্যায়ে ছিল যে তিনি নিজের কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন এবং কী লিখছেন তা বুঝতে পারেননি, তবে তালাক পতিত হবে না। কিন্তু যদি তিনি সচেতন ছিলেন এবং রাগের বশবর্তী হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে লিখেছেন, তবে তালাক পতিত হবে।

৪. হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, রাগের অবস্থায় তালাক দিলে তা পতিত হয়, যদি না রাগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায় বা সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর মতে, রাগের তীব্রতা যদি এমন হয় যে ব্যক্তি নিজের কথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তবে তালাক পতিত হবে না।

ইবনে আবেদিন (রহ.)《রদ্দুল মুহতার》

"إذا كان الغضب بحيث لا يعي ما يقول ولا يملك نفسه، لا يقع طلاقه"

"যদি রাগ এমন হয় যে ব্যক্তি কী বলছে তা বুঝতে পারে না এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তবে তার তালাক পতিত হবে না।"

৫. তিন তালাকের বিধান

যদি তালাক পতিত হয়, তবে একসাথে তিন তালাক দেওয়া হলে হানাফি মাযহাব মতে তিন তালাকই পতিত হবে এবং তা বায়েন (চূড়ান্ত) তালাক হিসেবে গণ্য হবে। এরপর পুনরায় বিবাহ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না স্ত্রী অন্য কাউকে বিবাহ করে এবং সেই বিবাহে সহবাসের পর তালাক/মৃত্যুর মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটে (হালালা)।


গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

১. মসজিদের ইমাম বা স্থানীয় মুফতির সাথে পরামর্শ করুন: যেহেতু রাগের তীব্রতা নির্ণয় করা কঠিন, তাই আপনার এলাকার কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি গিয়ে বিস্তারিত বলুন। তিনি পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

২. নিয়্যতের বিষয়টি: আপনার স্বামী যদি সত্যিই বলেন যে তার তালাক দেওয়ার কোনো নিয়্যত ছিল না এবং তিনি শুধু রাগের বশবর্তী হয়ে লিখেছেন, তবে এটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তবে মনে রাখবেন, রাগের অবস্থায় বলা তালাক সাধারণত পতিত হয় যদি ব্যক্তি সচেতন থাকে।

৩. ভবিষ্যতে সতর্কতা: এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো যোগাযোগ বজায় রাখুন। কোনো অবস্থাতেই রাগের মাথায় তালাকের কথা বলা বা লেখা উচিত নয়।


সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার স্বামী যদি প্রচণ্ড রাগের কারণে এমন অবস্থায় ছিলেন যে তিনি নিজের কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন এবং কী লিখছেন তা বুঝতে পারেননি, তবে তালাক পতিত হবে না। কিন্তু যদি তিনি সচেতন ছিলেন এবং রাগের বশবর্তী হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে লিখেছেন, তবে তিন তালাক পতিত হয়ে যাবে।

সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতি: আপনার এলাকার কোনো বিশ্বস্ত মুফতি বা ইসলামি স্কলারের কাছে সরাসরি গিয়ে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বর্ণনা করুন। তিনি রাগের তীব্রতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সঠিক ফতোয়া দিতে পারবেন।


আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ। তিনি আপনার পরিবারকে হেফাজত করুন এবং এই সংকট থেকে উত্তরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.