পারিবারিক কলহের কারণে কবর স্থানান্তর করা যাবে?

Janazah-Burial · Hanafi

Question No: 2771
Questioner: Sazzad Al Haque
Question Asked: 16 Jul 2026, 04:14 PM
Reviewed & Published: 16 Jul 2026, 04:17 PM
Views: 48
Tokens: 3,192
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
কবর স্থানান্তর করা কি জায়েজ?
পারিবারিক কলহের কারণে কি কারো কবর স্থানান্তর করা যাবে?

Answer

উত্তর: কবর স্থানান্তর করা কি জায়েজ?

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লিখিত বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সাধারণ অবস্থায় কোনো মৃত ব্যক্তির কবর স্থানান্তর করা জায়েজ নয়। তবে কিছু জরুরি ও বৈধ কারণে তা অনুমোদিত হতে পারে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. কবর স্থানান্তরের সাধারণ বিধান:

  • কবর স্থানান্তর করা সাধারণত নাজায়েজ (অনুমোদিত নয়)। কারণ ইসলাম মৃত ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। মৃত ব্যক্তিকে কবর থেকে উত্তোলন করা আল্লাহর প্রতি অসম্মানজনক বলে গণ্য হয়।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অধিকাংশ হানাফি ফকীহের মতে, কবর স্থানান্তর করা জায়েজ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো শরয়ি জরুরত (যেমন: বন্যা, ভূমিধস, বা কবরস্থান সরকারি কাজে লাগার মতো অনিবার্য কারণ) বিদ্যমান থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ২/২৩৪; ফাতাওয়া আলমগিরী, ১/২৫৫)

২. পারিবারিক কলহের কারণে কবর স্থানান্তর:

  • পারিবারিক কলহ বা পারিবারিক দ্বন্দ্ব কোনো শরয়ি কারণ নয় যার ভিত্তিতে কবর স্থানান্তর করা জায়েজ হবে। ফকীহগণ এমন ক্ষেত্রে কবর স্থানান্তর করাকে হারাম ও কবিরা গুনাহ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ এতে মৃত ব্যক্তির প্রতি অসম্মান করা হয় এবং জীবিতদের পারিবারিক কলহ মিটানোর জন্য মৃতকে ব্যবহার করা অন্যায়।
  • হাদিসে এসেছে:
    "লানত করা হয়েছে তাদের যারা কবরস্থানে অহেতুক কাজ করে এবং যারা সেখানে নাপাকি করে।" (মুসলিম, হাদিস: ৯৭৩)
    এখানে অহেতুক কবর খনন বা স্থানান্তরও অন্তর্ভুক্ত।

৩. জরুরি অবস্থায় কবর স্থানান্তরের শর্ত:

যদি নিচের কোনো একটি জরুরি অবস্থা হয়, তাহলে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে কবর স্থানান্তর জায়েজ হতে পারে:
১. বন্যা, ভূমিধস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কবর বিপদগ্রস্ত হলে।
২. সরকারি/জনস্বার্থে জমি অধিগ্রহণ (যেমন: রাস্তা, হাসপাতাল নির্মাণ) হলে।
৩. কবরস্থানটির জায়গা অত্যন্ত সংকীর্ণ হলে এবং অন্য কবরস্থান না থাকলে।
৪. কবরটি গোসল, কাফন ইত্যাদি ছাড়া দাফন করা হলে (যেমন: অজ্ঞাত কারণে) এবং তা অপমান থেকে রক্ষার জন্য।

তবে শর্ত:

  • মৃতদেহের হাড় ও শরীর সম্পূর্ণ অক্ষত থাকতে হবে। পচন ধরলে বা গলে গেলে তা সরানো যাবে না। কারণ এতে মৃতের প্রতি অসম্মান হয়। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৯৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৪৪০)

৪. পারিবারিক কলহের সমাধান কী?

পারিবারিক কলহ মেটানোর জন্য মৃত ব্যক্তির কবর স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ ভুল ও জাহিলিয়াতপূর্ণ কাজ। বরং নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসরণ করা উচিত:

  • জীবিত আত্মীয়দের নিজেদের মধ্যে সালিশ ও মধ্যস্থতা করা।
  • মৃত ব্যক্তির জন্য ইস্তিগফার ও দোয়া করা।
  • প্রয়োজনে দ্বীনি আলেমদের সাহায্য নেওয়া।

৫. ফতোয়া ও প্রমাণ:

  • রদ্দুল মুহতার (২/২৩৪): "কবর স্থানান্তর করা জায়েজ নয়, যদি না কোনো প্রয়োজন থাকে (যেমন: জায়গা সংকীর্ণ হওয়া বা বন্যা)।"
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/২৫৫): "কোনো মৃত ব্যক্তিকে এক কবরস্থান থেকে অন্য কবরস্থানে সরানো নাজায়েজ, তবে যদি জায়গাটি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে ইমাম আবু ইউসুফের মতে জায়েজ।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৪৪০): "পারিবারিক কলহ বা ঝগড়ার কারণে কবর স্থানান্তর করা হারাম। এতে মৃতের অপমান হয় এবং জীবিতদের গুনাহ হয়।"

সারসংক্ষেপ:

পারিবারিক কলহ বা দ্বন্দ্বের কারণে কবর স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।
শুধুমাত্র শরয়ি জরুরতের ক্ষেত্রে (বন্যা, ভূমিধস ইত্যাদি) ইমাম আবু ইউসুফের মতে অনুমতি আছে।
জরুরি অবস্থা ছাড়া কবর খনন ও স্থানান্তর করা গুনাহের কাজ।

পরামর্শ: পারিবারিক কলহের সমাধানের জন্য মৃত ব্যক্তির কবরকে ব্যবহার না করে, জীবিতদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করুন। মৃতের জন্য ইস্তিগফার ও রহমতের দোয়া করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

আল্লাহু আলাম (সবচেয়ে ভালো জানেন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.