মনে মনে কল্পনা করে যে, সে তার পরিবারের সদস্যদের বলছে 'তালাক হয়ে গেছে' এদ্বারা কি তালাক হবে?
Marriage and Divorce · Shafei
Question
Answer
উত্তর (বাংলা)
আপনার প্রশ্ন: কেউ যদি মনে মনে কল্পনা করে যে সে তার পরিবারের সদস্যদের বলছে "তালাক হয়ে গেছে", এবং কল্পনা করার সময় বা মনে মনে চিন্তা করার সময় এই লাইনটা মুখে উচ্চারণ করে, কিন্তু তার তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত (ইচ্ছা) না থাকে, তাহলে কি বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে?
শাফিঈ মাযহাবের (Fiqh Shafi'i) মত অনুযায়ী উত্তর:
না, এই অবস্থায় বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না। তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
- সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যেমন "তালাক" বা "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" – এগুলি উচ্চারণ করলে নিয়ত না থাকলেও তালাক পতিত হয় (যদি বিবেকবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হন) (আল-মাজমূ', ১৬/২৭৪)।
- কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দ: যেমন "তুমি আমার জন্য হারাম" বা "তালাক হয়ে গেছে" – এগুলি তালাকের জন্য ব্যবহৃত হয় কিন্তু সরাসরি তালাক বোঝায় না। এগুলির জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) অপরিহার্য; নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না (মুগনি আল-মুহতাজ, ৩/২৬৭; নিহায়াত আল-মুহতাজ, ৬/৩২০)।
আপনার বর্ণনায়:
- ব্যক্তি "তালাক হয়ে গেছে" বলেছে – এটি একটি কিনায়া শব্দ, কারণ এটি একটি ঘটনার বিবৃতি, সরাসরি স্ত্রীকে সম্বোধন করে তালাক দেওয়ার ঘোষণা নয়।
- তার কোনো তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল না (সে শুধু কল্পনা করছিল এবং ভুলবশত উচ্চারণ করেছে)।
- তাই শাফিঈ ফিকহ অনুসারে, কিনায়া শব্দে নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না।
অতিরিক্ত তথ্য:
- ইমাম নববী (রহ.) আল-মাজমূ'তে বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি কিনায়া শব্দ উচ্চারণ করে এবং তালাকের নিয়ত না করে, তাহলে তালাক পতিত হবে না" (আল-মাজমূ', ১৬/৩০২)।
সারকথা:
আপনার বর্ণিত ঘটনায় তালাক পতিত হয়নি। বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট থাকবে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কল্পনা বা উচ্চারণ থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ অনিচ্ছাকৃত ভুলেও শব্দ উচ্চারণ করলে যদি তা সরীহ হয় (যেমন "তালাক" বা "আমি তালাক দিলাম") তাহলে তালাক পতিত হতে পারে।
রেফারেন্স (শাফিঈ কিতাব):
- আল-উম্ম (ইমাম শাফিঈ) – তালাক অধ্যায়
- আল-মাজমূ' (ইমাম নববী) – ১৬/২৭৪-৩০২
- মুগনি আল-মুহতাজ (ইমাম শিরবিনি) – ৩/২৬৭
- নিহায়াত আল-মুহতাজ (ইমাম রামলি) – ৬/৩২০
- ফাতহ আল-মুঈন (ইমাম মালিবারি) – তালাক অধ্যায়