আমার এখন কী করণীয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3236
Questioner: Sadia Hossain
Question Asked: 30 Jul 2026, 12:14 AM
Reviewed & Published: 30 Jul 2026, 12:50 AM
Views: 35
Tokens: 5,878
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মেয়ে। একজন ছেলে কে আমি পছন্দ করতাম, সেও করতো। দুই বছর পূর্বে আমার পিতা মাতা কে না জানিয়ে তাকে সাক্ষী সমেত কাবিন সহ বিয়ে করেছিলাম কারণ আমার মা বাবা তার সাথে বিবাহ দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু বিবাহের পর আমাদের সহবাস হয়নি। সেই ছেলে আমার বাবা মায়ের ভয়ে আমাকে স্ত্রী হিসেবে অসশিকার করে এবং অন্যত্র বিবাহ করে ও আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় । কিন্তু সে আমাকে কখনো মৌখিক তালাক দেয়নি। এখন দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। আমার বাবা মা তাঁদের পছন্দের ছেলের সাথে আমার বিবাহ দিতে চায়। এমতবস্থায় আমি উনাদের বলেছি তোমরা, আমার পূর্বের স্বামীর থেকে আমাকে ডিভোর্স নিয়ে দাও তারপর অন্যত্র বিয়ে দাও নাহয় আমার দ্বিতীয় বিয়েটা বৈধ হবে না কারণ আমাকে তো কখনো তালাক দেয়া হয়নি। কিন্তু উনারা বলছেন আমার প্রথম বিয়েটা কোনো বিয়ে না। তালাক নিয়ে লাগবে না। তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? আমি কী তালাক না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করবো?

Answer

উত্তর:
প্রথমত, আপনাদের যে বিবাহটি আপনারা পিতা-মাতার অমতে ও অজ্ঞাতে সম্পন্ন করেছেন, তা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হয়েছে কি-না, তা নির্ভর করছে সাক্ষী ও ইজাব-কবুলের সঠিকতার উপর। যেহেতু আপনি বলেছেন যে, “সাক্ষী সমেত কাবিন সহ বিয়ে করেছিলাম”, তাই যদি দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন এবং ইজাব-ও-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তাহলে এটি একটি সহীহ বিবাহ বলে গণ্য হবে। পিতার অনুমতি না থাকলেও ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে বিবাহটি সহীহ। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী)

আপনার স্বামী যদি আপনাকে মৌখিক কিংবা লিখিত কোনো তালাক না দিয়ে থাকে এবং লিভিং টুগেদার না করলেও বিবাহটি টিকে আছে। যেহেতু তালাক দেওয়া হয়নি, তাই আপনারা এখনও স্বামী-স্ত্রী।

দ্বিতীয় বিবাহ করার শর্ত:
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে আপনার প্রথম স্বামী তালাক না দেয় অথবা ফাসখ-ই-নিকাহ (বিচ্ছেদের ফরমান) জারি না হয়, ততক্ষণ আপনি দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন না। কেননা একই সময়ে দুই স্বামী থাকা নারীর জন্য হারাম।

আপনার বাবা-মায়ের ধারণা:
তারা বলছেন, “প্রথম বিবাহ কোনো বিবাহ না”—এটি ভুল ধারণা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লিখিত বিবাহ বৈধ হওয়ায় তালাক বা ফাসখ ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা জায়েজ নয়।

আপনার করণীয়:
১. প্রথম স্বামীর সাথে যোগাযোগ করুন: তাকে বোঝান যে, আপনাকে তালাক দেওয়া তার দায়িত্ব। সে যদি তালাক দিতে রাজি হয়, তাহলে তালাক গ্রহণ করে ইদ্দত (তিন মাসিক) পালন করুন। (এক্ষেত্রে যেহেতু সহবাস হয়নি, তাই ইদ্দত না-ও হতে পারে, তবে অধিকাংশ ফকীহের মতে সহবাস না হলে ইদ্দত দুই মাস বা ততোধিক নয় বরং সহবাস না হলে কোন ইদ্দত নেই—বিস্তারিত জানতে আলেমের পরামর্শ নিন।)
২. যদি যোগাযোগ অসম্ভব হয়: তাহলে স্থানীয় ইসলামী আদালত বা ইসলামী বিচারকের (Qazi) কাছে গিয়ে ‘ফাসখ-ই-নিকাহ’ (বিচ্ছেদ) এর আবেদন করুন। কারণ স্বামী আপনাকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র বিবাহ করেছে এবং আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, এটি ‘ফাসখ’-এর ভিত্তি হতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া শামী)
৩. বাবা-মা’কে বুঝান: তাদেরকে বোঝান যে, কুরআন হাদীস অনুযায়ী তালাক বা ফাসখ ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ অবৈধ হবে এবং তা যিনা (ব্যভিচার) হিসেবে গণ্য হবে। আপনার উচিত তাদেরকে জানানো যে, আপনি এই ব্যাপারে ফিকহী পরামর্শ চেয়েছেন এবং আপনাকে অবশ্যই প্রথম বিবাহ থেকে মুক্তি পেতে হবে।

শেষ সিদ্ধান্ত:
তালাক না নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করাটা হারাম ও জায়েজ নয়। তাই আপনি কোনো অবস্থাতেই তালাক ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করবেন না। বরং প্রথম স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করুন; অন্যথায় ইসলামী আদালতের মাধ্যমে ফাসখ করিয়ে নিন।

উল্লেখ্য:

  • আপনার প্রথম বিবাহ যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন না হয়েও থাকে (যেমন সাক্ষী না থাকে), তবুও শুধু মৌখিক তালাকের দাবি না করে ইমাম বা বিচারকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করাই উত্তম।
  • আল্লাহ ভয় করুন: জানা সত্ত্বেও যদি আপনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে তা হারাম ও পাপ হবে।

সাথে থাকা কিতাবের রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (كتاب النكاح)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (الفصل الثالث في بيان أولياء النكاح)
  • রদ্দুল মুহতার (باب الطلاق و الفسخ)
  • বেহেশতি জেওর (বিবাহ-তালাক অধ্যায়)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.