পৈতৃক ভিটেমাটি থাকলেও নিজস্ব বাড়ি না থাকলে সেখানে গেলে কি কসর নামাজ পড়তে হবে?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 2494
Questioner: Mahmudul Ahsan
Question Asked: 09 Jul 2026, 10:54 PM
Reviewed & Published: 09 Jul 2026, 10:58 PM
Views: 70
Tokens: 4,912
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বর্তমানে আমরা ঢাকায় থাকি। আমাদের পৈতৃক ভিটেমাটি কিশোরগঞ্জে, কিন্তু সেখানে আমাদের নিজেদের থাকার মতো কোনো বাড়ি নেই। কিশোরগঞ্জে গেলে আমরা চাচাদের বাড়িতে থাকি। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জে গেলে কি আমি কসর নামাজ পড়ব, নাকি পৈতৃক ভিটেমাটি থাকার কারণে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নটি পৈতৃক ভিটেমাটি থাকলেও নিজস্ব বসবাসের ঘর না থাকলে কসর পড়ার হুকুম সম্পর্কে। নিম্নে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

যেহেতু কিশোরগঞ্জে আপনার নিজস্ব কোনো ঘর বা স্থায়ী বসবাসের জায়গা নেই, তাই সেখানে গেলে আপনি মুসাফির গণ্য হবেন। সুতরাং, সফরের দূরত্ব (প্রায় ৭৭ কিমি বা তার বেশি) পূর্ণ হলে এবং ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকলে আপনাকে কসর (সংক্ষিপ্ত) নামাজ পড়তে হবে। পূর্ণ নামাজ পড়তে হবে কেবল তখনই, যদি আপনি ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করেন। কেবল পৈতৃক জমি থাকার কারণে এটি আপনার মূল বসবাসস্থল (ওয়াতনে আসলি) গণ্য হবে না।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল

১. ওয়াতনে আসলি (মূল আবাস) কাকে বলে?

হানাফি ফিকহে ওয়াতনে আসলি বলা হয় সেই স্থানকে যেখানে একজন ব্যক্তির স্থায়ী আবাস (ঘর) থাকে, অথবা যেখানে তার স্ত্রী-সন্তান থাকে, অথবা যেখানে সে জন্মগ্রহণ করে বেড়ে উঠেছে এবং সেই স্থানে তার নিজস্ব আবাস বিদ্যমান। (রদ্দুল মুহতার, ২/১১৯; ফাতওয়া শামি, ২/১৭৮)

শর্ত: ওয়াতনে আসলি হওয়ার জন্য ঐ স্থানে নিজস্ব বা পরিবারের স্থায়ী ঘর থাকা জরুরি। শুধু পৈতৃক জমি থাকা যথেষ্ট নয়। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

"ওয়াতনে আসলি হলো সেই স্থান যেখানে ব্যক্তির পরিবার ও ঘর আছে। যদি তার কোনো ঘর না থাকে, তাহলে এটি ওয়াতনে আসলি নয়।"
(রদ্দুল মুহতার, ২/১২০)

২. আপনার অবস্থার প্রয়োগ

  • আপনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন, যা আপনার ওয়াতনে ইকামত (বর্তমান স্থায়ী আবাস)।
  • কিশোরগঞ্জে আপনার পৈতৃক জমি থাকলেও সেখানে নিজস্ব কোনো ঘর নেই। আপনি চাচার বাড়িতে অবস্থান করেন, যা আপনার নিজের স্থায়ী আবাস নয়।
  • তাই কিশোরগঞ্জ আপনার ওয়াতনে আসলি গণ্য হবে না। সেখানে গেলে আপনি মুসাফির (সফরকারী) হবেন।

৩. কসর নামাজের শর্ত

হানাফি মতে, মুসাফিরকে কসর পড়তে হয় যদি:

  • সফরের দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিমি (৪৮ মাইল) বা তার বেশি হয়।
  • গন্তব্যে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে।
  • নিজস্ব কোনো আবাস বা স্ত্রী সেখানে না থাকে।

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিমি (সড়কপথে), যা সফরের দূরত্বে পড়ে। তাই আপনি কসর পড়তে পারবেন, যদি ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা থাকে।

৪. বিশেষ নোট

  • যদি আপনার পিতা বা নিকটাত্মীয়ের (যেমন ভাই) ঘর কিশোরগঞ্জে থাকে এবং আপনি সেই ঘরে পরিবারের সদস্য হিসেবে স্থায়ীভাবে থাকতেন (অর্থাৎ ওই ঘরটিই আপনার পরিবারের আবাস ছিলো), তাহলে সেটি আপনার ওয়াতনে আসলি গণ্য হতে পারত। কিন্তু বর্তমানে আপনি ঢাকায় স্থায়ী হয়েছেন এবং কিশোরগঞ্জে নিজস্ব কোনো ঘর নেই—শুধু চাচার বাড়িতে যাতায়াত করেন—এক্ষেত্রে এটি ওয়াতনে আসলি নয়।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) ও ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) তে একই রকম ফতোয়া পাওয়া যায়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪৮; ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৩৫)

উপসংহার

আপনার জন্য বিধান হলো:

  • কিশোরগঞ্জে ১৫ দিনের কম থাকলে: কসর নামাজ পড়বেন।
  • ১৫ দিন বা তার বেশি থাকলে: পূর্ণ নামাজ পড়বেন (কারণ তখন আপনি মুকিম গণ্য হবেন)।

নিজের পৈতৃক ভিটা শুধু কসর নামাজের ক্ষেত্রে ওয়াতনে আসলি হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়—যতক্ষণ না সেখানে নিজস্ব বসবাসের ঘর বা পরিবারের স্থায়ী আবাস থাকে।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.