ছেলের বোনের স্বামী কি মেয়েকে দেখতে পারবে দেখা দেওয়া কি জায়েয

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4351
Questioner: Zunaira Parvin
Question Asked: 23 Aug 2026, 01:39 PM
Reviewed & Published: 23 Aug 2026, 02:13 PM
Views: 35
Tokens: 2,889
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ছেলের বোনের স্বামী কি মেয়েকে দেখতে পারবে দেখা দেওয়া কি জায়েয

Answer

ছেলের বোনের স্বামী কি মেয়েকে দেখতে পারবে? দেখা দেওয়া কি জায়েয?

উত্তর

ছেলের বোনের স্বামী মেয়ের জন্য 'গায়রে মাহরাম' (অ-মাহরাম)। তাই মেয়ের জন্য তার সামনে পর্দা করা ফরয এবং তাকে দেখা দেওয়া জায়েয নেই।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ইসলামী পরিভাষায় মাহরাম হলো সেই পুরুষ, যাকে বিবাহ করা চিরতরে হারাম এবং যার সাথে পর্দার বাধ্যবাধকতা নেই। অন্যদিকে, গায়রে মাহরাম হলো সেই পুরুষ, যাকে বিবাহ করা জায়েয এবং যার থেকে পর্দা করা ফরয।

ছেলের বোনের স্বামী (ভগ্নিপতি) মেয়ের জন্য মাহরাম নয়। কারণ:

১. সে মেয়ের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় নয় ২. সে মেয়ের দুধসম্পর্কীয় আত্মীয় নয় ৩. সে মেয়ের বৈবাহিক সম্পর্কের মাহরাম নয়

কুরআন ও হাদীসের দলীল

কুরআন থেকে দলীল:

আল্লাহ তাআলা কুরআনে মাহরাম পুরুষদের তালিকা উল্লেখ করেছেন:

وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ

"এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া। তারা যেন তাদের আভরণ প্রকাশ না করে, তবে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, তাদের (মুসলিম) নারীদের, তাদের দাসীদের... ছাড়া।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

এই আয়াতে মাহরামদের তালিকায় ভগ্নিপতি (বোনের স্বামী) উল্লেখ নেই। তাই তিনি গায়রে মাহরাম।

হাদীস থেকে দলীল:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ

"তোমরা সাবধান! নারীদের কাছে (একাকী) প্রবেশ করা থেকে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৩২)

হানাফী ফিকহের কিতাব থেকে দলীল:

১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):

ইমাম ইবনে আবিদীন রহ.বলেন,

পর্দার বিধান এবং মাহরাম-গায়রে মাহরামের তালিকা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মাহরাম কেবল সেই পুরুষরা যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম — যেমন পিতা, ভাই, চাচা, মামা, শ্বশুর, সৎপিতা, জামাতা (মেয়ের স্বামী), দুধসম্পর্কীয় আত্মীয় ইত্যাদি। ভগ্নিপতি (বোনের স্বামী) এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী):

"মাহরাম হলো সেই ব্যক্তি যার সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম, যেমন পিতা, পুত্র, ভাই, চাচা, মামা, শ্বশুর, জামাতা ইত্যাদি। আর ভগ্নিপতি মাহরাম নয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫:৩২৮)

৩. বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী):

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বেহেশতী জেওরে পর্দার বিধান বর্ণনা করে বলেছেন:

"যে পুরুষদের সাথে বিবাহ হারাম, তাদের সামনে পর্দা করা জরুরী নয়। আর যে পুরুষদের সাথে বিবাহ জায়েয, তাদের সামনে পর্দা করা জরুরী। যেমন: ভাইয়ের স্ত্রী, বোনের স্বামী, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, ফুফাতো ভাই — এরা সবাই গায়রে মাহরাম। এদের সামনে পর্দা করা ফরয।" (বেহেশতী জেওর, বিবাহ অধ্যায়)

৪. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী):

মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম在其ফাতাওয়া উসমানীতে উল্লেখ করেছেন:

"বোনের স্বামী স্ত্রীর বোনের জন্য মাহরাম নয়। তাই স্ত্রীর বোনের সাথে তার দেখা-সাক্ষাৎ ও কথা বলা পর্দার সাথে হতে হবে।" (ফাতাওয়া উসমানী, ২:৩৮৫)

মেয়ের করণীয়:

১. পর্দা করা ফরয — মেয়েকে অবশ্যই ভগ্নিপতির সামনে পূর্ণ পর্দা করতে হবে। ২. দেখা দেওয়া জায়েয নয় — তাকে দেখা দেওয়া বা তার সাথে অবাধে কথা বলা জায়েয নয়। ৩. প্রয়োজনে কথা বলা — সত্যিই প্রয়োজনে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলা যেতে পারে, তবে তা-ও শর্তসাপেক্ষে (কণ্ঠস্বর নরম না করা, প্রয়োজনীয় কথা বলা ইত্যাদি)।

উপসংহার:

ছেলের বোনের স্বামী কি মেয়েকে দেখতে পারবেনা, দেখা দেওয়া জায়েয নয়। তারা একেঅপরের জন্য গায়রে মাহরাম।

মেয়েকে উক্ত ব্যক্তির সামনে পর্দা করতে হবে এবং দেখা-সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পর্দার বিধান মেনে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.