ঈদে মিলাদুন্নবীর তাবারুক খাওয়া জায়েজ কি না?
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি কলেজের হোস্টেলে থাকি।আমাদের কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান হয় এবং সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তবারক দেয়। বিশেষ করে যারা হোস্টেলে থাকে তাদেরকে দেয় যেহেতু তারা বাড়ি থেকে দূরে থাকে এবং হোস্টেলে অন্যান্য দিনে তেমন ভালো খাবার ও পাওয়া যায়না। এমতাবস্থায় ওই তবারক নেওয়া এবং তা খাওয়া কি জায়েজ হবে? যদি তা খাই তাহলে কি গুনাহ হবে এবং ইবাদত কবুল হবে না?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা একটি বিদ‘আত (ধর্মে নতুন প্রবর্তিত বিষয়) যা সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন এবং ইমামগণ থেকে প্রমাণিত নয়। তবে আপনার প্রশ্নটি মূলত সেই অনুষ্ঠানে বিতরণকৃত তাবারুক (খাবার) গ্রহণ করা জায়েজ কি না — তা নিয়ে।
১. তাবারুক গ্রহণ ও খাওয়ার বিধান: ঐ অনুষ্ঠানে বিতরণকৃত খাবার যদি হালাল উপায়ে সংগ্রহ করা হয় (অর্থাৎ অর্থ-সম্পদ বৈধ উৎস থেকে এসেছে) এবং তাতে কোনো হারাম উপাদান (যেমন: গরু/ছাগলের জবাইকৃত মাংস যা ইসলামি নিয়মে জবাই করা হয়নি, বা হারাম পশুর মাংস) না থাকে, তাহলে সেই খাবার গ্রহণ করা এবং খাওয়া জায়েজ হবে।
কারণ, খাবারটি নিজে হারাম নয়; বরং এটি একটি সাধারণ বৈধ খাদ্য। বিদ‘আতের অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত হলেও খাদ্যটি নিজে হারাম হয়ে যায় না। তাই প্রয়োজনে বা ক্ষুধার কারণে তা খাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, খাবারটি গ্রহণ করার অর্থ এই নয় যে, আমরা সেই বিদ‘আত অনুষ্ঠানকে সমর্থন করছি বা তাতে অংশগ্রহণ করছি।
২. গুনাহ হবে কি? যদি খাবারটি হালাল হয় এবং আপনি তা খান, তাহলে খাওয়ার কারণে গুনাহ হবে না। তবে যদি আপনি সেই অনুষ্ঠানকে ভালোবেসে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান মনে করে অংশগ্রহণ করেন বা সমর্থন করেন, তাহলে সেটি বিদ‘আতের সমর্থন হওয়ার কারণে গুনাহের কারণ হতে পারে। কিন্তু শুধু খাবার গ্রহণ করলে গুনাহ হবে না।
৩. ইবাদত কবুল হবে কি? খাবার খাওয়ার সাথে ইবাদত কবুল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ইবাদত কবুল হওয়া নির্ভর করে ঈমান, আখলাক ও আমলের উপর। খাবার খেলে আপনার নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদত কবুল না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে বিদ‘আতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা বা সমর্থন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৪. করণীয়:
- আপনি যদি হোস্টেলে থাকেন এবং ভালো খাবার না পান, তাহলে প্রয়োজনে সেই তাবারুক গ্রহণ করতে পারেন।
- তবে চেষ্টা করুন, সেই খাবার গ্রহণের সময় মনে রাখবেন যে, এটি একটি সাধারণ খাবার, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বরকতের বস্তু নয়।
- বিদ‘আতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করে, শুধু প্রয়োজনে খাবারটি গ্রহণ করুন।
- যদি সম্ভব হয়, তাহলে অন্য কোনো হালাল উপায়ে খাবারের ব্যবস্থা করুন।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৪৫ (বিদ‘আতের খাবার গ্রহণ প্রসঙ্গে)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২১৬ (বিদ‘আতের অনুষ্ঠানের খাবার প্রসঙ্গে)
- রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪১২ (বিদ‘আতের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়)
উপসংহার: ঐ তাবারুক যদি হালাল হয়, তাহলে তা খাওয়া জায়েজ এবং গুনাহ হবে না। তবে বিদ‘আতের অনুষ্ঠানকে সমর্থন না করা এবং অংশগ্রহণ না করাই উত্তম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)