ইস্তিখারা করার পর কি নিশ্চিত হওয়া যায় যে মেয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করবেই?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
১. পাত্র যদি ইস্তিখারা, দোয়া বা যেকোনো উপায়ে নিশ্চিত হতে পারে যে বিয়ের জন্য একটি মেয়ে তার জন্য উত্তম, তাহলে এর মানে কি এই যে সে যদি মেয়েটাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়, তাহলে মেয়েটি সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেই? নাকি না ও করতে পারে?
২. পাত্রের যদি মেয়ে পছন্দ হয়, তাহলে কি শুধু সেই মেয়েটিকে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট করে বিয়ে করার জন্য দোয়া করতে পারবে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্ন দুটির উত্তর নিম্নে প্রদান করা হলো:
প্রশ্ন ১: পাত্র যদি ইস্তিখারা বা দোয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে একটি মেয়ে তার জন্য উত্তম, তাহলে এর অর্থ এই নয় যে মেয়েটি প্রস্তাব গ্রহণ করবেই। ইস্তিখারার ফলাফল পাত্রের নিজের জন্য ভালো-মন্দ নির্ণয়ের একটি মাধ্যম, এটি অন্যের ইচ্ছা বা সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো গ্যারান্টি নয়। মেয়েটির নিজস্ব ইচ্ছা, পছন্দ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা ইসলাম তাকে দিয়েছে। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মেয়ের সম্মতি (ইজাব-ও-কবুল) অপরিহার্য। তাই পাত্রের ইস্তিখারা ভালো হওয়ার অর্থ এই নয় যে মেয়েটি বাধ্য হয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করবে; বরং সে তার নিজের বিবেচনায় প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
- ইস্তিখারা হলো আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবাদেরকে সকল কাজে ইস্তিখারা শেখাতেন। (সহিহ বুখারী: ১১৬২)
- ইস্তিখারার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে এই দোয়া করা যে, "হে আল্লাহ! যদি এই কাজটি আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তা সম্পন্ন করুন। আর যদি তা আমার জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দিন এবং আমাকে তা থেকে বিরত রাখুন।" (সহিহ বুখারী: ১১৬২)
- সুতরাং ইস্তিখারা হলো নিজের জন্য কল্যাণ কামনা, অন্যের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য নয়। মেয়েটির সম্মতি ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। হাদিসে এসেছে, "বিধবা নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না, এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।" (সহিহ বুখারী: ৪৮৪৩)
- ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)在其著名的《রাদ্দুল মুহতার》一书中明确指出,婚姻的有效性取决于双方的同意(ইজাব ও কবুল),没有新娘或其监护人的同意,婚姻无效。 (রাদ্দুল মুহতার, ৩/১৩)
সারকথা: ইস্তিখারা পাত্রের নিজের জন্য ভালো-মন্দ নির্ণয়ের একটি মাধ্যম মাত্র। এটি মেয়েটির সিদ্ধান্তকে বাধ্যতামূলক করে না। মেয়েটি তার নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
প্রশ্ন ২: পাত্রের যদি একটি নির্দিষ্ট মেয়ে পছন্দ হয়, তাহলে সে শুধু সেই মেয়েটিকে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট করে দোয়া করতে পারবে কি? উত্তর হলো, হ্যাঁ, সে পারবে। ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো ভালো কাজ বা বৈধ বিষয়ের জন্য দোয়া করা জায়েজ। বিয়ে একটি বৈধ ও পছন্দনীয় কাজ, তাই নির্দিষ্ট কোনো মেয়েকে বিয়ে করার জন্য দোয়া করা সম্পূর্ণ জায়েজ। তবে এর সাথে ইস্তিখারাও করা উচিত, যাতে আল্লাহ তাকে জানান যে এই মেয়েটি তার জন্য প্রকৃতপক্ষে কল্যাণকর কি না।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
- ইসলামে দোয়া একটি ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" (সূরা গাফির: ৬০)
- নির্দিষ্ট কোনো বৈধ বিষয়ের জন্য দোয়া করা নিষিদ্ধ নয়। বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য দোয়া করেছেন। যেমন, তিনি বলেছেন, "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই।" (সুনানে আবু দাউদ: ৭৯২)
- তবে মনে রাখতে হবে, দোয়া করার অর্থ এই নয় যে আল্লাহর ইচ্ছার বিপরীত কিছু ঘটবে। আল্লাহ যা ভালো জানেন, তিনি তাই করেন। তাই দোয়ার সাথে সাথে আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকাও জরুরি।
- মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তার তাফসিরে মা'আরিফুল কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, বৈধ বিষয়ে দোয়া করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা মুস্তাহাব। (মা'আরিফুল কুরআন, ৮/৩৪৫)
- তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়: শুধু দোয়া করলেই হবে না, সাথে সাথে বৈধ উপায়ে (যেমন: মেয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা, অভিভাবকের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো ইত্যাদি) চেষ্টা করাও জরুরি। দোয়া ও চেষ্টা উভয়ই একসাথে করতে হবে।
সারকথা: নির্দিষ্ট কোনো মেয়েকে বিয়ে করার জন্য দোয়া করা জায়েজ এবং এটি একটি ভালো কাজ। তবে সাথে সাথে ইস্তিখারাও করা উচিত এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত।