বিবাহ পড়ানোর নিয়ম সম্পর্কিত
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
১। বিয়ে পড়ানোর সঠিক নিয়ম কোনটা?? আমাদের সমাজে প্রায় এমন হয় যে কাজি মেয়ের রুমে গিয়ে মেয়েকে দিয়ে কবুল বলায় এবং সাইন করে নেয় রেজিষ্ট্রেশনে। এমনটা করলে পর্দা নষ্ট হবে না কি??
২। বিয়েতে পিতা থাকা অবস্থায় অন্য কেউ ওলী হলে হবে কি??
৩। আমাকে একজন পরামর্শ দিয়েছেন। বেশি সহজ-সরল হলে সমস্যা। তাই বিয়ের পরে স্বামীকে সব বিষয়ে ছাড় না দেওয়া ভালো। তিনি বললেন স্বামী সবচেয়ে আপন কিন্তু কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাই নিজের দুর্বলতা যেন কোনোভাবেই যেন প্রকাশ না পায়। এখন আমার প্রশ্ন যে আসলে আমার করণীয় কি??এখানে স্বামীকে সকল বিষয়ে ছাড় দেওয়া উচিত কিনা বা কতটুকু ছাড় দিব?? ছাড় বলতে মোহর, কেনাকাটা ইত্যাদি বিষয় বুঝিয়েছেন উনি সম্ভবত। দুঃখিত আসলে আমি গুছিয়ে লিখতে পারছি না। আমার মনে হয় যে, "আমি সর্বোচ্চ সকল জায়েজ বিষয়ে ছাড় দিব ইন শা আল্লাহ। এতে যদি কখনো আমার হক নষ্টও হয় তাহলে তো সমস্যা নাই। আমার দ্বারা কারো হক নষ্ট না হলেই হলো।" আমার এমন ভাবনা কি সঠিক??
Answer
জবাবঃ- بسم الله الرحمن الرحيم
(০১) প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পর্দা নষ্ট হবে। মেয়ের কন্ঠস্বর শোনা বা দেখা কোনোটিই কাজীর জন্য জায়েজ নেই। এসবই ইসলামে পরিত্যাজ্য।
ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা- ১ বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।
২ উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
وَ اسۡتَشۡہِدُوۡا شَہِیۡدَیۡنِ مِنۡ رِّجَالِکُمۡ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ یَکُوۡنَا رَجُلَیۡنِ فَرَجُلٌ وَّ امۡرَاَتٰنِ مِمَّنۡ تَرۡضَوۡنَ مِنَ الشُّہَدَآءِ اَنۡ تَضِلَّ اِحۡدٰىہُمَا فَتُذَکِّرَ اِحۡدٰىہُمَا الۡاُخۡرٰی
আর তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ, অতঃপর যদি দু’জন পুরুষ না হয় তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ কর, যাতে স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুলে গেলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুরা বাকারা ২৮২)
হাদিস শরিফে এসেছে,
لَا يَجُوزُ نِكَاحٌ، وَلَا طَلَاقٌ، وَلَا ارْتِجَاعٌ إِلَّا بِشَاهِدَيْنِ
‘রাসূল (সা.) বলেছেন, দুইজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, তালাক ও ফিরিয়ে আনা বৈধ হবে না।’ [মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস: ১০২৫৪]
قوله صلى الله عليه وسلم : ( لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل ) رواه البيهقي من حديث عمران وعائشة ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (7557)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)] ۔ ৩ ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।
উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।
উপরোক্ত তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে বিবাহ হবে,অন্যথায় বিবাহ হবেনা। , বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষীর সামনে পাত্র/পাত্রি বা তার উকিল প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে।
(০২) পিতার অনুমতিতে হলে হবে।
(০৩) মোহর এটি আপনার অধিকার, এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণই আপনার ইচ্ছাধীন বিষয়।
আপনি চাইলে ছাড় দিতে পারেন নাও দিতে পারেন।
তবে বিয়ের আগে প্রচলিত কেনাকাটা এগুলো স্বামীর উপর আবশ্যক নয়। তাই স্বামী যদি কেনাকাটা নাও করে দেয়, স্বামীকে চাপ দেওয়ার কোন বৈধতা নেই।
উল্লেখ্য বিবাহের পর আপনার ভরণপোষণ, প্রয়োজনীয় পোশাক এর ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। সেক্ষেত্রে বিবাহের পর এসব কিছু যদি জরুরতের সীমারেখার ভেতর থেকেও স্বামী পূরণ না করে, তাহলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে।