বিয়েতে মেয়ের বাবা কি সাক্ষী হতে পারে

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 374
Questioner: Otre Jahan
Question Asked: 19 May 2026, 08:07 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 08:44 PM
Views: 31
Tokens: 2,551
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিয়েতে মেয়ের বাবা আর কাজী এই দুইজন সাক্ষী থাকলে বিয়ে হবে ? কাজি কি সাক্ষী থাকতে পাড়ে ?আর মেয়েত বাবা কি সাক্ষী থাকতে পাড়ে ?

Answer

উত্তর:
হানাফি মতে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকা আবশ্যক। سورة البقرة (2:282) এবং হাদিসে সাক্ষীর শর্ত উল্লেখিত হয়েছে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৫৮)।

প্রশ্নের জবাব:
১. মেয়ের বাবা সাক্ষী হতে পারেন?
মেয়ের বাবা যদি তার মেয়ের অভিভাবক (ওয়ালি) হন, তবে তিনি সাক্ষী হতে পারবেন না। কারণ ওয়ালি বিয়ে চুক্তির একজন পক্ষ (contracting party), আর সাক্ষী হতে হলে নিরপেক্ষ তৃতীয় ব্যক্তি হতে হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৫; ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৬৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৮১)। যদি মেয়ের বাবা ওয়ালি না হন (যেমন, অন্য কেউ ওয়ালি), তাহলে তিনি সাক্ষী হতে পারেন। তবে সাধারণত বাবাই ওয়ালি হন, তাই তিনি সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন না।

২. কাজী সাক্ষী হতে পারেন?
কাজী যদি বিয়ে পড়ানোর দায়িত্বে থাকেন, তবুও তিনি সাক্ষী হতে পারেন যদি তিনি নিজে পক্ষ (যেমন ওয়ালি বা বর) না হন। তবে শর্ত হলো, তিনি বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং সাক্ষ্যের যোগ্যতা রাখবেন। (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/২৮৫; আল-হিদায়া, ২/২৯৮)।

৩. শুধু মেয়ের বাবা ও কাজী সাক্ষী থাকলে বিয়ে হবে?
মেয়ের বাবা (ওয়ালি) সাক্ষী হতে না পারায়, তখন একমাত্র কাজী বৈধ সাক্ষী থাকেন। কিন্তু বিয়ের জন্য কমপক্ষে দুইজন বৈধ সাক্ষী প্রয়োজন। তাই শুধু এই দুইজন সাক্ষী রেখে বিয়ে করলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। (শরহু মা‘আনিল আছার, ২/২৬৭; উসুলুশ শাশি, ২/১৫০)।

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:

  • সাক্ষীগণ সুস্থ মস্তিষ্কের, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম ও স্বাধীন হবেন।
  • সাক্ষীগণ বিয়ে চুক্তির পক্ষ হতে পারবেন না।
  • কাজী সাক্ষী হলে তার সাথে আরেকজন পুরুষ বা এক পুরুষ ও দুই নারী সাক্ষী থাকা জরুরি।

সারসংক্ষেপ:
মেয়ের বাবা (ওয়ালি) ও কাজী মিলে দুইজন সাক্ষী হিসেবে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। বাবাকে বাদ দিয়ে অন্য দুইজন বৈধ সাক্ষী রাখতে হবে।

রেফারেন্স:

  • কুরআন: সূরা বাকারা (২:২৮২)
  • সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৫৮
  • রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৫
  • ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৬৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৮১
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/২৮৫
  • আল-হিদায়া, ২/২৯৮
  • শরহু মা‘আনিল আছার, ২/২৬৭

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.