চিরদিনের জন্য যাবে বললে তালাক হবে কি

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4412
Questioner: H J
Question Asked: 24 Aug 2026, 04:17 PM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 04:48 PM
Views: 22
Tokens: 4,371
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। মেহমান এর সামনে যেতে রাজি না হলে বলে,বাপের বাড়ি গেলে চির জীবনের জন্য যাবে। আমার অনুমতি ছাড়া গেলে চির জীবনের জন্য যাবে। এখন অনুমতি নিয়ে যাওয়া যাবে কি? কারন প্রথম বাক্যে অনুমতি কথা উল্লেখ করে নি।আবার বাপের বাড়ি এক্ষেত্রে যাওয়া বলতে যেকোনো সময় যাওয়া কে বুঝিয়েছে।তার কথা অনেকটা এমন"ব্যাপারটা তালাকও না আবার ব্যাপারটা এমন যে কোনদিনও আসবা না
তবে তোমার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বা তোমাকে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্য করে বলা হয় নাই
ঐ মুহূর্তে মেজাজ খারাপ হয়েই আসছে"।।এখন প্রশ্ন হচ্ছে সামি যদি কোনো ভাবে তালাক এর নিয়ত করেই থাকে তাহলে প্রথম বাক্যের জন্য অনুমতি নিয়ে গেলে অ কি তালাক পতিত হবে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করছি। উক্ত বাক্যগুলো হলো: ১. "বাপের বাড়ি গেলে চির জীবনের জন্য যাবে।" ২. "আমার অনুমতি ছাড়া গেলে চির জীবনের জন্য যাবে।"

প্রথম বাক্যের বিশ্লেষণ: "বাপের বাড়ি গেলে চির জীবনের জন্য যাবে" - এই বাক্যটি একটি শর্তসাপেক্ষ বাক্য। এখানে "গেলে" শব্দটি শর্ত। অর্থাৎ, স্ত্রী যদি বাপের বাড়ি যায়, তাহলে "চির জীবনের জন্য যাবে" - এর অর্থ কী? এটি তালাকের জন্য স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ নয়। "চির জীবনের জন্য যাবে" বলতে তালাকের ইঙ্গিত (কিনায়া) হতে পারে, তবে এটি তালাকের নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

দ্বিতীয় বাক্যের বিশ্লেষণ: "আমার অনুমতি ছাড়া গেলে চির জীবনের জন্য যাবে" - এখানে শর্ত হলো "অনুমতি ছাড়া যাওয়া"। অর্থাৎ, স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাপের বাড়ি যায়, তাহলে এই শর্তটি প্রযোজ্য হবে। কিন্তু স্ত্রী যদি অনুমতি নিয়ে যায়, তাহলে এই শর্তটি আর প্রযোজ্য হবে না।

হানাফি ফিকহের নীতি: হানাফি ফিকহে তালাকের শর্ত সম্পর্কে মূলনীতি হলো:

আপনার প্রশ্নের উত্তর: ১. প্রথম বাক্য: "বাপের বাড়ি গেলে চির জীবনের জন্য যাবে" - যদি স্ত্রী বাপের বাড়ি যায়, তাহলে এই শর্তটি পূরণ হবে। তবে "চির জীবনের জন্য যাবে" বলতে যদি তালাকের নিয়ত করা হয়ে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হতে পারে। কিন্তু যেহেতু আপনি বলেছেন যে তালাকের উদ্দেশ্য ছিল না, তাই এই বাক্যটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। তবে যদি স্বামীর নিয়ত তালাকের হয়, তাহলে স্ত্রী বাপের বাড়ি গেলে তালাক পতিত হবে।

২. দ্বিতীয় বাক্য: "আমার অনুমতি ছাড়া গেলে চির জীবনের জন্য যাবে" - এখানে শর্ত হলো "অনুমতি ছাড়া যাওয়া"। যদি স্ত্রী অনুমতি নিয়ে যায়, তাহলে শর্ত পূরণ হবে না এবং তালাক পতিত হবে না। কিন্তু যদি অনুমতি ছাড়া যায়, তাহলে শর্ত পূরণ হবে এবং তালাক পতিত হতে পারে (যদি নিয়ত তালাকের হয়)।

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর: আপনি জিজ্ঞেস করেছেন: "সামি যদি কোনো ভাবে তালাক এর নিয়ত করেই থাকে তাহলে প্রথম বাক্যের জন্য অনুমতি নিয়ে গেলে অ কি তালাক পতিত হবে?"

উত্তর:

  • প্রথম বাক্যের জন্য: "বাপের বাড়ি গেলে চির জীবনের জন্য যাবে" - এই বাক্যে শর্ত হলো "বাপের বাড়ি যাওয়া"। অনুমতি নিয়ে যাওয়া বা না নেওয়া এখানে শর্ত নয়। তাই যদি স্বামীর নিয়ত তালাকের হয় এবং স্ত্রী বাপের বাড়ি যায় (অনুমতি নিয়ে বা ছাড়া), তাহলে তালাক পতিত হবে। কারণ শর্ত হলো "বাপের বাড়ি যাওয়া", যা পূরণ হয়েছে।

  • দ্বিতীয় বাক্যের জন্য: "আমার অনুমতি ছাড়া গেলে চির জীবনের জন্য যাবে" - এখানে শর্ত হলো "অনুমতি ছাড়া যাওয়া"। যদি স্ত্রী অনুমতি নিয়ে যায়, তাহলে শর্ত পূরণ হবে না এবং তালাক পতিত হবে না।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: যেহেতু আপনি উল্লেখ করেছেন যে "তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্য করে বলা হয় নাই" এবং "ঐ মুহূর্তে মেজাজ খারাপ হয়েই আসছে", তাই এই বাক্যগুলো তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ তালাকের নিয়ত না থাকলে কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না। কিন্তু যদি স্বামী পরে বলে যে তার নিয়ত তালাকের ছিল, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন।

হানাফি ফিকহের কিতাব থেকে দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: শর্তসাপেক্ষ তালাকে শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। শর্ত পূরণ না হলে তালাক পতিত হয় না।
  • আল-হিদায়া: তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম।

উপসংহার: ১. প্রথম বাক্যের জন্য: যদি স্বামীর নিয়ত তালাকের হয় এবং স্ত্রী বাপের বাড়ি যায়, তাহলে তালাক পতিত হবে (অনুমতি নিয়ে বা ছাড়া)। ২. দ্বিতীয় বাক্যের জন্য: যদি স্বামীর নিয়ত তালাকের হয় এবং স্ত্রী অনুমতি ছাড়া বাপের বাড়ি যায়, তাহলে তালাক পতিত হবে। কিন্তু অনুমতি নিয়ে গেলে তালাক পতিত হবে না।

যেহেতু আপনি বলেছেন যে তালাকের নিয়ত ছিল না, তাই বর্তমানে তালাক পতিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে বিষয়টি গুরুতর, তাই স্থানীয় মুফতির সাথে পরামর্শ করা উত্তম।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.