বিয়ে বৈধ হওয়ার শর্ত
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
হাদিস শরিফে এসেছেঃ ثلث جدهن جد هزلـهن جد النكاح والطلاق والرجعة
অর্থ : তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা গোস্বায় হোক বা হাসি ঠাট্টায় হোক সর্বাবস্থায় কার্যকরী হয়ে থাকে। বিবাহ্, তালাক ও রজয়াত।” (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ/২৮৪)
প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে বিয়ে বৈধ হবে, তবে তা গুনাহের কাজ। কারণ, ইসলামী ফিকহ অনুসারে বিয়ের বৈধতার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সাক্ষীদের উপস্থিতিতে শুদ্ধভাবে সম্পাদিত হওয়াই যথেষ্ট। অন্তরের নিয়ত বা উদ্দেশ্য বিয়ে বাতিল করে না, যদি না সেটি চুক্তির শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. বিয়ের বৈধতার মৌলিক শর্ত: হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে বিয়ের বৈধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
- ইজাব ও কবুল স্পষ্ট ভাষায় সম্পন্ন হওয়া।
- দু’জন মুসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত থাকা।
- পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বৈবাহিক প্রতিবন্ধকতা না থাকা।
- উভয়ের স্বেচ্ছায় সম্মতি থাকা।
এক্ষেত্রে প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তি যদি ‘কবুল’ বলে এবং সাক্ষী থাকে, তাহলে বাইরের দিক থেকে বিয়ের সব শর্ত পূর্ণ হয়ে যায়। অন্তরের নিয়ত না থাকলেও বিয়ে শুদ্ধ হবে। কারণ, ইসলামী শরিয়তে বিয়ে, তালাক ও মুক্তি এমন গুরুতর বিষয় যা রসিকতার ছলেও করলে তা কার্যকর হয়। হাদিসে এসেছে:
২. মন্দ নিয়তের প্রভাব: যদি কেউ বিয়ের নামে প্রতারণা করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও পরিত্যাগের উদ্দেশ্যে বিয়ে করে, তবে:
- বিয়ে বৈধ হবে, কারণ নিয়তের গোপন বিষয় বিয়ের চুক্তিকে প্রভাবিত করে না।
- তবে সে গুনাহগার হবে, কারণ তার উদ্দেশ্য ছিল নারীর জীবন নষ্ট করা ও প্রতারণা করা। এটি ইসলামে হারাম ও জঘন্য অপরাধ। ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) 'রাদ্দুল মুহতার'-এ বলেন:
"যদি কেউ বিয়ে করে কিন্তু অন্তরে তালাক দেয়ার ইচ্ছা রাখে, তবে বিয়ে শুদ্ধ হবে, কিন্তু তা মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) হবে, যদি তা প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে।" (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৭৩)
৩. কাগজ ছিড়ে ফেলার প্রভাব: বিয়ের বৈধতা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিয়ে মৌখিক চুক্তি ও সাক্ষীর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। তাই কাগজ ছিড়ে ফেলা বিয়েকে বাতিল করে না। বিয়ে অব্যাহত থাকবে এবং স্বামীকে স্ত্রীর সব অধিকার (মোহর, ভরণপোষণ ইত্যাদি) দিতে হবে।
৪. প্রতারণার শিকার স্ত্রীর অধিকার: যদি স্ত্রী জানতে পারে যে স্বামী তাকে প্রতারণা করেছে, তাহলে সে চাইলে খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহবিচ্ছেদ) নিতে পারে বা স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করতে পারে। এছাড়া আদালতে প্রতারণার মামলাও করতে পারে।
হানাফী সূত্রের বক্তব্য
- ফতোয়ায়ে উসমানী (১/৫৭৯): "বিয়ের বৈধতা ইজাব-কবুল ও সাক্ষীর ওপর নির্ভরশীল, নিয়তের গোপন বিষয় নয়।"
- ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৮): "কেউ যদি পরিহাস বা ঠাট্টার ছলে বিয়ে করে, তবুও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়।"
- বেহেশতি জেওর (ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ৩১): "বিয়ের সময় অন্তরে তালাকের ইচ্ছা রাখলে বিয়ে শুদ্ধ, তবে তা সুন্নতের পরিপন্থী।"
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | ফয়সালা | |------|--------| | বিয়ের বৈধতা | বৈধ (হানাফী মতে) | | মন্দ উদ্দেশ্য | গুনাহগার হবে | | কাগজ ছিড়ে ফেলা | বিয়ের ওপর কোনো প্রভাব নেই | | স্ত্রীর জন্য করণীয় | খুলা বা তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ চাইতে পারে |