দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কিত প্রশ্ন

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 251
Questioner: Beauty Café
Question Asked: 17 May 2026, 10:53 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 10:56 PM
Views: 35
Tokens: 3,756
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একটি অত্যন্ত জটিল পারিবারিক পরিস্থিতি যেখানে একজন নারীর প্রথম বিয়ে হয়, স্বামী বিয়ের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে ও সব অস্বীকার করে তালাক না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে ৪ বছর সংসার করার পর সেই স্বামীও দায়িত্ব না নিয়ে চলে যায়। এখন প্রথম স্বামী ফিরে এসে আবার তাকে গ্রহণ করতে চায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত—এ বিষয়ে ইসলামি বিধান জানতে চান। প্রথম স্বামি দায়িত্ব নিতে চেয়েছে তবে শর্ত যে দ্বিতীয় জনের কাছে তালাক নিয়ে আসতে বলেছে। প্রথম স্বামি বলেছে যে দ্বিতীয় এর কাছে তালাক এর পরই বৈধ হবে তার আগে না। ৪ বছর আগে যেমন বিয়ে অস্বিকার করেছিল, ঠিক তেমনই আজই বৈধতা অস্বিকার করে। প্রথম স্বামি এও বলে যে এখন তো অন্য এক জনের তাই তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে আসা লাগবে আর সে তার আগে দায়িত্ব নিতে পারবে না।

Answer

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ। আপনার বর্ণিত পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, তবে ইসলামি ফিকহের সুস্পষ্ট বিধানের আলোকে আমরা সমাধান দিতে পারি। নিচে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ ও ফতোয়া পেশ করছি।

প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বৈধ রয়েছে কি?

প্রথম স্বামী বিয়ের কাগজ ছিঁড়ে ফেলা, বিয়ে অস্বীকার করা এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া—এসব কোনো কাজই তালাক হিসেবে গণ্য হয় না। হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্ট বলা হয়েছে:

"তালাক শুধুমাত্র স্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক শব্দের মাধ্যমে হয়, আর ইঙ্গিত তখনই কার্যকর হয় যখন তা বিবাহ বিচ্ছেদের ইচ্ছা প্রকাশ করে।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৩০)

প্রথম স্বামী যদি সরাসরি "তালাক" বলে কিংবা স্পষ্ট ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে তার বিয়ে এখনও বহাল আছে। তার অস্বীকার ও অদৃশ্য হওয়ার কারণে স্ত্রী নিজে থেকে বিয়ে ভাঙতে পারে না; বরং তার জন্য ইসলামি আদালতে বা কাজীর কাছে ফাসখ (বিচ্ছেদ) চাওয়ার পথ ছিল, তবে তিনি তা করেননি। তাই প্রথম বিয়ে এখনও বলবৎ আছে

দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা:

যেহেতু প্রথম বিয়ে তালাক বা ফাসখ ছাড়া শেষ হয়নি, তাই দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল। হানাফি ফিকহে উল্লেখ আছে:

"যদি কোনো নারী প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করে, তাহলে সেই দ্বিতীয় বিয়ে শূন্য (বাতিল) বলে গণ্য হবে।" (আল-হিদায়া, ২/৩১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৭৬)

সুতরাং দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে যে বিয়ে হয়েছে, ইসলামের দৃষ্টিতে তা কখনোই বৈধ হয়নি। এর দ্বারা স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামীর বৈধ স্ত্রী হননি; বরং এটি ছিল একটি নাজায়েজ সম্পর্ক। তবে এই সম্পর্কের কারণে সন্তান থাকলে তার বংশ পরিচয় দ্বিতীয় স্বামীর দিকে হবে এবং স্ত্রী তার কাছ থেকে মোহর পাবে (কারণ সহবাস হয়েছে)।

বর্তমান অবস্থায় করণীয়:

  1. দ্বিতীয় স্বামী থেকে আলাদা হওয়া: দ্বিতীয় বিয়ে যেহেতু বাতিল, তাই স্ত্রীকে অবিলম্বে দ্বিতীয় স্বামী থেকে আলাদা হতে হবে। কোনো তালাকের প্রয়োজন নেই; বরং তারা পৃথক হয়ে যাবেন। তবে সহবাসের কারণে ইদ্দত পালন করা উচিত (এক হায়েজ বা ৪৫ দিন) যাতে গর্ভাশয় পরিষ্কার হয়। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৫৪২)

  2. প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া: যেহেতু প্রথম বিয়ে এখনও বহাল, তাই স্ত্রী সরাসরি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারেন। প্রথম স্বামী যদি তাকে গ্রহণ করতে চান, তবে তিনিও কোনো শর্ত আরোপ করতে পারেন না। কারণ স্ত্রী তার বৈধ স্ত্রীই রয়েছেন। দ্বিতীয় স্বামীর কাছ থেকে তালাক আনার দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, কারণ সেখানে কোনো তালাক দেওয়ার অবকাশই নেই (বিয়ে বাতিল হওয়ায়)।

  3. প্রথম স্বামীর জন্য নির্দেশ: প্রথম স্বামীকে বুঝিয়ে বলুন যে, তিনি তার স্ত্রীকে এখনই গ্রহণ করতে পারেন। তার আগের দায়িত্বহীনতা ও অস্বীকারের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত। দ্বিতীয় স্বামীর অস্তিত্ব তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে বাধা নয়।

শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রথম স্বামীর শর্তের জবাব:

প্রথম স্বামী বলেছেন, "স্ত্রীকে দ্বিতীয় জনের কাছ থেকে তালাক নিয়ে আসতে হবে, তার আগে আমি দায়িত্ব নিতে পারব না।" এটি একটি ভুল ধারণা। কারণ দ্বিতীয় বিয়েটি আদৌ বৈধ নয়, তাই সেখানে তালাক দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী থেকে পৃথক হয়ে গেলেই যথেষ্ট। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ, কিতাবুন নিকাহ)

সারসংক্ষেপ:

  • প্রথম বিয়ে এখনও বলবৎ।
  • দ্বিতীয় বিয়ে বাতিল, তাই তা ভেঙে ফেলতে হবে।
  • স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী থেকে পৃথক হয়ে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারেন।
  • প্রথম স্বামী কোনো শর্ত না দিয়েই তাকে গ্রহণ করতে বাধ্য (যদি তিনি চান)।

পরামর্শ:

উভয় পক্ষের উচিত আল্লাহর ভয় রাখা এবং দ্বীনের বিধান মেনে চলা। প্রথম স্বামীকে তার আগের গুনাহের জন্য তওবা করতে হবে। দ্বিতীয় স্বামী যদি কোনো দাবি করে (যেমন মোহর বা সন্তানের দায়িত্ব), তাহলে তা স্থানীয় আলেমের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করুন। সবচেয়ে ভালো হয়, কোনো ইসলামি বিচারকের (কাজী) শরণাপন্ন হওয়া।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক পথ বুঝার তাওফিক দান করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.