দ্বিতীয় স্বামী থেকে তালাক না দিয়ে প্রথম স্বামী গ্রহণ করা যাবে কি
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
249
Questioner:
Beauty Café
Question Asked:
17 May 2026, 10:41 PM
Reviewed & Published:
17 May 2026, 10:54 PM
Views:
33
Tokens:
3,505
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
একটি অত্যন্ত জটিল পারিবারিক পরিস্থিতি যেখানে একজন নারীর প্রথম বিয়ে হয়, স্বামী বিয়ের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে ও সব অস্বীকার করে তালাক না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে ৪ বছর সংসার করার পর সেই স্বামীও দায়িত্ব না নিয়ে চলে যায়। এখন প্রথম স্বামী ফিরে এসে আবার তাকে গ্রহণ করতে চায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত—এ বিষয়ে ইসলামি বিধান জানতে চান। প্রথম স্বামি দায়িত্ব নিতে চেয়েছে তবে শর্ত যে দ্বিতীয় জনের কাছে তালাক নিয়ে আসতে বলেছে। প্রথম স্বামি বলেছে যে দ্বিতীয় এর কাছে তালাক এর পরই বৈধ হবে তার আগে না। ৪ বছর আগে যেমন বিয়ে অস্বিকার করেছিল, ঠিক তেমনই আজই বৈধতা অস্বিকার করে।
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত জটিল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিম্নোক্ত বিধান প্রযোজ্য:
১. প্রথম বিয়ের বৈধতা ও বর্তমান অবস্থা:
- প্রথম স্বামী বিবাহের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে এবং বিবাহ অস্বীকার করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় এবং তালাক না দেওয়ায়, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, বিবাহ ভঙ্গ হয়নি। তাই প্রথম স্বামী এখনও আপনাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করতে পারে না, কারণ সে প্রকাশ্যেই বিবাহ অস্বীকার করেছিল এবং দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেনি। তবে শরিয়তে স্বামীর অস্বীকৃতি বা কাগজ ছেঁড়ার কারণে বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তাই প্রথম বিবাহ এখনও টিকে আছে বলে গণ্য হবে যদি তালাক বা ফাসখ (বিচ্ছেদ) না ঘটে থাকে।
২. দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা ও বর্তমান অবস্থা:
- প্রথম বিবাহ এখনও বিদ্যমান থাকাবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ দেওয়া ইসলামি আইনে জায়েয নয়। যেহেতু প্রথম স্বামী তালাক দেয়নি বা বিবাহ ফাসখ করেনি, তাই দ্বিতীয় বিবাহ সম্পূর্ণরূপে বাতিল (অবৈধ) গণ্য হবে। দ্বিতীয় স্বামীর সাথে ৪ বছর সংসার করা সত্ত্বেও এই বিবাহ শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক হয়েছে, তা জেনা (অবৈধ সম্পর্ক) হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই দ্বিতীয় স্বামী থেকে তালাকের প্রয়োজন নেই, বরং তাদের পৃথক হয়ে যাওয়াই যথেষ্ট। তবে ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) পালন করা জরুরি, যা হায়েজের তিন মাস বা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত।
৩. প্রথম স্বামীর দাবি ও শর্ত:
- প্রথম স্বামী এখন ফিরে এসে ক্ষমা চাচ্ছে এবং দাবি করছে যে দ্বিতীয় স্বামী থেকে তালাক এনে তার কাছে ফিরে আসতে হবে। কিন্তু তার এই দাবি শরিয়তসম্মত নয়, কারণ:
- দ্বিতীয় বিবাহই যদি বাতিল হয়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামী থেকে তালাক নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর ইদ্দত পালন করলেই প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বৈধ সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব।
- প্রথম স্বামী যদি প্রকৃতই তওবা করে থাকে, তবে তাকে অবশ্যই আপনার সাথে পূর্বের বিবাহ পুনরুদ্ধার করতে হবে—অর্থাৎ নতুন করে বিবাহ পড়াতে হবে। তবে তার পূর্বের আচরণ (অস্বীকার, কাগজ ছেঁড়া, দীর্ঘদিন দায়িত্বহীনতা) বিবেচনায় তাকে বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। ইসলামে স্বামীর এমন আচরণ স্ত্রীর জন্য ফাসখ (বিচারকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ) চাওয়ার বৈধ কারণ।
৪. ইসলামি নির্দেশনা ও করণীয়:
- প্রথমে দ্বিতীয় স্বামী থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যান। তার থেকে তালাকের দরকার নেই, বরং ইদ্দত পালন করুন।
- ইদ্দত শেষে আপনি প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করতে চাইলে পুনরায় নতুন বিবাহ করতে হবে—পুরোনো বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে না।
- প্রথম স্বামীর চরিত্র ও সততা মূল্যায়ন করুন। তিনি আগে বিবাহ অস্বীকার করেছেন, তাই তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের আগে দ্বীনদারি ও দায়িত্ববোধ যাচাই করুন। ইসলামে স্বামীর কর্তব্য স্ত্রীর প্রতি ইনসাফ, দায়িত্ব পালন ও ভালো ব্যবহার।
- যদি প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করতে না চান, তাহলে বিচারকের (কাজী/ইমাম) মাধ্যমে ফাসখের আবেদন করুন। তার দীর্ঘদিন দায়িত্বহীনতা ও বিবাহ অস্বীকার করার কারণে আপনার জন্য ফাসখ বৈধ।
৫. গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি নোট:
- প্রথম স্বামী বলছে যে দ্বিতীয় জনের কাছ থেকে তালাকের পরই তাদের সম্পর্ক বৈধ হবে—এটা সম্পূর্ণ ভুল। দ্বিতীয় বিয়ে বাতিল হওয়ায় এ শর্ত অপ্রাসঙ্গিক।
- আপনার দ্বিতীয় বিয়েতে যদি কোনো সাক্ষী না থাকে বা ইসলামি পদ্ধতি অনুসরণ না করা হয়, তাহলে তা আরও স্পষ্টভাবে বাতিল গণ্য হবে। প্রয়োজনে দ্বিতীয় স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদের বিষয়টি স্থানীয় ইসলামি স্কলার বা কাজীর কাছে উপস্থাপন করুন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- দ্বিতীয় স্বামী থেকে তালাকের প্রয়োজন নেই, বরং তাকে ছেড়ে ইদ্দত পালন করুন।
- প্রথম স্বামীকে ফিরে নিতে চাইলে পুনরায় নতুন বিবাহ করতে হবে, পূর্বের বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ নয়।
- প্রথম স্বামীর পূর্বের আচরণ বিবেচনায় তাকে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয়, বরং আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।