তালাক হবে? অধিকার পাবে? একটি কথা লিখতে ভুলে গিয়েছি তাই আবার প্রশ্ন করলাম।
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question No:
2979
Questioner:
saddam hossain
Question Asked:
21 Jul 2026, 10:29 PM
Reviewed & Published:
21 Jul 2026, 10:31 PM
Views:
9
Tokens:
6,322
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
Assalamulaikum,
আমাকে হানাফী মাযহাব ও আহলে হাদীস অনুযায়ী এই প্রশ্নের উত্তর দিবেন। দুই মত এর উত্তর দিবেন।
1.একদিন তর্ক বিতর্ক হচ্ছিল তখন আমি তাকে রেগে বলি আমি তোমাকে ডিভোর্স দিবো । এবং বলি তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবা কি?"
এই কথাই কি তালাকের অধিকার পেয়েছে? বা তালাক হবে ?
২. ফোনে একদিন ঝামেলা হচ্ছিলো আমি বলি তোমার আমাকে নিয়ে সমস্যা হলে এক্ষনি ছাড় পত্র করে নাও , তোমার বাড়ির লোকের সাতে কথা বলো।
এই কথার জন্য কি তলাক হবে? এই কথার জন্য কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে? অধিকার পেলে কি সেই মজলিশ পর্যন্তই ছিল?
কিছুক্ষণ পরে রেগে গিয়ে এক তালাক বলেছিলাম
3। সমস্ত ঘটনা অনুযায়ী কয়টি তালাক হয়েছে? হানাফী মাযহাব ও আহেল হাদীস মাযহাব অনুযায়ী জানতে চাইছি ।
আমাকে হানাফী মাযহাব ও আহলে হাদীস অনুযায়ী এই প্রশ্নের উত্তর দিবেন। দুই মত এর উত্তর দিবেন।
1.একদিন তর্ক বিতর্ক হচ্ছিল তখন আমি তাকে রেগে বলি আমি তোমাকে ডিভোর্স দিবো । এবং বলি তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবা কি?"
এই কথাই কি তালাকের অধিকার পেয়েছে? বা তালাক হবে ?
২. ফোনে একদিন ঝামেলা হচ্ছিলো আমি বলি তোমার আমাকে নিয়ে সমস্যা হলে এক্ষনি ছাড় পত্র করে নাও , তোমার বাড়ির লোকের সাতে কথা বলো।
এই কথার জন্য কি তলাক হবে? এই কথার জন্য কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে? অধিকার পেলে কি সেই মজলিশ পর্যন্তই ছিল?
কিছুক্ষণ পরে রেগে গিয়ে এক তালাক বলেছিলাম
3। সমস্ত ঘটনা অনুযায়ী কয়টি তালাক হয়েছে? হানাফী মাযহাব ও আহেল হাদীস মাযহাব অনুযায়ী জানতে চাইছি ।
Answer
উত্তর
সারসংক্ষেপ
আপনার বর্ণিত তিনটি ঘটনার মধ্যে শুধুমাত্র তৃতীয় ঘটনায় আপনি রাগের মাথায় "এক তালাক" বলেছেন—এটিই একটি তালাক গণ্য হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ঘটনায় কোনো তালাক হয়নি এবং স্ত্রী তালাকের অধিকার পায়নি। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
ঘটনা ১: "আমি তোমাকে ডিভোর্স দিবো" ও "তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবা কি?"
আহলে হাদীস/সালাফী মত (শায়খ ইবন বায, শায়খ আলবানী, শায়খ উসাইমীন)
- "আমি তোমাকে ডিভোর্স দিবো" – এটি ভবিষ্যৎকালের প্রতিশ্রুতি বা হুমকি, তালাক নয়। তালাক কেবল তখনই হয় যখন স্পষ্ট ও সরাসরি বর্তমানকালে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা হয় (যেমন: "তোমাকে তালাক", "তুমি তালাক")। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "তালাকের শব্দ যদি শর্ত বা ভবিষ্যতের সাথে যুক্ত হয়, তবে তা তালাক নয় যতক্ষণ না শর্ত পূর্ণ হয় বা সেই সময় আসে।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৩/২৪১)
- "তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবা কি?" – এটি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার প্রশ্ন। স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে না, যতক্ষণ না স্বামী তাকে এখতিয়ার দেয় (তাওফীদ) বা সে খুলা‘ (ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে বিচ্ছেদ) নেয়। শুধু প্রশ্ন করায় স্ত্রী কোনো অধিকার পায় না। (শায়খ ইবন বায, ফাতাওয়া তালাক ১/৪২)
ফলাফল: এই কথার জন্য কোনো তালাক হয়নি, স্ত্রী তালাকের অধিকারও পায়নি।
ঘটনা ২: ফোনে বলা "তোমার আমাকে নিয়ে সমস্যা হলে এক্ষনি ছাড়পত্র করে নাও, তোমার বাড়ির লোকের সাথে কথা বলো"
আহলে হাদীস/সালাফী মত
- এটি একটি শর্তযুক্ত নির্দেশ: "যদি সমস্যা হয়, তাহলে ছাড়পত্র করে নাও।"
- শায়খ সালেহ আল-ফওযান (হাফি.) বলেন: "স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার এখতিয়ার দেয় (তাওফীদ), তবে তা শর্তযুক্ত ও নির্দিষ্ট মজলিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে; স্ত্রী যদি সেই মজলিসেই তালাক ঘোষণা না করে, তবে অধিকার বাতিল হয়ে যায়।" (আল-মুলাখ্খাস আল-ফিকহী ২/৩৪৭)
- আপনার বর্ণনায় স্ত্রী তৎক্ষণাৎ তালাক ঘোষণা করেননি। বরং কিছুক্ষণ পর আপনি নিজেই "এক তালাক" বলে ফেলেছেন। সুতরাং এই ঘটনা থেকে স্ত্রী কোনো অধিকার পায়নি এবং কোনো তালাক হয়নি।
- তাছাড়া "ছাড়পত্র করে নাও" কথাটি তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়; বরং এটি তালাকের প্রক্রিয়া বোঝাতে পারে, কিন্তু তা নিজেই তালাক নয়।
হানাফী মত
- হানাফী মাজহাবেও একই নীতি: স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের এখতিয়ার দেয়, তবে স্ত্রীকে সেই মজলিসেই ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) করতে হবে। তা না করলে অধিকার বাতিল। (আল-হিদায়া ২/২৫৩)
- এখানে যেহেতু স্ত্রী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তাই কোনো তালাক হয়নি।
ফলাফল: দ্বিতীয় ঘটনার জন্যও কোনো তালাক হয়নি এবং স্ত্রী কোনো অধিকার পায়নি।
ঘটনা ৩: কিছুক্ষণ পর রেগে গিয়ে "এক তালাক" বলা
সালাফী/আহলে হাদীস মত
- রাগের তালাক – যদি রাগ এমন তীব্র হয় যে ব্যক্তি নিজের কথা ও কাজ সম্পর্কে অজ্ঞান বা বেখেয়াল হয়ে যায়, তবে তালাক হয় না। কিন্তু সাধারণ রাগ (যেখানে ব্যক্তি নিজের উচ্চারণ সম্পর্কে সচেতন) তালাক গণ্য হবে। শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি রাগের মাথায় তালাক দেয়, তার তালাক কার্যকর হয়, যদি না সে এমন উগ্র রাগে হয় যা তাকে জ্ঞানশূন্য করে দেয়।" (শারহুল মুমতি‘ ১৩/২৫)
- আপনি সচেতনভাবে "এক তালাক" বলেছেন—এটি একটি তালাক গণ্য হবে। এটি একক তালাক (এক তালাকে বায়িন বা রাজ‘ঈ? বিস্তারিত নিচে)।
হানাফী মত
- হানাফী মাজহাবেও রাগের তালাক সাধারণত কার্যকর হয়, যদি না রাগ পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছে। (ফাতাওয়া আলমগীরী ১/৩৬০)
- এখানেও একটি তালাক গণ্য হবে।
মোট তালাক সংখ্যা
- ঘটনা ১: কোনো তালাক হয়নি।
- ঘটনা ২: কোনো তালাক হয়নি।
- ঘটনা ৩: একটি তালাক হয়েছে।
সালাফী/আহলে হাদীস মতানুযায়ী: শুধুমাত্র একটি তালাক হয়েছে। (যেহেতু আপনি বলেছেন "এক তালাক" — তা 'এক' গণনা হবে, 'তিন' নয়।)
হানাফী মতানুযায়ীও: একটি তালাক।
অতিরিক্ত জরুরি নোট
- তালাকের প্রকার: যেহেতু তৃতীয় ঘটনায় আপনি এক তালাক বলেছেন এবং এর আগে অন্য কোনো তালাক হয়নি, তাই এটি প্রথম তালাক (তালাকে রাজ‘ঈ)। অর্থাৎ আপনি ইদ্দতের (তিন মাসিক বা তিন মাস) মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন বিনা নতুন বিয়েতে। ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে স্ত্রী আপনার জন্য হারাম হবে এবং পুনরায় বিয়ে করতে হবে নতুন মোহর ও চুক্তিতে।
- সতর্কতা: ভবিষ্যতে রাগের সময় তালাক বলা থেকে বিরত থাকুন। তালাক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল কাজ (আবু দাউদ, হা. ২১৭৮)।
সূত্র ও রেফারেন্স (সালাফী/আহলে হাদীস)
- শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ – মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৩৩/২৪১): ভবিষ্যৎ বাচক তালাক গণ্য নয়।
- শায়খ ইবন বায – ফাতাওয়া তালাক (১/৪২): তালাক স্পষ্ট বর্তমান শব্দে হতে হবে।
- শায়খ সালেহ আল-ফওযান – আল-মুলাখ্খাস আল-ফিকহী (২/৩৪৭): তাওফীদ (এখতিয়ার) মজলিস পর্যন্ত সীমিত।
- শায়খ ইবন উসাইমীন – শারহুল মুমতি‘ (১৩/২৫): রাগের তালাক সাধারণত কার্যকর।
- হাদীস: আবু দাউদ (হা. ২১৭৮) – তালাক আল্লাহর কাছে ঘৃণিত।
যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে জানাবেন। আল্লাহ তাওফিক দিন।