বাংলা, ইংরেজি বই কি কাটের নীচে রাখা জায়েজ
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
বাংলা, ইংরেজি বই কি কাতের নীচে রাখা জায়েজ?
প্রশ্নের উত্তর
বাংলা বা ইংরেজি বই কাতের নীচে রাখা জায়েজ কিনা — এ বিষয়ে ইসলামী বিধান হলো:
যদি বইটি কুরআন, হাদীস বা ইসলামী জ্ঞান সংক্রান্ত হয়, তাহলে তা কাতের নীচে রাখা জায়েজ নয়। কারণ এ ধরনের বইয়ে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত বা হাদীসের বর্ণনা থাকে, যা সম্মানের দাবিদার।
যদি বইটি সাধারণ বিষয়ের হয় (যেমন: উপন্যাস, কবিতা, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভাষা শিক্ষা ইত্যাদি) এবং তাতে কোনো আয়াত, হাদীস বা আল্লাহর নাম লেখা না থাকে, তাহলে তা কাতের নীচে রাখা জায়েজ আছে।
তবে উত্তম হলো, যেকোনো বই কাতের নীচে না রেখে উঁচু স্থানে রাখা, কারণ বই জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাহক এবং এর সম্মান করা উচিত।
দলীল ও উল্লেখযোগ্য আলোচনা
১. কুরআন ও হাদীসের সম্মান
কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন:
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ "আর যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, তা তো অন্তরের তাকওয়া থেকে উদ্ভূত।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩২)
২. ইসলামী বইয়ের হুকুম
যে বইয়ে কুরআনের আয়াত, হাদীস বা আল্লাহর নাম লেখা থাকে, তা কাতের নীচে রাখা বা অসম্মানজনক স্থানে রাখা নাজায়েজ। ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ) রদ্দুল মুহতার -এ উল্লেখ করেছেন:
"যে বইয়ে আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত লেখা থাকে, তা ময়লা স্থানে রাখা বা অসম্মান করা জায়েজ নয়।"
৩. সাধারণ বইয়ের হুকুম
সাধারণ বিষয়ের বই (যেমন: বাংলা, ইংরেজি ভাষার সাধারণ বই, বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস ইত্যাদি) যদি তাতে আল্লাহর নাম বা আয়াত না থাকে, তাহলে তা কাতের নীচে রাখা জায়েজ। তবে আদব ও শিষ্টাচার হলো বই সর্বদা সম্মানের সাথে রাখা।
৪. ফাতাওয়া উসমানী ও ইমদাদুল ফাতাওয়া
ফাতাওয়া উসমানী এবং ইমদাদুল ফাতাওয়া -তে উল্লেখ আছে:
"যে কিতাবে কুরআনের আয়াত বা হাদীস লেখা আছে, তা পায়ের নীচে বা অপবিত্র স্থানে রাখা হারাম। আর যে কিতাবে এসব না থাকে, তা রাখা জায়েজ, তবে উত্তম হলো সম্মানের সাথে রাখা।"
৫. হানাফী ফিকহের মূলনীতি
আল-হিদায়া এবং ফাতাওয়া আলমগীরী -তে বলা হয়েছে:
"কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফের প্রতি অসম্মান করা হারাম। যে বইয়ে এসবের উল্লেখ আছে, তা অসম্মানজনক স্থানে রাখা মাকরূহে তাহরীমি।"
গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. বাংলা বা ইংরেজি কুরআনের অনুবাদ — এ ধরনের বইয়ে কুরআনের আয়াতের অনুবাদ থাকে, তাই এগুলোও কাতের নীচে রাখা জায়েজ নয়।
২. ইসলামী বই — যেকোনো ইসলামী বই (যেমন: হাদীসের অনুবাদ, তাফসীর, ফিকহের বই) কাতের নীচে রাখা জায়েজ নয়।
৩. সাধারণ বই — যেসব বইয়ে আল্লাহর নাম বা আয়াত নেই, সেগুলো কাতের নীচে রাখা জায়েজ, তবে আদব হলো উঁচু স্থানে রাখা।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
| বইয়ের ধরন | কাতের নীচে রাখার হুকুম | |---|---| | কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ইসলামী বই | নাজায়েজ | | কুরআনের অনুবাদ (বাংলা/ইংরেজি) | নাজায়েজ | | সাধারণ বই (বিজ্ঞান, ভাষা, সাহিত্য) | জায়েজ (তবে উত্তম হলো না রাখা) |
উপসংহার
সাধারণ বাংলা বা ইংরেজি বই (যাতে আল্লাহর নাম বা আয়াত নেই) কাতের নীচে রাখা জায়েজ আছে। তবে ইসলামী বই বা যেকোনো বইয়ে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত বা হাদীস থাকলে তা কাতের নীচে রাখা জায়েজ নয়। সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো — সব ধরনের বই সম্মানের সাথে উঁচু স্থানে রাখা, কারণ জ্ঞান ও বিদ্যার বাহক হিসেবে বইয়ের সম্মান করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।