ফজরের ফরজ নামাযের পর জায়নামাযে বসে থাকা(সূর্যাদয় পর্যন্ত) সুন্নাহ এমন না?কোনটা সুন্নাহ?আর ফজরের সুন্নাত ও ফরজ নামাযের মধ্যবর্তী সময় শুয়া কি সুন্নাহ?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
ফজরের ফরজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকা সুন্নাহ। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের নামাজের পর ডান কাতে শুয়ে থাকতেন (বুখারি, হাদিস: ১১৫৮; আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৪)। তবে এটি একটি মুস্তাহাব আমল, ওয়াজিব নয়।
১/প্রশ্ন হচ্ছে,ফজরের ফরজ নামাযের পর জায়নামাযে বসে থাকা(সূর্যাদয় পর্যন্ত) সুন্নাহ এমন না?কোনটা সুন্নাহ?আর ফজরের সুন্নাত ও ফরজ নামাযের মধ্যবর্তী সময় শুয়া কি সুন্নাহ?
২/জাপানের কালচারে সম্মান জানানো বা স্বাগত জানানো,ক্ষমা চাওয়ার জন্য মাথা ঝুকে ঝুকে কথা,এইভাবে মাথা ঝুকলে কি শিরক হবে?বা ঈমানের ক্ষতি হবে?
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথম প্রশ্নের উত্তর:
ফজরের ফরজ নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকা সুন্নাহ। এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন: হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের নামাজের পর ডান কাতে শুয়ে থাকতেন (বুখারি: ১১৫৮; আবু দাউদ: ১৩১৪)।
তবে ফজরের ফরজ নামাজের পর জায়নামাজে বসে থাকাও উত্তম (মুস্তাহাব)। কিন্তু উত্তম হলো সুন্নাহ অনুযায়ী ডান কাতে শুয়ে থাকা। কারণ এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিয়মিত আমল ছিল।
ফজরের সুন্নাত ও ফরজের মধ্যবর্তী সময়ে শোয়া সুন্নাহ নয়। বরং ফরজ নামাজের পরই শোয়া সুন্নাহ। সুন্নাত ও ফরজের মাঝখানে শোয়ার কোনো প্রমাণ হাদিসে নেই।
সারসংক্ষেপ:
- ফজরের ফরজের পর ডান কাতে শোয়া = সুন্নাহ (মুস্তাহাব)
- ফজরের ফরজের পর জায়নামাজে বসে থাকা = মুস্তাহাব (কিন্তু উত্তম নয়)
- ফজরের সুন্নাত ও ফরজের মাঝখানে শোয়া = সুন্নাহ নয়, বরং মাকরূহ হতে পারে (নামাজের আদবের পরিপন্থী)
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর:
জাপানের সংস্কৃতিতে সম্মান জানানো, স্বাগত জানানো বা ক্ষমা চাওয়ার জন্য মাথা ঝুঁকিয়ে কথা বলা যদি রুকু বা সিজদার মতো না হয় (অর্থাৎ কোমর পর্যন্ত বা মাটিতে লুটিয়ে পড়ার মতো না হয়), তাহলে তা শিরক নয়। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অমুসলিমদের রীতি অনুসরণ করা অনুচিত। বিশেষ করে যদি এতে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অনুকরণ হয়।
মাথা ঝুঁকানো যদি সিজদার আদলে হয় বা রুকুর মতো হয় (অর্থাৎ মাথা ও কোমর সমান করে নিচু করা), তাহলে তা হারাম এবং শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কারণ রুকু ও সিজদা শুধু আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট।
তবে সাধারণ অভিবাদন হিসেবে সামান্য মাথা নিচু করা যদি স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হয় এবং তাতে কোনো ইবাদতের নিয়ত না থাকে, তাহলে তা জায়েজ হলেও উত্তম নয়। বরং ইসলামী পদ্ধতি সালামের মাধ্যমে অভিবাদন করা উচিত।
সতর্কতা: যে কোনো ধরনের ইবাদত (রুকু, সিজদা) গাইরুল্লাহর জন্য করা শিরক। তাই অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণ অভিবাদনের ক্ষেত্রেও যাতে রুকু বা সিজদার সাদৃশ্য না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানি: ১/২৮৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/২৩০
- রদ্দুল মুহতার: ২/১০
- বাহিশতি জেওর: ২/২০০
- ফাতাওয়া আলমগিরি: ৫/৩২২
والله أعلم بالصواب