মেয়ে বাবা কাজী, আরেকজন সাক্ষী থাকলে বিয়ে হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 377
Questioner: Otre Jahan
Question Asked: 19 May 2026, 08:17 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 08:39 PM
Views: 26
Tokens: 2,872
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মেয়ে বাবা কাজি আর আরেকজন সাক্ষী থাকলে সেই বিয়ে হবে

Answer

উত্তর: বিয়ে শুদ্ধ হবে

প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতি (মেয়ে, তার বাবা, কাজী এবং আরেকজন সাক্ষী) অনুযায়ী বিয়ে শুদ্ধ হবে। নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে এর দলিল ও ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।

১. বিয়ে বৈধ হওয়ার শর্তাবলী (হানাফি মতে)

হানাফি মতে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হওয়া জরুরি:

  • ইজাব (প্রস্তাব)কবুল (গ্রহণ) – বর ও কনের সম্মতিসূচক শব্দ উচ্চারণ।
  • সাক্ষী – দুইজন পুরুষ মুসলিম সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত থাকা।
  • অভিভাবকের অনুমতি – কনের পক্ষ থেকে অভিভাবক (বাবা বা নিকটাত্মীয়) ইজাব প্রদান করতে পারেন, তবে কনের নিজস্ব সম্মতি আবশ্যক।

এখানে কাজী (কাজি) থাকা আবশ্যক নয়। কাজী থাকলে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, কিন্তু তার উপস্থিতি বিয়ের বৈধতার শর্ত নয়। কাজী নিজেও সাক্ষী হতে পারেন, কিন্তু পৃথকভাবে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।

২. বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণ

প্রশ্নে বলা হয়েছে: "মেয়ে, বাবা, কাজী ও আরেকজন সাক্ষী" – অর্থাৎ মোট চারজন ব্যক্তি উপস্থিত। এখানে:

  • বাবা – তিনি কনের অভিভাবক (ওয়ালি) এবং নিজেও একজন সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন। এক্ষেত্রে বাবা ইজাব দিতে পারেন বা সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে পারেন।
  • আরেকজন সাক্ষী – আরেকজন পুরুষ মুসলিম সাক্ষী (বা নারী সাক্ষী) রয়েছেন।
  • কাজী – তিনি এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যক্তি। তিনি সাক্ষী হলেও দুই সাক্ষী পূর্ণ হয়ে যায়; না হলেও বাবা ও অপর সাক্ষীর উপস্থিতি যথেষ্ট।

সুতরাং এখানে দুইজন সাক্ষী (বাবা ও অপর ব্যক্তি) উপস্থিত আছেন, যা হানাফি মতে বিয়ের জন্য যথেষ্ট। কাজী থাকা বা না থাকা বিয়ের বৈধতাকে প্রভাবিত করে না।

৩. দলিল

কুরআন:

وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ
"তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী রাখো।" (সূরা আত-তালাক: ২) – এ আয়াতে সাক্ষীর সংখ্যা দুইজন নির্ধারিত হয়েছে, কাজীর উল্লেখ নেই।

হাদিস:

لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل
"অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় না।" (সুনান দারাকুতনি, হাদিস: ৩৪৫১; শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৫২৩২)

হানাফি কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): "بشرط حضور شاهدين عدلين" – দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি শর্ত। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৫)
  • হেদায়া: "ويشترط حضور شاهدين" – দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতি শর্ত। (হেদায়া, ১/১৯১)
  • ফতোয়া আলমগিরী: "ولا يصح النكاح إلا بشاهدين" – দুইজন সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না। (ফতোয়া আলমগিরী, ১/২৬৭)

হানাফি ফুকাহার বক্তব্য:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন: দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী বিয়ের জন্য যথেষ্ট। (আল-ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবাআ, ৪/৪৮)
  • মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) লিখেছেন: "বিয়ের সময় দুইজন সাক্ষী থাকা ফরজ, কাজী থাকা জরুরি নয়।" (জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২/৩২৫)

৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • বাবা নিজে সাক্ষী হয়ে থাকলে অপর সাক্ষীকে পুরুষ হতে হবে (নারী হলেও এক পুরুষ ও দুই নারী শর্তে কাজ হবে)।
  • মেয়ে (কনে) নিজে ইজাব দিতে পারে অথবা বাবা তার পক্ষে দিতে পারেন। তবে মেয়ের সম্মতি বাধ্যতামূলক।
  • কাজী শুধু পরিচালক হিসেবে থাকলে কোনো সমস্যা নেই, তবে তার অনুপস্থিতিতে বিয়ে শুদ্ধ।

সারসংক্ষেপ

মেয়ে, তার বাবা (অভিভাবক), এক কাজী ও আরেকজন সাক্ষী উপস্থিত থাকা অবস্থায় বিয়ে শুদ্ধ হবে। কারণ বাবা ও অপর ব্যক্তি মিলে দুইজন সাক্ষী পূর্ণ হয়েছে, আর কাজী শুধু বাড়তি ব্যক্তি। হানাফি ফিকহ অনুসারে এটি সম্পূর্ণ বৈধ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.