marraige after devorce
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
আমার স্বামী আমাকে তালাক প্রদানের জন্য উকিলের কাছে যান,সেখানে একটি তালাকের নোটিশে স্বাক্ষর করে,যেখানে লিখা ছিলো"আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম"।পরবর্তীতে উকিল তাকে জানায় এ নোটিশ টি তিনমাসে তিনটা পাঠাতে হবে।আমার স্বামীর মূল উদ্দেশ্য ছিলো তালাক হওয়া,তিন তালাক যে হতে পারে,বা এর তাৎপর্য কি সে তা জানতো না।তার ব্যাপারটা ছিলো,উকিল যেভাবে করায়,সেভাবেই হোক।তার স্পেসিফিক কোনো নিয়ত ছিলো না যে তিন তালাক দিবো।
পরবর্তীতে উকিল সেই একই তারিখের একই নোটিশ এর ফটোকপি পরের দুইমাসে দুইবার পাঠায়,এবং আমার স্বামীকে জানিয়ে দেয়।আমার স্বামী জানে যে নোটিশ গিয়েছে।তার মাধ্যমে নতুন তালাকের ঘোষণা হতে পারে,অথবা পূর্বের তালাক ই বহাল থাকবে না এসব ব্যাপারে তার কোনো কনসার্ন ছিলো না।তবে উকিল প্রতিবার একই তালাকের নোটিশ এর ফটোকপি দিয়েছে,যার দ্বারা নতুন কোনো তালাকের লিখিত ঘোষণা হয় নি।আমার যতটুকু স্পষ্ট মনে আছে,প্রথম ও দ্বিতীয় অবগতকরণ নোটিশ, যা মূল তালাকের নোটিশের ফটোকপির সাথে দেয়া হয়েছিলো,তাতেও সেই স্পেসিফিক একটি ডেইটের একবার তালাকের কথাই উল্লেখ করে কাবিন ও ইদ্দতকালীন ভরনপোষণ এর টাকা নিতে বলা হয়েছে।আর আমার স্বামী ও তিন মাসে তিনবার করে নতুন করে তালাক দিচ্ছে এমন চিন্তাও করেনি,মুখে উচ্চারণ ও করেনি।সে জানতো উকিল সেই নোটিশ টি পাঠিয়েছে তিনবার,সেখানে উকিল আসলে কি বুঝাতে পাঠিয়েছে,বা তা দ্বারা কি বুঝানো হচ্ছে তা সে জানতো না।কিন্তু উকিলের দ্বারা আলাদাভাবে নতুন করে তালাক ঘোষণা হয়,এমন কোনো ঘটনা ঘটে নি।ঘটনার তিন বছর পর যখন আমরা আবার বিবাহ করলে,আমি নিজে থেকে কাগজের মাধ্যমে।তিন তালাক হয়ে গিয়েছে কিনা,পুনরায় যাচাই করতে গেলে।দেখি,তিন মাসে একই তালাকের কথা উল্লেখ করে,মূল তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আমার স্বামী এ ব্যাপারে সচেতন ছিলেন না।অর্থাৎ তালাক সম্পাদনের পরে জানা হয়েছে,উকিল কি তিন তালাক দিয়েছিলো না এক তালাক।পরে দেখা যায়,উকিল এক তালাক ই তিনবার রিমাইন্ডার দিয়েছেন।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে,আমার স্বামী জানতেন ,তিন মাসে তিনবার "আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম" লিখা তালাকের নোটিশ যাবে,এটা প্রথম যেদিন তালাক দিয়েছে,তারই কপি কিনা,না নতুন ঘোষণা এসবের কোনোটাই সে আলাদাভাবে চিন্তা করেনি,আবার স্পেসিফিকালি আমাকে তিন বারে তিন তালাক পাঠাচ্ছে তাও চিন্তা করেনি,মুখে তিনমাসে তিনবার উচ্চারণ করে নি। কিন্তু আমার স্বামী এই যে, উকিলের কথায় তিনবার তালাকের নোটিশ টা পাঠাতে সম্মত হলেন,যেখানে লিখা "আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম ",পুরো বিষয় সম্পর্কে জানলেন না,এরজন্য ও কি তিন তালাক হবার সম্ভাবনা আছে?সে তো আর জানতোনা সিওরভাবে যে উকিল তিনমাসে একই তালাকের ফটোকপি দিচ্ছেন,নতুন তালাকের ঘোষণা এ থেকে স্পষ্ট নয়।উকিল এবং সে কেউই একদম খুলে আলোচনা করেনি।উকিল তিনমাসে তিনটা তালাকের নোটিশ পাঠাবে বলতে একই নোটিশ তিনবার পাঠিয়ে আইনীভাবে ঠিক থাকতে চেয়েছিলেন হয়তো।কিন্তু বাংলাদেশের আইনেও একবার নোটিশ পাঠানোর কথাই বলা আছে,অনেকে মনে করেন যে, তিনমাসে তিনবার নোটিশ দিতে হয়।আমার স্বামীর নিজের স্পেসিফিক নিয়ত যে তিন তালাক দিচ্ছি,বা তিন মাসে তিনবার তালাক দিচ্ছি এ ব্যাপারটা না থাকলেও সে সম্মতি জানিয়েছে তিন মাসে সেই নোটিশ টি দেয়ার,যাতে লিখা " আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম",অথচ সে আবার কোনো সংখ্যার উপর গুরুত্ব না দিয়ে কেবল তালাক চাই নিয়তেই ছিলেন।এখন এ ঘটনা প্রথম মাসে ঘটলেও তো তালাক হয়ে যেতো। তাহলে পরবর্তী ২ মাসের ব্যাপারগুলো কে কিভাবে নিবো?আবার সে যদি মনে মনে নিয়ত না থাকা সত্ত্বেও ভুলভাবে ধরে নেয় যে উকিল তিনমাসে তিনটা তালাকের ঘোষণা দিয়েছে,সেটাও তো সঠিক নয়,উকিল তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে যখন প্রতিমাসে তাকে জানিয়েছে ঠিকই,কিন্তু তিনি ও বলেন নাই যে,তা আলাদা তালাকের ঘোষণা না, একই তালাকের নোটিশ এর ফটোকপি, একটা তালাকের কথাই বলা হচ্ছে।অপর দিকে আমার স্বামীকে হয়তো সে সময় তিন তালাক ও দিতে বললে তিন মাসে হয়তো সে রাজি হতো।কিন্তু উকিল তিন তালাক হয় ওমনভাবে কাগজ দেয় নি,তিনি তো একই নোটিশ এর ফটোকপি দিয়েছেন,আবার অবগতকরণ নোটিশ শেষ এর টা তে কি লিখা ছিলো আমি স্পষ্ট মনে করতে না পারলেও আমার খুব দৃঢ়ভাবে মনে পরে, আমি একই তালাকের কথাই পড়েছিলাম।এখনো বিয়ের পরেও আমি ই এসব নিয়ে অনেক চিন্তিত।সে হয়তো মনে করে, এটা অত জটিল না যেভাবে আমি ভাবি।
আমরা দুজন আবার নতুন মোহর ধার্য্য কিরে বিবাহ করেছি।আমাদের বিবাহ কি বৈধ?
মুফতি সাহেব,আমার বিশেষ অনুরোধ, আমাকে এ মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি দিন।আমরা একে অপরকে অনেক ভালোবাসি,সংসার করতে চাই,আবার আমি আল্লাহ কে ও এইক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।আমি আর নতুন নতুন করে বারবার ফতোয়া ও নিতে চাই না।আমাকে সাহায্য করেন।
আরেকটা কথা,তালাকের পর সে যখন আমার কাছে ফেরত আসতে চেয়েছিলো,তখন বাবার অনুমতি ছাড়া আমাদের বিয়ে হয়,আর বিয়েতে স্বাক্ষীও ছিলো একজন। যখন আমি দুটো ব্যাপারেই সিওর হই,তখন আবার বাবার অনুমতি ও ২ জন স্বাক্ষীর উপস্তিতিতে বিয়ে করতে বললে,সে রাজি হয় কিন্তু দেরী করছিলো বিধায়,আমি মিথ্যা বলি যে আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি,২ দিন হয়তো ঠিকমতো কথাও বলি নাই।তারপর সে এসে আবার সহীহ্ ভাবে আমার বাবার অনুমতি এবং আরেকজন মুফতী ও ওনার স্টুডেন্ট এর উপস্থিতিতে তারা স্বাক্ষী হয়ে আমাদের বিয়ে পড়িয়ে দেন।তো।এভাবে মিথ্যা বলে বিয়ে টা একটু আগায়ে আনার কারণে কি বিয়ে টা বাতিল হয়ে যাবে?
যে মুফতী বিয়ে পড়িয়েছিলেন আবার,তিনিই আমাদের বিয়ে ও তালাকের ব্যাপারে ফতোয়া দেন,ও তিনিই বলেন,বাবার অনুমতি নিয়ে আবার বিয়ে করতে।কিন্তু ওনার আচরণ এ আমার মাঝে মাঝে হালকা সন্দেহ হয়,তিনি কি সত্যিই ব্যাপারটা ঠিক করে বুঝেছেন কিনা।
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনার মানসিক অশান্তি দূর করার জন্য আমি ইনশাআল্লাহ এই ফতোয়া প্রদান করছি। আপনি একাধিকবার এই প্রশ্নটিই করে আসছেন। সম্ভবত ওয়াসওয়াসার কারণে এভাবে আপনি বারংবার প্রশ্ন করে আসছেন। প্রত্যেকবার কিছু পরিবর্তন করে প্রশ্ন করছেন। এতেকরে আপনি নিজে পেরেশান হবেন। অযথা নিজের উপর পেরেশানি নিয়ে আসতেছেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
আপনার বিবাহ বৈধ এবং আপনার উপর তিন তালাক পতিত হয়নি। আপনার স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাকটি ছিল একটি মাত্র তালাকে রজ'ঈ (প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাক), এবং উকিল কর্তৃক পরবর্তী দুই মাসে একই নোটিশের ফটোকপি পাঠানোকে নতুন তালাক হিসেবে গণ্য করা হবে না।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
১. তালাকের নিয়ত ও সংখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى" "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই যা সে নিয়ত করে।" (সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)
আপনার স্বামী শুধুমাত্র তালাক দেওয়ার নিয়ত করেছিলেন, তিন তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি। তিনি উকিলকে বলেছিলেন "উকিল যেভাবে করায়, সেভাবেই হোক" - এটি একটি সাধারণ অনুমোদন, যা দ্বারা তিন তালাকের নির্দিষ্ট নিয়ত প্রমাণিত হয় না।
২. একই নোটিশের ফটোকপি পাঠানো:
উকিল প্রথম মাসে যে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন, পরবর্তী দুই মাসে তিনি একই তারিখের একই নোটিশের ফটোকপি পাঠিয়েছেন। এটি নতুন তালাকের ঘোষণা নয়, বরং পূর্বের তালাকেরই স্মারক/রিমাইন্ডার।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"তালাকের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো স্বামীর ইচ্ছা ও নিয়ত। যদি স্বামী তালাক দেওয়ার ইচ্ছা না করে, তবে তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক ঘোষণা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না তা স্পষ্টভাবে তালাকের ইঙ্গিত বহন করে এবং তিনি তা জানতেন।"
৩. উকিলের কর্মকাণ্ড:
উকিল কর্তৃক একই নোটিশের ফটোকপি তিনবার পাঠানোকে তিন তালাক হিসেবে গণ্য করার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ:
- এটি ছিল একই তারিখের একই নোটিশের ফটোকপি
- এতে নতুন কোনো তালাকের ঘোষণা ছিল না
- স্বামী নতুন করে তালাক দেওয়ার নিয়ত করেননি
- স্বামী মুখে তিন তালাক উচ্চারণ করেননি
শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"তালাকের ক্ষেত্রে মূল কথা হলো স্বামীর উচ্চারণ বা লিখিত ঘোষণা এবং তার নিয়ত। যদি কোনো ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেয়, তবে প্রতিনিধি যা করবে তা স্বামীর পক্ষ থেকে গণ্য হবে। কিন্তু যদি প্রতিনিধি স্বামীর অজান্তে বা স্বামীর নির্দেশের বাইরে কিছু করে, তবে তা স্বামীর উপর বর্তাবে না।"
৪. তিন তালাকের শর্ত:
তিন তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজন:
- স্বামীর স্পষ্ট নিয়ত বা উচ্চারণে তিন তালাক দেওয়া
- অথবা একই মজলিসে তিনবার তালাকের উচ্চারণ করা
- অথবা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনবার তালাক দেওয়া (যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় তালাকের পর রজ'ঈ করা হয়েছে)
আপনার ক্ষেত্রে:
- স্বামী একবারই তালাক দিয়েছেন (লিখিতভাবে)
- উকিল একই নোটিশের ফটোকপি পাঠিয়েছেন, যা নতুন তালাক নয়
- স্বামীর তিন তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত ছিল না
৫. আপনার বিবাহের বৈধতা:
যেহেতু শুধুমাত্র এক তালাক পতিত হয়েছে এবং ইদ্দত শেষে আপনি পুনরায় বিবাহ করেছেন, তাই আপনার বিবাহ বৈধ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"অতঃপর যদি সে (স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে তার পর সে তার জন্য বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩০)
যেহেতু এটি ছিল প্রথম তালাক (এক তালাক), তাই ইদ্দত শেষে আপনি পুনরায় একই স্বামীকে বিবাহ করতে পারবেন, যা আপনি করেছেন।
৬. বাবার অনুমতি ও সাক্ষী প্রসঙ্গে:
প্রথম বিবাহটি বাবার অনুমতি ছাড়া এবং একজন সাক্ষী নিয়ে হয়েছিল - এটি শরীয়তসম্মত ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে আপনি বাবার অনুমতি এবং দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে পুনরায় বিবাহ করেছেন, যা সঠিক ও বৈধ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل" "অভিভাবক এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" (সহীহ ইবনে হিব্বান: ৪০৭৮, সুনানে আবু দাউদ: ২০৮৫)
৭. মিথ্যা বলার কারণে বিবাহ বাতিল হবে না:
আপনার মিথ্যা বলা (আত্মহত্যার চেষ্টার কথা) নিশ্চয়ই গুনাহের কাজ, এবং এর জন্য আপনাকে তাওবাহ করতে হবে। কিন্তু এর কারণে বিবাহ বাতিল হবে না। বিবাহের বৈধতা নির্ভর করে বিবাহের শর্তসমূহ পূরণের উপর, মিথ্যা বলার উপর নয়।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
- আপনার উপর এক তালাকই পতিত হয়েছে, তিন তালাক নয়।
- আপনার বর্তমান বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ।
- উকিল কর্তৃক একই নোটিশের ফটোকপি পাঠানোকে নতুন তালাক গণ্য করা হবে না।
- আপনার স্বামীর তিন তালাক দেওয়ার নিয়ত না থাকায় এবং নতুন কোনো ঘোষণা না থাকায় তিন তালাক পতিত হয়নি।
- মিথ্যা বলার কারণে বিবাহ বাতিল হবে না, তবে এর জন্য আল্লাহর কাছে তাওবাহ করুন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ করতে চান, আর যা কঠিন তা করতে চান না।" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)
আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনার বিবাহ বৈধ এবং আপনি আপনার স্বামীর সাথে হালালভাবে সংসার করতে পারবেন। শয়তান যেন আপনাকে এই বিষয়ে কুমন্ত্রণা না দেয়। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং আপনার স্বামীর সাথে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করুন।
والله أعلم بالصواب