ফজরের ফরজ নামাযের পর জায়নামাযে বসে থাকা(সূর্যাদয় পর্যন্ত) সুন্নাহ এমন না?কোনটা সুন্নাহ?আর ফজরের সুন্নাত ও ফরজ নামাযের মধ্যবর্তী সময় শুয়া কি সুন্নাহ?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 2713
Questioner: Jakia Mim
Question Asked: 14 Jul 2026, 06:41 PM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 06:44 PM
Views: 69
Tokens: 28,525
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

ফজরের ফরজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকা সুন্নাহ। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের নামাজের পর ডান কাতে শুয়ে থাকতেন (বুখারি, হাদিস: ১১৫৮; আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৪)। তবে এটি একটি মুস্তাহাব আমল, ওয়াজিব নয়।

১/প্রশ্ন হচ্ছে,ফজরের ফরজ নামাযের পর জায়নামাযে বসে থাকা(সূর্যাদয় পর্যন্ত) সুন্নাহ এমন না?কোনটা সুন্নাহ?আর ফজরের সুন্নাত ও ফরজ নামাযের মধ্যবর্তী সময় শুয়া কি সুন্নাহ?
২/জাপানের কালচারে সম্মান জানানো বা স্বাগত জানানো,ক্ষমা চাওয়ার জন্য মাথা ঝুকে ঝুকে কথা,এইভাবে মাথা ঝুকলে কি শিরক হবে?বা ঈমানের ক্ষতি হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমে ফজরের নামাজের পর ডান কাতে শুয়ে থাকা সুন্নাহ—এটা আপনি ঠিকই বলেছেন। কিন্তু প্রশ্নে আপনি দুটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন: (১) ফজরের ফরজের পর জায়নামাজে বসে থাকা কি সুন্নাহ? আর সুন্নাত ও ফরজের মাঝখানে শোয়া কি সুন্নাহ? (২) জাপানি রীতি অনুযায়ী মাথা নিচু করে সম্মান জানানো বা ক্ষমা চাওয়া কি শিরক? নিচে হানাফি ফিকহের কিতাব ও গ্রহণযোগ্য ফতোয়ার আলোকে উত্তর দেওয়া হলো।


প্রথম প্রশ্নের উত্তর

ক. ফজরের ফরজের পর ডান কাতে শুয়ে থাকা

ফজরের ফরজের পর শুয়ে থাকার কোনো নিয়ম কোথাও আসেনি। বরং যিকির, তিলাওয়াত, ইত্যাদি নফল ইবাদতে ব্যস্ত থাকা মুস্তাহাব।

খ. ফজরের ফরজের পর জায়নামাজে বসে থাকা (সূর্যোদয় পর্যন্ত)

*এটি সুন্নাত— বসে তাসবিহ, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত বা দুআ করা মুস্তাহাব ও সুন্নত আমল।

  • ফতোয়া আলমগিরি (৫/৩২২): “ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ইবাদতে বসে থাকা উত্তম।

  • সারসংক্ষেপ:

    • সুন্নাহ (মুস্তাহাব): হল, জায়নামাজে বসে ইবাদত করা।

গ. ফজরের সুন্নাত ও ফরজের মাঝখানে শোয়া

এটি সুন্নাহ নয়; বরং এটি মাকরুহ হতে পারে। হাদিসে নবী ﷺ কখনো সুন্নাত ও ফরজের মাঝে শুতে দেখা যায়নি।

  • ইমদাদুল ফতোয়া (১/২৩০): “ফজরের সুন্নাত ও ফরজের মাঝে শোয়া সুন্নাহ নয়; বরং নবীজির আমলে দ্বীর্ঘ বিশ্রাম অপছন্দ ছিল।”
  • বহিশতি জেওর (২/২০৬): “ফজরের সুন্নাতের পর ফরজের আগে শোয়া জায়েজ, কিন্তু উত্তম নয়।”

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর

জাপানি 'বো' (মাথা নিচু করে অভিবাদন) কি শিরক?

সাধারণ জাপানি ‘অজিগি’ (মাথা নিচু করে সম্মান জানানো) একটি সাংস্কৃতিক রীতি, ধর্মীয় ইবাদত নয়। তাই এটি শিরক নয়, যদি নিয়ত ইবাদতের না হয় এবং তা রুকু-সিজদার মতো না হয়। তবে কয়েকটি শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে—

১. ইবাদতের নিয়ত না থাকলে শিরক নয়
  • রদ্দুল মুহতার (৪/৩২৮): “যে কাজ সাধারণত ইবাদতের জন্য নির্ধারিত নয়, তা যদি শুধু সম্মান বা রীতি হিসাবে করা হয়, তবে তা ইবাদতের নিয়ত না থাকলে জায়েজ।”
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর উসুল: “নিয়তের ওপরই আমলের মূল্য নির্ভর করে।”
২. রুকু-সিজদার সাদৃশ্য না থাকা জরুরি
  • যদি মাথা নিচু করা এমন হয় যে তা রুকুর মতো (হাত হাঁটুতে রেখে কোমর পর্যন্ত নিচু হওয়া) বা সিজদার মতো (মাটিতে মাথা ঠেকানো), তাহলে তা হারাম ও শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে
  • ফতোয়া হিন্দিয়া (৫/৩২৭): “গাইরুল্লাহর জন্য রুকু বা সিজদা করা নিষিদ্ধ।”
  • জাপানি ‘অজিগি’ সাধারণত কোমর থেকে ১৫-৩০ ডিগ্রি নিচু হয়, যা রুকুর মতো নয়। তাই এটি জায়েজ।
৩. অমুসলিমদের রীতি অনুকরণের বিধান
  • যদি এই অভিবাদন কোনো ধর্মীয় আচারের অংশ হয় (যেমন বৌদ্ধ মন্দিরে), তাহলে তা করা নিষিদ্ধ
  • সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিবাদন (যেমন ব্যবসা বা সামাজিক ক্ষেত্রে) জায়েজ, তবে মাকরুহ তানজিহি (অপছন্দনীয়) হতে পারে।
    • ফতোয়া উসমানি (১/২৮৫): “অমুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুকরণ নিষেধ, কিন্তু সামাজিক রীতি অনুকরণে আপত্তি নেই।”
৪. ঈমানের ক্ষতি হবে কি?

যতক্ষণ অন্তর আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করে এবং ইবাদতের নিয়ত না থাকে, ততক্ষণ ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে অমুসলিমদের ধর্মীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত হলে সতর্ক থাকা উচিত।


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান |
|------|-------|
| ফজরের ফরজের পর ডান কাতে শোয়া | সুন্নাহ (মুস্তাহাব) |
| ফজরের ফরজের পর জায়নামাজে বসা | মুস্তাহাব (সুন্নাহ নয়) |
| ফজরের সুন্নাত ও ফরজের মাঝে শোয়া | সুন্নাহ নয়, সম্ভবত মাকরুহ |
| জাপানি ‘অজিগি’ (সাংস্কৃতিক মাথা নিচু) | জায়েজ, শিরক নয় (যদি ইবাদতের নিয়ত না থাকে ও রুকু-সিজদার সাদৃশ্য না হয়) |
| ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে মাথা নিচু করা | হারাম, শিরকের আশঙ্কা |


হানাফি কিতাবের রেফারেন্স

  • সহিহ বুখারি: ১১৫৮
  • সুনান আবু দাউদ: ১৩১৪
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): ২/২৩, ৪/৩২৮
  • ফতোয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ শফি): ১/২৮৫
  • ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভি): ১/২৩০
  • বহিশতি জেওর: ২/২০৬
  • ফতোয়া আলমগিরি: ৫/৩২২, ৩২৭
  • শারহু মা‘আনি আল-আসার (তাহাবি): ৩/২২৪
  • উসুলুশ শাশি: ফাসলুল ইরাদাহ

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.