অতীতের হারাম সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পরও মন থেকে সেই ব্যক্তিকে ভুলতে না পারা এবং দ্বীনদার পাত্রের অভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4390
Questioner: Fouzia Farhana
Question Asked: 24 Aug 2026, 09:24 AM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 11:01 AM
Views: 34
Tokens: 13,451
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আমি প্রায় ৪ বছর একটা সম্পর্কে ছিলাম। সম্পর্কে কেমন জড়িত ছিলাম যদি বলতে হয়, ২ বছর দেখা সাক্ষাত হতো প্রাইভেটে শুধু, এর বাইরে না। বাকি ২ বছর কোনো দেখা সাক্ষাত হয়নাই। তখন দ্বীনের দিকে আমি নতুন। আমি একদমই চাইছিলাম না, কিন্তু তার প্রতি দুর্বলতার কারণে একরকম আটকে গিয়েছিলাম বলা চলে। আমার বাসায় সবাই জানতেন। ওকে বেশ পছন্দ ও করে সবাই।
যাইহোক ৪ বছর ধরে স্ট্রাগল করে পরবর্তীতে ব্রেকাপ করি,৩ বছর হচ্ছে। অনেক কান্নাকাটি করে, আল্লাহ রহমত করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দিয়েছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছিলো বলা চলে। নয়তো আমাদের মেন্টালিটির বিশাল ফারাক থাকা সত্ত্বেও কেউ ই কাউকে ছাড়া ভাবতে পারতাম না।
তারপর আর কোনো যোগাযোগ করিনি। সে চেষ্টা করেছিলো আমার বান্ধবীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে ম্যানিপুলেট করার৷ কিন্তু আমি সবর রেখেছিলাম।
এই তিন বছরে আমি চেষ্টা করেছি দ্বীনের দিকে ভালোমতো থাকার। পুরোপুরি মাহরাম মেইনটেইন করি এখন আলহামদুলিল্লাহ। বিয়ে আমার কাছে একটা দায়িত্ব, আমার সন্তানদের জন্য উপযুক্ত বাবা পাওয়ার মাধ্যম। এটাকে আমি আমার নফসের হাওলায় ছেড়ে দিতে চাইনি, একমাত্র রবের সন্তুষ্টি আর ইবাদাত ই যেনো বিয়েকে বানাইতে পারি এটাই আমার বরাবরই চাওয়া ছিলো। বাসায় বিয়ের জন্য দেখে এখন। আমি নিজেও বিয়ে করতে চাই। কিন্তু পছন্দসই পাত্র একদমই পাওয়া যায়না বললেই চলে। দ্বীনদার তো না ই..
এতকিছুতে আম্মু প্রায় সবসময়ই বলে তার কথা। আমি যতবার ভুলে থাকতে চাই না কেনো...
সে মডারেট ছিলো,নামায পড়তো,চেষ্টা করতো টুকিটাকি দ্বীন মানার। সে বলতো সে পুরোপুরি প্র‍্যাক্টিসিং হওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু আমার কাছে তার কোনো চেষ্টা চোখে পড়তোনা, সে প্রচুর হতাশাচর্চা করতো যেটা আমার খুব অপছন্দ ছিলো...
তো যাই হোক, যেটা প্রবলেম আর কি, আমি তাকে পুরোপুরি ভুলতে পারছিনা। একবেলা ভালো থাকি তো আরেক বেলা মনটা খারাপ থাকে। ভেবেছিলাম, হয়তো সেরকম আল্লাহর কোনো বান্দা আসলে ঠিক হয়ে যাবে এটা। কিন্তু এখন ভয়, এটা কি কোনো মানুষকে ঠকানো হয়ে যাবে কিনা?
অন্যদিকে তাকে যে বিয়ে করবো, আমার ওদিকে ফিরতেও মন চায়না, তার দ্বীনদারিতার অভাবের কারণে।তবুও ভেতর ভেতর মারাত্মক কষ্টে থাকি।কেননা যদিও ১০ কথার মধ্যে ৭কথাতেই আমাদের ঝগড়া হতো,কিন্তু সে অনেক ভালোবাসতো সত্যিই।তার প্রতি টান এখনও অনুভব করি। ইস্তেখারার নামায যে কতবার পড়েছি এর মধ্যে ইয়ত্তা নাই। কয়েকদিন মনে হয়না, কদিন পর যেই সেই।
ইস্তেখারার দ্বারাও মনটা স্টেবল হচ্ছেনা৷
আমি কি করতে পারি? আমল রেগুলার করার চেষ্টা করছি। সকাল সন্ধ্যা বিয়ের জন্য দরুদ, সূরাহ ক্বাসাসের ২৪নং আয়াত, সূরাহ ফুরকানের ৭০ নং আয়াত। ইস্তেখারার ছোটো দুয়াটা। এগুলো আমাল রেগুলার করি।
যতবার ভাবনা গুলা মাথায় আসে,ভাবি ওদিকে আগাই, তারপর মনে হয়, এই বিয়ে তাইলে আমার রবের জন্য কম আমার অবাধ্য মনের আশকারায় হবে।এগুলা ভেবে আবারও মাথা খারাপ হয়ে যায়।
এখন করণীয় কি আসলে?
সে আমাকে মনে রাখার সম্ভাবনা ৫০/৫০
তখন যেহেতু আমি ফিরে এসেছি, আমার প্রতি তার রাগ ক্ষোভ আছে।
তাকে প্রপোজাল দেওয়া ঠিক হবে?
নাকি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে যাব?
অলরেডি বাড়ি থেকে বিয়ে টিয়ে অনেক চিন্তাগ্রস্ত আর জাদু বা সিহরের কোনো লক্ষণ ও মেলে না আমার সাথে৷ তবুও কেনো জানি কোনো প্রপোজাল ই আসেনা বাড়িতে
জাযাকুমুল্লহু খইর

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

উত্তর দেওয়ার আগে আমি আপনার ধৈর্য, সংগ্রাম এবং দ্বীনের প্রতি আপনার আন্তরিকতাকে স্যালুট জানাই। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি হানাফি ফিকহ ও উলামায়ে কেরামের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করব, ইনশাআল্লাহ।

১. অতীতের সম্পর্ক ও তাওবার বাস্তবতা

প্রথমত, আপনি যে সম্পর্কটি ৪ বছর আগে ভেঙে দিয়েছেন এবং ৩ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ রাখেননি, এটি একটি বড় সাফল্য। ইসলামে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক (গায়রে মাহরামের সাথে) সম্পূর্ণ হারাম। আপনি এটি ত্যাগ করেছেন এবং তাওবা করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا "বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)

আপনার তাওবা কবুল হয়েছে বলে আশা করা যায়, কারণ আপনি তা আন্তরিকভাবে করেছেন এবং এখনও দ্বীনের উপর অটল থাকার চেষ্টা করছেন। অতীতের সেই সম্পর্ককে আপনি "ভালোবাসা" হিসেবে দেখলেও, ইসলামী দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি পরীক্ষা ও গুনাহ, যা আপনি কাটিয়ে উঠেছেন।

২. বর্তমান মানসিক অবস্থা ও "ভুলে যাওয়ার" চেষ্টা

আপনি বলেছেন যে, আপনি তাকে পুরোপুরি ভুলতে পারছেন না এবং মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়। এটি একটি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা। ৪ বছরের সম্পর্কের স্মৃতি একদিনে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবে, এই স্মৃতিগুলোকে আপনি আপনার "নফসের" দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা খুবই ভালো দিক।

আপনার উচিত:

  • দৃঢ় সংকল্প: এই স্মৃতিগুলোকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন না। শয়তান এই স্মৃতিগুলোকে ব্যবহার করে আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে চায়। যখনই এই চিন্তা আসবে, তখনই "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
  • বিবাহের উদ্দেশ্য: আপনি নিজেই লিখেছেন, বিবাহ আপনার কাছে একটি দায়িত্ব এবং সন্তানদের জন্য উপযুক্ত বাবা পাওয়ার মাধ্যম। এটি একটি অত্যন্ত সঠিক ও ইসলামসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি। আপনার লক্ষ্য যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাই আপনার পছন্দও হওয়া উচিত দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্র।
  • মনের অস্থিরতা: "একবেলা ভালো থাকি তো আরেক বেলা মনটা খারাপ থাকে" - এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর অর্থ এই নয় যে, আপনার ঈমান দুর্বল। বরং এটি একটি পরীক্ষা। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষতি দিয়ে। আর আপনি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন।" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৫)

৩. ইস্তেখারা ও আমলের ব্যাপারে আপনার ধারণা

আপনি ইস্তেখারা পড়েছেন এবং পড়ছেন, কিন্তু মন স্থির হচ্ছে না। এটি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ইস্তেখারা মানে এই নয় যে, স্বপ্নে সরাসরি উত্তর পাওয়া যাবে বা মনে এমন একটি অনুভূতি আসবে যে, "এটাই সঠিক"। ইস্তেখারার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা। এর ফলাফল অনেক সময় ধীরে ধীরে আসে। যেমন, কোনো পাত্রের ব্যাপারে আপনার মন থেকে আগ্রহ কমে যাবে, অথবা কোনো বাধা সৃষ্টি হবে, অথবা আপনার মন কোনো একদিকে ঝুঁকে যাবে।

আপনি যে আমলগুলো করছেন (দরুদ, সূরা ক্বাসাসের ২৪ নং আয়াত, সূরা ফুরকানের ৭০ নং আয়াত) এগুলো খুবই উত্তম। তবে, মনে রাখবেন, আমলের পাশাপাশি আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা জরুরি। তাওয়াক্কুল মানে হলো, কারণ (সব উপায়) করার পর ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া। আপনি আপনার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, এখন ফলাফল আল্লাহর হাতে।

৪. তাকে প্রপোজাল দেওয়া বা বিয়ের সিদ্ধান্ত

এটি আপনার প্রশ্নের মূল বিষয়। আপনি তাকে বিয়ে করতে চান না, কারণ তার দ্বীনদারির অভাব। অথচ তাকে ভুলতেও পারছেন না। এই দ্বিধা থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী দিকনির্দেশনা হলো:

  • দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দিন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তখন তাকে বিয়ে করিয়ে দাও। যদি তোমরা তা না কর, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হবে।" (তিরমিজি: ১০৮৪, ইবনে মাজাহ: ১৯৬৭)

এই হাদিসের আলোকে, দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রবান পাত্রই বিয়ের জন্য উত্তম। আপনি নিজেই লিখেছেন, তার মধ্যে দ্বীনদারির অভাব রয়েছে এবং সে হতাশাচর্চা করে, যা আপনার অপছন্দ। তাই, দ্বীনদারির দিক থেকে তাকে উপযুক্ত মনে না হলে, তার সাথে বিয়ে না করাই আপনার জন্য এবং আপনার ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য উত্তম।

  • অতীতের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ে: ইসলামে বিয়ের পূর্বে নারী-পুরুষের সম্পর্ক রাখা হারাম। আপনি যদি তাকে বিয়ে করেন, তাহলে সেই হারাম সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ে হবে। এটি আদৌ উচিত হবে না। বরং, আপনি যদি মনে করেন সে এখন দ্বীনদার হয়েছে, তাহলে তার পরিবারের কাছে নিয়ম অনুযায়ী (মাহরামের মাধ্যমে) প্রস্তাব পাঠাতে পারেন। তবে, আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, তার মধ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই, বরং সে আপনার বান্ধবীদের মাধ্যমে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করেছে, যা তার চরিত্রের দুর্বলতা প্রমাণ করে।
  • "তাকে ঠকানো" হওয়ার আশঙ্কা: আপনি যদি তাকে বিয়ে করেন, অথচ আপনার মন থেকে তার প্রতি ভালোবাসা না থাকে এবং আপনি তাকে শুধু "ভালোবাসার স্মৃতি" বা "দুর্বলতা" থেকে বিয়ে করেন, তাহলে সেটি তার সাথে এবং নিজের সাথে প্রতারণা হবে। বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন, যা ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। আপনি যদি মনে মনে অন্য কাউকে নিয়ে ভাবেন, তাহলে তা বৈবাহিক জীবনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।
  • সে কি আপনাকে মনে রাখবে? আপনি লিখেছেন, "সে আমাকে মনে রাখার সম্ভাবনা ৫০/৫০"। এটি একটি অনুমান মাত্র। বিয়ের সিদ্ধান্ত অনুমানের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। বরং, বাস্তবতা ও দ্বীনদারির উপর নির্ভর করা উচিত। তার রাগ ও ক্ষোভের কথা উল্লেখ করেছেন। এই অবস্থায় তার সাথে বিয়ে করা আপনার জন্য এবং তার জন্য উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

৫. করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা

আপনার জন্য করণীয় হলো:

১. আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করুন: আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন (সম্পর্ক ছিন্ন করা, তাওবা করা, দ্বীনের উপর থাকা)। এখন বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র খোঁজার দায়িত্ব আপনার পরিবারের। আপনি এবং আপনার পরিবার দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রবান পাত্র খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, তিনি অবশ্যই উত্তম ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। নিশ্চয় আল্লাহ তার কাজ সম্পন্ন করবেন। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।" (সূরা আত-তালাক: ৩)

২. অতীতের সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণরূপে মন সরান: তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ বা প্রস্তাব দেওয়ার চিন্তা বাদ দিন। আপনার বান্ধবীদের মাধ্যমেও কোনো বার্তা পাঠাবেন না। এই সম্পর্কটি ছিল হারাম, তাই এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ৩. দ্বীনদার পাত্রের সন্ধান করুন: আপনার পরিবারকে বলুন, তারা যেন দ্বীনদার, নামাজি, সচ্চরিত্রবান এবং ধৈর্যশীল পাত্র খোঁজে। আপনি নিজেও মসজিদের ইমাম বা স্থানীয় আলেমের মাধ্যমে পাত্র খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। ৪. আমল ও দোয়া চালিয়ে যান: আপনি যে আমলগুলো করছেন, তা চালিয়ে যান। সাথে সাথে এই দোয়াটিও পড়ুন:

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا "হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দিন।" (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)

৫. জাদু-সিহরের ব্যাপারে: আপনি লিখেছেন, জাদু বা সিহরের কোনো লক্ষণ নেই। এটি একটি ভালো দিক। তবে, বিয়ে না আসার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন- সময়, উপযুক্ত পাত্রের অভাব, ইত্যাদি। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

৬. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনি তাকে প্রপোজাল দেবেন না। কারণ:

  • তার দ্বীনদারির অভাব রয়েছে, যা আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য।
  • আপনার মন থেকে তার প্রতি ভালোবাসা নেই, বরং এটি একটি পুরনো অভ্যাস ও দুর্বলতা।
  • অতীতের হারাম সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ে করা ইসলামী দৃষ্টিতে উচিত নয়।
  • তার সাথে বিয়ে করলে আপনার বৈবাহিক জীবন সম্ভবত সুখের হবে না, বরং এটি একটি বড় ভুল হবে।

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে এগিয়ে যান। আপনার জন্য উত্তম পাত্র আল্লাহ অবশ্যই পাঠাবেন, ইনশাআল্লাহ। আপনি ধৈর্য ধরুন এবং দ্বীনের উপর অটল থাকুন। আপনার এই সংগ্রামের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।

আখেরি দোয়া: আল্লাহ তায়ালা আপনার ধৈর্য ও সংযমকে কবুল করুন, আপনার জন্য উত্তম পাত্রের ব্যবস্থা করুন এবং আপনার অন্তর থেকে এই কষ্ট দূর করে দিন। আমিন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.