পাত্র যদি সেক্যুলার দেশে(অষ্ট্রেলিয়া) থাকে তাহলে তাকে নির্বাচন করা কি ঠিক হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
কাফের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের বিধান
কাফের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি নেই—তা ইসলামী ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের বিস্তারিত মতামত নিম্নরূপ:
ক. স্থায়ী বসবাসের শর্ত:
ইসলামী ফিকহে অমুসলিম দেশে বসবাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে:
১. দ্বীন পালনের স্বাধীনতা: সেখানে যেন নামাজ, রোজা, হিজাব ইত্যাদি পালন করা যায়।
২. দ্বীন রক্ষার নিরাপত্তা: সেখানে যেন নিজের ঈমান ও দ্বীন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
৩. স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত না করা: অর্থাৎ, সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত না করে, প্রয়োজনের কারণে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করা।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, যদি কোনো মুসলিম অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত করে এবং সেখানে দ্বীন পালনে বাধা সৃষ্টি হয়, তবে তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) বা হারাম হতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৬৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫১)
খ. হাদিসের নির্দেশনা:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"আমি প্রত্যেক মুশরিকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি। সুতরাং তোমরা দেখবে, যেখানে মুশরিকরা অবস্থান করছে, সেখানে কোনো মুসলিম যেন রাত না কাটায়।"
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৬৪৫; মুসনাদ আহমাদ, ২/৮৭)
তবে, এই হাদিসটি মূলত এমন অবস্থার জন্য প্রযোজ্য যেখানে মুসলিমদের দ্বীন পালনে বাধা দেওয়া হয় বা তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে। যদি কোনো দেশে মুসলিমরা নিরাপদে দ্বীন পালন করতে পারে এবং নিজেদের ঈমান রক্ষা করতে পারে, তবে সেখানে বসবাস করা জায়েয হতে পারে।
গ. অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপট:
অস্ট্রেলিয়ার মতো সেকুলার দেশে মুসলিমরা সাধারণত নামাজ, রোজা, হিজাব ইত্যাদি পালনে স্বাধীন। সেখানে ইসলামবিরোধী আইন থাকলেও, মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় বিধান পালন করতে পারে। তাই, যদি কোনো মুসলিম সেখানে দ্বীন পালনে সক্ষম হয় এবং নিজের ঈমান রক্ষা করতে পারে, তবে সেখানে বসবাস করা জায়েয হতে পারে, তবে শর্ত হলো—স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত না করা এবং মুসলিম দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা রাখা।
সারসংক্ষেপ ও ফতোয়া
- যদি পাত্র দ্বীনদার হয়,তার ইনকাম যদি হালাল হয়,সেক্ষেত্রে তাকে বিবাহ করতে পারেন।
কাফের দেশে বসবাস প্রসঙ্গে:
- স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত করা মাকরূহ বা হারাম হতে পারে, যদি সেখানে দ্বীন পালনে বাধা থাকে।
- তবে, যদি দ্বীন পালন সম্ভব হয় এবং নিজের ঈমান রক্ষা করা যায়, তবে সেখানে বসবাস করা জায়েয।
- মুসলিম দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা রাখা এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস না করার নিয়ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীন বুঝার এবং পালন করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
দলিলসমূহ:
- সূরা আল-মায়িদা: ২
- সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৭৮
- সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৬৪৫
- রদ্দুল মুহতার, ৪/২৬৩
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫১
- আল-মাবসুত, সারাখসি, ১০/১৫০