স্বামী যদি বলে, “কাবিননামার সব কাজ কমপ্লিট”এখন স্ত্রী কি তালাকের অধিকার পাবে?
Marriage and Divorce · Shafei
Question
বিয়ের প্রায় ৫ মাস পর একদিন স্ত্রী তার স্বামীকে প্রশ্ন করেন, "ইজাব-কবুলের আগে তুমি আমাদের কাবিননামার সব কাজ কমপ্লিট করছিলা নাকি?" জবাবে স্বামী উত্তরে বলেন, "হ্যাঁ"। অথচ বিয়ের দিন কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে (তালাকের অধিকারের ঘর) স্বামী বা কাজি সাহেব কিছুই লেখেননি এবং স্বামী ওই পেজ বা ঘর স্পর্শও করেননি (খালি ছিল)। তারও আগে স্বামী স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে মুখেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি স্ত্রীকে কাবিননামায় কোনো তালাকের অধিকার বা তাফবীদ দেননি।বিয়ের ৪ মাস পর স্ত্রী যখন স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন যে, "ইজাব-কবুলের আগে কাবিননামার সব কাজ কমপ্লিট করছিলা কিনা?" আর স্বামী যখন উত্তরে "হ্যাঁ" বললেন, এর মাধ্যমে কি স্ত্রীকে নতুন করে কোনো তালাকের অধিকার দেওয়া বোঝাবে? বিশেষ করে যেখানে বিয়ের আগের কোনো কাগজের কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে এবং ১৮ নম্বর ঘরটি সম্পূর্ণ খালি ছিল?
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ইজাব-কবুলের আগে তুমি আমাদের কাবিননামার সব কাজ কমপ্লিট করছিলা নাকি?” এবং স্বামী “হ্যাঁ” বলেছেন। এর মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাকের কোনো অধিকার (তাফবীদ) দেওয়া হয়নি। কারণ:
১. তাফবীদ বা তালাকের অধিকার দেওয়ার শর্ত:
শাফিঈ মাজহাবে স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে চান, তবে তা স্পষ্ট ও সরাসরি শব্দে করতে হবে, যেমন: “তুমি নিজেকে তালাক দিতে পার” অথবা “আমি তোমাকে তালাকের ক্ষমতা দিলাম” ইত্যাদি। স্ত্রীর এখতিয়ার পাওয়ার জন্য তার সম্মতিও প্রয়োজন। কেবল কাগজপত্র সম্পূর্ণ করার বিষয়ে “হ্যাঁ” বলা কোনো ইখতিয়ার সাব্যস্ত করে না।
(মুঘনি আল-মুহতাজ, ৪/২৮৪; তুহফাত আল-মুহতাজ, ৮/১৭৪)
২. কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘর খালি থাকা:
বিয়ের দিন কাবিননামার তালাকের অধিকারের ঘরটি খালি ছিল, স্বামী সেটি পূরণ করেননি বা স্পর্শও করেননি। এটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে তিনি স্ত্রীকে তালাকের কোনো অধিকার দেননি। স্বামী আগেই মুখে বলেছিলেন যে তিনি তালাকের অধিকার দেবেন না। তারপর চার মাস পর স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে “হ্যাঁ” বলার দ্বারা সেই পূর্বাবস্থা পরিবর্তিত হয় না।
৩. কাগজপত্র সম্পূর্ণ করার অর্থ:
“কাবিননামার সব কাজ কমপ্লিট করা” বলতে বোঝায় বিয়ের নিবন্ধনের অন্যান্য তথ্য (নাম, ঠিকানা, সাক্ষী ইত্যাদি) পূরণ করা, তালাকের অধিকার দেওয়া নয়। স্বামীর “হ্যাঁ” শুধু সেই তথ্য পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, কোনো নতুন আইনগত অধিকার সৃষ্টি করে না।
৪. শাফিঈ ফিকহের মূলনীতি:
তালাকের ক্ষমতা স্বামীর হাতে থাকে। স্ত্রীকে এই ক্ষমতা দেওয়া একটি স্বতন্ত্র চুক্তি (তাফবীদ), যা স্পষ্ট ইজাব-কবুল ব্যতিরেকে কার্যকর হয় না।
(আল-মাজমু’ শারহ আল-মুহাজ্জাব, ১৭/২৩৪; নিহায়াত আল-মুহতাজ, ৭/১২১)
সিদ্ধান্ত:
প্রশ্নে বর্ণিত “হ্যাঁ” শব্দটির মাধ্যমে স্ত্রী তালাকের কোনো অধিকার পায়নি। তাদের বিবাহ পূর্বের মতোই বহাল আছে। স্ত্রী চাইলে তালাক দিতে পারবে না, বরং প্রয়োজনে স্বামীর তালাক প্রদানের মাধ্যমেই বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে।