আইওএম থেকে প্রকাশিত কিতাবুত তাজবীদ দেখে অনলাইনে কাউকে পড়ানো যাবে কি? এবং বইয়ের পেজ share করার প্রয়োজনে পড়বে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4534
Questioner: Umme Aima0354
Question Asked: 27 Aug 2026, 11:14 AM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 03:24 PM
Views: 39
Tokens: 2,465
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম , আমি যদি আইওএম থেকে প্রকাশিত কিতাবুত তাজবীদ দেখে অনলাইনে কাউকে পড়াতে চাই এবং বইয়ের পেজ share করার প্রয়োজনে পড়ে আমি কি পেজ পাঠাতে পারবো, উস্তাদের কি অনুমতি আছে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে বলব, ইসলামী শিক্ষা প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে নিয়ত যদি খালিস হয় (শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) এবং তাতে কোনো প্রকার ক্ষতি বা অন্যায় না হয়, তবে তা সাধারণত বৈধ। তবে কপিরাইট বা প্রকাশকের অধিকারের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে কপিরাইট ও প্রকাশকের অধিকার:

আধুনিক যুগে কপিরাইট বা বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকার (Intellectual Property Rights) ইসলামী ফিকহের আলোচনায় এসেছে। হানাফি ফিকহের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো লেখক বা প্রকাশকের শ্রম ও পরিশ্রমের বিনিময়ে যে আয় বা অধিকার সৃষ্টি হয়, তা সম্মানযোগ্য। ইসলামী পণ্ডিতগণ (যেমন: মুফতি তাকি উসমানি দামাত বারাকাতুহুম) কপিরাইটকে বৈধ ও সম্মানজনক অধিকার হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ এটি একটি বৈধ চুক্তি ও ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ।

আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর:

১. অনলাইনে পড়ানোর জন্য বই ব্যবহার করা: আপনি যদি বইটি ক্রয় করে থাকেন এবং সেই বই থেকে জ্ঞান অর্জন করে অনলাইনে কাউকে পড়ান, তবে তা সম্পূর্ণ বৈধ। কারণ আপনি বইটি পড়েছেন এবং নিজের জ্ঞান দিয়ে অন্যদের শিক্ষা দিচ্ছেন। এতে কোনো সমস্যা নেই।

২. বইয়ের পেজ শেয়ার করা: বইয়ের পেজ শেয়ার করার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো, প্রকাশকের অনুমতি। সাধারণত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন: আইওএম) তাদের বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করে। তাই সম্পূর্ণ বই বা বইয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ শেয়ার করা প্রকাশকের অধিকার লঙ্ঘন করে। তবে, যদি আপনি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পাঠ বা প্রয়োজনীয় অংশ (যেমন: একটি পেজ) শিক্ষার্থীকে পড়ানোর জন্য শেয়ার করেন, এবং তা প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া না হয়, তবে সেটি সমস্যার কারণ হতে পারে।

হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে সমাধান:

  • রদ্দুল মুহতার (Rad al-Muhtar) এবং ফাতাওয়া হিন্দিয়া (Fatawa Alamgiri) তে বলা হয়েছে, কোনো মুসলিমের সম্পদ বা অধিকার অন্যায়ভাবে হস্তগত করা হারাম। কপিরাইটও একটি বৈধ সম্পদ বা অধিকার। তাই প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া বইয়ের পেজ শেয়ার করা উচিত নয়।

  • মুফতি তাকি উসমানি তার বিভিন্ন ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন, কপিরাইটকৃত বইয়ের ফটোকপি বা ডিজিটাল কপি তৈরি করে বিতরণ করা জায়েয নয়, যদি প্রকাশক তা নিষেধ করে থাকে। তবে, যদি প্রকাশক অনুমতি দেয় বা বইটি ফ্রি ডাউনলোডের জন্য প্রকাশ করে থাকে, তবে তা বৈধ।

আপনার করণীয়:

১. আপনি যদি আইওএম থেকে প্রকাশিত বইটি ক্রয় করে থাকেন, তবে আপনি তা থেকে পড়াতে পারবেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ। ২. বইয়ের পেজ শেয়ার করার আগে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান (আইওএম) এর অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি তাদের অফিসে যোগাযোগ করে জিজ্ঞেস করতে পারেন, "আমি কি শিক্ষার্থীকে পড়ানোর জন্য বইয়ের কিছু পেজ শেয়ার করতে পারি?" ৩. যদি প্রকাশকের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়া যায়, তবে আপনি শিক্ষার্থীকে বইটি ক্রয় করার পরামর্শ দিন অথবা শুধুমাত্র পাঠের মূল বিষয়গুলো নিজের ভাষায় লিখে শেয়ার করুন। এতে কপিরাইট লঙ্ঘন হবে না।

সারসংক্ষেপ: উস্তাদের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া বইয়ের পেজ শেয়ার করা উচিত নয়। তবে, বই থেকে জ্ঞান অর্জন করে অনলাইনে পড়ানো সম্পূর্ণ বৈধ। আল্লাহ তাওফিক দিন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.