বাংলাদেশের সেনাবাহিনী/পুলিশের প্রশিক্ষণে দাড়ি সেভ করার শর্তে চাকরি করা জায়েজ কি না?

Business and Job · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2744
Questioner: Ifrat Jahan
Question Asked: 15 Jul 2026, 04:00 PM
Reviewed & Published: 15 Jul 2026, 04:05 PM
Views: 61
Tokens: 3,946
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বাংলাদেশে বাহিনী র চাকরি গুলোর ট্রেনিংর সময় দাড়ি সেভ করতে হয় পরবর্তী সময়ে আবার পক্ষের অনুমতি নিয়ে ছোট দাড়ি রাখা যায়। এই চাকরি করা কি জায়েজ হবে। এতে কি গুন্নাহ হবে

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করা জায়েজ তবে দাঁড়ি কাটার দরুন এতে গুনাহ হবে। কারণ ইসলামে দাড়ি রাখা পুরুষদের জন্য ওয়াজিব এবং তা কামানো বা সেভ করা হারাম। নিম্নে দলিল ও উলামাদের মতামত উল্লেখ করা হলো:

দাড়ি সংক্রান্ত শরয়ি বিধান:

  • হাদিস:
    নবী ﷺ বলেছেন: "মুশরিকদের বিরোধিতা কর, তোমরা দাড়ি লম্বা কর এবং মোচ ছোট কর।" (সহিহ বুখারি: ৫৮৯২, সহিহ মুসলিম: ২৫৯)
    অন্য হাদিসে এসেছে: "দাড়ি ছেড়ে দাও এবং মোচ ছোট কর।" (সহিহ বুখারি: ৫৪৪২)

  • ফুকাহায়ে কেরামের মত:
    ইমাম আহমাদ, ইমাম শাফি‘ঈ, ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুমুল্লাহ) সহ অধিকাংশ সালাফ ও খালাফের মতে দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং তা কামানো হারাম। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন: "দাড়ি কামানো হারাম এবং এটি ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুশরিকদের রীতি।" (মাজমু‘উল ফাতাওয়া: ২১/১১৮)

চাকরির শর্ত হিসেবে দাড়ি সেভ করার বিধান:

  • কোনো হারাম কাজের শর্তে চাকরি করা জায়েজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
    "তোমরা নেককাজ ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।" (সুরা আল-মায়িদা: ২)
    এখানে দাড়ি সেভ করে প্রশিক্ষণ নেওয়া পাপের সহযোগিতা করার শামিল।

  • শায়খ ইবনে বায (রহ.) বলেন:
    "দাড়ি কামানো হারাম। যে ব্যক্তি চাকরি পাওয়ার জন্য দাড়ি কামায়, সে গুনাহগার হবে। বরং তার উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং এমন চাকরি গ্রহণ করা যা দাড়ি রাখার সুযোগ দেয়।" (মাজমু‘ ফাতাওয়া: ২৩/২৯১)

  • শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:
    "প্রশিক্ষণ বা চাকরির প্রয়োজনে দাড়ি সেভ করা জায়েজ নয়। আল্লাহর হুকুম মানা সবার উপরে। যদি চাকরির শর্তে দাড়ি কামানো আবশ্যক হয়, তবে ওই চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিত। আল্লাহ অন্য রিজিকের ব্যবস্থা করবেন।" (আল-মুনতাকা: ১/২৮৯)

  • শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন:
    "দাড়ি কামানো হারাম কাজ। চাকরি বাঁচানোর জন্য হারাম কাজ করা জায়েজ নয়, কারণ রিজিক আল্লাহর হাতে। তিনি তাকওয়ার পথে রিজিক দেন।" (শারহুল বুখারি: ১/২৪১)

পরবর্তীতে ছোট দাড়ি রাখার অনুমতি:

প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে প্রশিক্ষণের পর অনুমতি নিয়ে ছোট দাড়ি রাখা যায়। কিন্তু এতে করে প্রশিক্ষণকালীন দাড়ি সেভের গুনাহ মাফ হবে না। কেননা গুনাহ তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমেই ক্ষমা হয়, পরবর্তীতে ভালো কাজ করলেই পূর্বের গুনাহ মাফ হয় না যদি না তওবা করা হয়। তবে আপনি যদি প্রশিক্ষণ শেষে অনুমতি নিয়ে দাড়ি রাখেন, তবে তা ভালো কাজ হবে। কিন্তু প্রশিক্ষণের সময় দাড়ি সেভ করা আপনার আমলনামায় পাপ হিসেবে গণ্য হবে।

জবরদস্তির (ইকরাহ) শর্ত:

ইসলামে জবরদস্তির কারণে হারাম কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র প্রাণহানি বা অঙ্গহানির আশঙ্কায়। এখানে চাকরি না পাওয়া বা চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া প্রাণহানির পর্যায়ে পড়ে না। তাই জবরদস্তির বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান।
আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.